AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

৯২ বছর বয়সেও যৌনতার ইচ্ছাপ্রকাশ অভিনেত্রীর, নেপথ্যে ছিল কোন কারণ?

জোহরার রসবোধ ছিল একেবারে খাঁটি এবং পরিস্থিতিভিত্তিক। দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মুহূর্তেও তাঁর মুখে এমন সব চটজলদি কৌতুক শোনা যেত, যা অনেককেই অপ্রস্তুত করে দিত। তাঁর কথাবার্তা কখনো কখনো চমকে দেওয়ার মতো হলেও, তা এক পলকে বয়স, লিঙ্গ এবং তথাকথিত সামাজিক শালীনতার চেনা ছককে ভেঙে চুরমার করে দিত।

৯২ বছর বয়সেও যৌনতার ইচ্ছাপ্রকাশ অভিনেত্রীর, নেপথ্যে ছিল কোন কারণ?
| Updated on: Jun 18, 2026 | 4:15 PM
Share

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে যিনি ‘সবার প্রিয় দিদিমা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সেই জোহরা সেহগাল আদতে কেবলই এক স্নেহময়ী ‘দাদি’ বা ‘নানি’ চরিত্রের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। নিজের বাহ্যিক রূপ নিয়ে সবসময় খুব একটা সন্তুষ্ট না থাকলেও, নিজের রসবোধ নিয়ে অসম্ভব গর্ব করতেন জোহরা— আর তাঁর এই গুণেরই ভক্ত ছিলেন আপামর অনুরাগী।

থিয়েটার এবং নৃত্যের জগতে তাঁর কাজ ছড়িয়ে ছিল বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশে। দশকের পর দশক ধরে এই শিল্পই তাঁকে এনে দিয়েছিল খ্যাতি ও প্রতিপত্তি। তবে যাঁরা তাঁর সাথে কাজ করেছেন, তাঁদের মনে জোহরার যে ছবিটা সবচেয়ে উজ্জ্বল, তা হলো তাঁর ক্ষুরধার, সাহসী এবং আপসহীন রসবোধ।

১০১ বছর বয়সে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জোহরা খোলাখুলি বলেছিলেন, “রসবোধ আর যৌনতা! জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যৌনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; আমি এখনও এটা চাই!”

জোহরার রসবোধ ছিল একেবারে খাঁটি এবং পরিস্থিতিভিত্তিক। দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মুহূর্তেও তাঁর মুখে এমন সব চটজলদি কৌতুক শোনা যেত, যা অনেককেই অপ্রস্তুত করে দিত। তাঁর কথাবার্তা কখনো কখনো চমকে দেওয়ার মতো হলেও, তা এক পলকে বয়স, লিঙ্গ এবং তথাকথিত সামাজিক শালীনতার চেনা ছককে ভেঙে চুরমার করে দিত।

তাঁর মেয়ে কিরণ সেহগাল স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে জানান, কোনো অপ্রস্তুত পরিস্থিতিই তাঁর মাকে লজ্জিত করতে পারত না। এমনকি নিজেকে নিয়েও কৌতুক করতে ছাড়তেন না তিনি। একবার একটি মেডিকেল স্ক্যান করার পর জোহরা রসিকতা করে বলেছিলেন, তিনি অন্তসত্ত্বা নন!

Zohra

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দিল্লির ‘অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার’-এ আয়োজিত ‘ঘর কি মুর্গি ডাল বারবার’ অনুষ্ঠানে কিরণ তাঁর মায়ের এই মজার গল্পটি শেয়ার করেন। তিনি জানান, সিটি স্ক্যান (CT scan) শেষ হওয়ার ঠিক পরেই জোহরা বলে উঠেছিলেন, “ভগবানকে ধন্যবাদ, আমি প্রেগন্যান্ট নই!”

১৯১২ সালের ২৭ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরে এক ঐতিহ্যবাহী সুন্নি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন জোহরা। তাঁর আসল নাম ছিল সাহেবজাদি জোহরা বেগম মমতাজ-উল্লাহ খান। থিয়েটার, নৃত্য এবং সিনেমা— এই তিন মাধ্যমেই প্রায় সাত দশক ধরে দাপটের সাথে কাজ করে তিনি ভারতের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

২০১৪ সালের ১০ জুলাই নয়া দিল্লিতে ১০২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। জোহরার জীবনকে স্মরণ করতে গিয়ে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান পর্দার বাইরের সেই প্রাণোচ্ছল মানুষটিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন। নিজের টুইট-বার্তায় শাহরুখ লিখেছিলেন, “স্মিত হাসিতে ভরা লক্ষ মাইলের এক দীর্ঘ যাত্রা… একশো বছর পার করার পরেও, ওঁর চেয়ে দুষ্টু ও প্রাণবন্ত তরুণী আমি আজও দেখিনি।”

Follow Us