Abhishek Bachchan and Aishwarya Rai Bachchan: ঐশ্বর্যের সাফল্য কি সহ্য হয় না অভিষেকের? মনের কথা বলেই ফেললেন জুনিয়ার বচ্চন
Abhishek Bachchan opened up about his Relationship: প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী তথা বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রীর স্বামী হওয়া কি সহজ? সম্প্রতি লিলি সিং-এর পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের ১৮ বছরের দাম্পত্য এবং পুরুষত্ব নিয়ে এক অন্য ধারার ব্যাখ্যা দিলেন ৫০ বছর বয়সী অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। অভিনেতা সাফ জানালেন, তাঁর ‘তীব্র অহংবোধ’-ই তাঁকে প্রথাগত লিঙ্গবৈষম্যের ঊর্ধ্বে থাকতে সাহায্য করেছে।

ঐশ্বর্য রাই বচ্চন এবং অভিষেক বচ্চনের দাম্পত্য জীবন নিয়ে অনুরাগী মহলে কৌতূহলের শেষ নেই। প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী তথা বিশ্বখ্যাত অভিনেত্রীর স্বামী হওয়া কি সহজ? সম্প্রতি লিলি সিং-এর পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের ১৮ বছরের দাম্পত্য এবং পুরুষত্ব নিয়ে এক অন্য ধারার ব্যাখ্যা দিলেন ৫০ বছর বয়সী অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। অভিনেতা সাফ জানালেন, তাঁর ‘তীব্র অহংবোধ’-ই তাঁকে প্রথাগত লিঙ্গবৈষম্যের ঊর্ধ্বে থাকতে সাহায্য করেছে।
সাধারণত দেখা যায়, স্ত্রীর সাফল্য বেশি হলে অনেক পুরুষই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। কিন্তু অভিষেকের দর্শন সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি বলেন, “আমার মধ্যে এক ধরণের তীব্র অহংবোধ কাজ করে। আমি এমন কেউ নই যে অন্যকে হারিয়ে বা কাউকে দাবিয়ে রেখে জিততে চাই। আমি বিশ্বাস করি, নিজের জয় নিজেকেই অর্জন করতে হয়।” অভিষেকের মতে, নিজের পুরুষত্ব প্রমাণ করার জন্য তাঁর স্ত্রীকে ছোট করার বা তাঁর কাজ থামিয়ে দেওয়ার কোনও প্রয়োজন তিনি কখনও অনুভব করেননি।
‘গুরু’, ‘পা’ কিংবা ‘দশভি’-র মতো ছবিতে নজরকাড়া অভিনয় করা অভিষেক গর্বের সঙ্গে জানান যে তিনি নিজের কেরিয়ার নিজের দমে তৈরি করেছেন। মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন তাঁর জন্য কখনও কোনও সিনেমা তৈরি করে দেননি। তিনি বলেন, “আমার মানসিক গঠনটাই এমন যে, আমি জেতার জন্য অন্য কাউকে দৌড় থামাতে বলি না। আমি চাই না এমন কোনও সম্পর্কে থাকতে যেখানে আমার পুরুষত্ব জাহির করার জন্য স্ত্রীকে তাঁর কাজ বলিদান দিতে হবে। ভাগ্যক্রমে ঐশ্বর্যও ঠিক আমার মতোই ভাবে।”
দাম্পত্যে সাফল্যের সমীকরণ প্রসঙ্গে নিজের বাবা-মায়ের উদাহরণ টেনে আনেন অভিষেক। তিনি জানান, “যখন আমার বাবা-মায়ের বিয়ে হয়, তখন মা (জয়া বচ্চন) বাবার চেয়ে বড় তারকা ছিলেন। তাই স্ত্রীর সাফল্য বেশি হওয়াটা আমাদের পরিবারের কাছে কোনও অস্বাভাবিক বিষয় ছিল না।”
২০০০ সালে ‘ঢাই অক্ষর প্রেম কে’ ছবির সময় থেকেই ঐশ্বর্য এবং অভিষেকের বন্ধুত্বের শুরু। অভিষেক স্মৃতিচারণ করে বলেন, “শুরুতে আমরা শুধুই ভালো বন্ধু ছিলাম। আমাদের মধ্যে কখনও প্রথাগত লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে আলোচনা হয়নি যে আমি খাবার জোগাড় করব আর তুমি ঘর সামলাবে। আমাদের সম্পর্কটা খুব স্বাভাবিকভাবেই এগিয়েছে।” প্রসঙ্গত, ঐশ্বর্যই একমাত্র অভিনেত্রী যাঁর সঙ্গে অভিষেক সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
অভিষেক বচ্চনের এই অকপট স্বীকারোক্তি বুঝিয়ে দিল যে, প্রকৃত ‘অহং’ বা আত্মসম্মান অন্যকে ছোট করার মধ্যে নয়, বরং সঙ্গীর সাফল্যকে উদযাপন করার মধ্যেই নিহিত। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর এই আধুনিক চিন্তাধারা বর্তমানে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
