AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Bangladesh Border: ‘অপরাধী’ হয়ে আর কতদিন! অবশেষে কাঁটাতারের ওপারে এবার ভিটে দেখা হবে এই তিন নাবালিকার

Jalpaiguri: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরশুরু হতেই এই তিন নাবালিকার বাবা, মা ফের চোরা পথে বাংলাদেশ সীমান্ত পার হতে গিয়েছিলেন। দিনহাটায় গ্রেফতার হন। তাঁদের ঠাঁই হয় জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। নাবালিকাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় জলপাইগুড়ির অনুভব হোমে।

Bangladesh Border: 'অপরাধী' হয়ে আর কতদিন! অবশেষে কাঁটাতারের ওপারে এবার ভিটে দেখা হবে এই তিন নাবালিকার
Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 16, 2026 | 2:00 PM
Share

জলপাইগুড়ি: এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের শেষ নেই। কিন্তু এই এসআইআর যেন অনেকটাই আশীর্বাদ হয়ে এসেছে ওদের জীবনে। জলপাইগুড়ি অনুভব হোমের তিন নাবালিকা এখন ঘরে ফেরার অপেক্ষায়। ভারতেই জন্ম এদের, এদেশেই বেড়ে ওঠা, তবু এই দেশ তাদের নয়। বাবা-মায়ের কাছে ঘর-বাড়ি-গ্রামের গল্প শুনলেও সে সব দেখা হয়নি কোনওদিনই।

ওদের বাবা-মা অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় তাদের বাড়ি। জানা গিয়েছে, পেটের টানে আজ থেকে বছর কয়েক আগে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম ছেড়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন বেশ কয়েকজন পুরুষ ও মহিলা। এরপর তাঁরা ভারতের এক ইঁটভাটায় কাজ করে যাচ্ছিলেন। এরপর এদের মধ্যে কেউ কেউ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তারপর এই দেশেই তাঁদের সন্তানদের জন্ম হয়। অনুভব হোমের এই তিন নাবালিকাও ওই তালিকায় রয়েছে।

আরও জানা গিয়েছে, অনুপ্রবেশ আইনের ১৪ নম্বর ধারা অনুসারে ৬ বছরের উর্ধ্বে থাকা শিশুদের হোমে পাঠানো হয়েছিল। শিশুদের পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের এবং ৬ বছরের নীচে থাকা শিশুদের সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৬ জন কিশোরকে জলপাইগুড়ি কোরক হোমে এবং ৩ জন কিশোরীকে জলপাইগুড়ি শহরের অনুভব হোমে পাঠানো হয়।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরশুরু হতেই এই তিন নাবালিকার বাবা, মা ফের চোরা পথে বাংলাদেশ সীমান্ত পার হতে গিয়েছিলেন। দিনহাটায় গ্রেফতার হন। তাঁদের ঠাঁই হয় জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। নাবালিকাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় জলপাইগুড়ির অনুভব হোমে। এবার বাংলাদেশের ভোট শেষ। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতেই এবার এদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে বাংলাদেশে।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারিতে পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। এরা হোম ছেড়ে চলে যাবে, তাই মনভার জলপাইগুড়ি অনুভব হোমের সদস্যদের। তিন নাবালিকা জানিয়েছে বাবা-মার কাছ থেকে তারা জানতে পারে, তাদের বাড়ি বাংলাদেশে। এবার নিজের দেশে ফিরে তারা জীবনে প্রথমবার নিজেদের বাড়ি দেখতে পাবে, তাতে তারা খুব আনন্দিত। অনুভব হোমে পড়াশোনা, নাচ, গান সবকিছুই করছিল তারা।

হোমের ‘মেন্টাল কাউন্সিলর’ পৌলমি সূত্রধর জানিয়েছেন, তিনি কয়েকমাস ধরে এই বাচ্চাদের কাউন্সেলিং করে জেনেছেন এদের বাবা মায়েরা সকলেই অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের নথি ছিল না। তাই এসআইআর আতঙ্কে এরা বাংলাদেশ ফিরে যাচ্ছিলেন। এদের ভারতে জন্ম হলেও এদের শিক্ষা সহ কোনও কিছুরই প্রথাগত তালিম হয়নি।

হোমের কোর্ডিনেটর দীপশ্রী রায় বলেন, “আমি বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে করজোড়ে আবেদন করব, এই বাচ্চাদের পড়াশোনা সহ যাবতীয় বিষয়ে যেন সবরকম সহায়তা করা হয়। এদের বাবাদের যেন কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করা হয়, নাহলে পেটের তাগিদে এরা আবার অন্য দেশে চলে যেতে পারে।”

জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শামা পারভিন জানিয়েছেন, কিশোর ও কিশোরী মিলিয়ে মোট ৯ জনকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ, সোমবার তাদের জলপাইগুড়ি থেকে পেট্রাপোলের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। ১৭ তারিখ এদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।