অতি আত্মবিশ্বাসে ডুবেই কি চুরমার আমির খানের স্বপ্ন? কান্নায় ভেঙে পড়লেন অভিনেতা
সেই বিগ বাজেট সিনেমার ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসছিল আমিরের। তিনি জানান, প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবি নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। ভেবেছিলেন ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা করা তো জলভাত! কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে দর্শক কম আসাতেই সেই স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। অভিনেতার কথায়, "আমি নিজের ওপর বড্ড বেশি ভরসা করে ফেলেছিলাম।

সাফল্যের শিখরে থাকলে পতন যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন আমির খান। নিজের সাধের প্রজেক্ট মুখ থুবড়ে পড়ার পর সেই ক্ষত যে আজও যে ভোলেননি অভিনেতা, তা বোঝা গেল মেলবোর্নের ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে (IFFM)। হারের গ্লানি আর একরাশ হতাশা নিয়ে ক্যামেরার সামনেই প্রায় ডুকরে কেঁদে উঠলেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’। অকপটে স্বীকার করলেন, লাগাতার হিটের জোয়ারে তিনি এতটাই ‘ওভারকনফিডেন্ট’ হয়ে গিয়েছিলেন যে বাস্তবটাই বুঝতে পারেননি।
সেই বিগ বাজেট সিনেমার ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসছিল আমিরের। তিনি জানান, প্রায় ২০০ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবি নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। ভেবেছিলেন ৩০০ কোটি টাকার ব্যবসা করা তো জলভাত! কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে দর্শক কম আসাতেই সেই স্বপ্ন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। অভিনেতার কথায়, “আমি নিজের ওপর বড্ড বেশি ভরসা করে ফেলেছিলাম। প্রোডাকশন টিমের সঙ্গে বসে ভাবা উচিত ছিল যে এটা কোনও সাধারণ বাণিজ্যিক ছবি নয়। আমরা যদি নিম্নসীমাটা ধরে চলতাম, তবে হয়তো এই হাল হত না।”
২০১৮ সালে ‘ঠগস অফ হিন্দুস্তান’ ফ্লপ করলেও আমির অবাক হননি, কারণ ছবিটি তাঁর নিজেরই খুব একটা পছন্দ ছিল না। কিন্তু ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছিল তাঁর ভীষণ কাছের ছবি। এক সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে আমির বলেন, “ছবিটা যখন চলল না, আমি ভেতর থেকে শেষ হয়ে গিয়েছিলাম। গভীর শোক আর বিষণ্ণতা আমায় গ্রাস করেছিল। মনে হচ্ছিল যেন নিজের সন্তানকে হারিয়ে ফেলেছি।”
ব্যর্থতার এই সময় অভিনেতার পাশে ছিলেন তাঁর পরিবার। জীবনের কঠিনতম সময়ে মা জিনাত হোসেন, দুই বোন নিখাত ও ফারহাত এবং সন্তানদের পাশাপাশি দুই প্রাক্তন স্ত্রী রীনা ও কিরণকেও পাশে পেয়েছেন তিনি। ক্রমাগত ফোন আর পরিবারের লোকজনের যাতায়াত তাঁকে এক মুহূর্তের জন্য একাকিত্বে ডুবতে দেয়নি।
খানিকটা মজার ছলেই আমির বলেন, “আগে জীবনে কখনও এত কদর পাইনি! আমার পরিবারের সবাই যেভাবে আমায় আগলে রেখেছিল, তাতে মনে হচ্ছে এত ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আরও দু-তিনটে সিনেমা ফ্লপ করালেও মন্দ হতো না।” পরিবারের এই নিবিড় সান্নিধ্যই যে তাঁকে মানসিক বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেছে, তা স্পষ্ট।
বিখ্যাত হলিউড ক্লাসিক ‘ফরেস্ট গাম্প’-এর অফিশিয়াল রিমেক হিসেবে তৈরি হওয়া এই ছবি নিয়ে উন্মাদনা থাকলেও বিশ্বজুড়ে এটি মাত্র ১৩০ কোটি টাকার ব্যবসা করতে পেরেছিল। প্রেক্ষাগৃহে মুখ থুবড়ে পড়লেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে আসার পর অবশ্য ছবিটি নিয়ে চর্চা শুরু হয় এবং দর্শক মহলে সমাদৃত হয়।
