AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

ভরা মঞ্চে নীল নীতিন মুকেশকে অপমান শাহরুখের ! ঠিক কী ঘটে?

বীর দাসের মতে, মঞ্চে যা ঘটেছিল তা নিছক মজা হলেও, টিভির কারসাজি নাটকের পরিবেশ তৈরি করেছিল । তিনি ব্যাখ্যা করেন, “অনুষ্ঠানটি যখন টিভিতে সম্প্রচারিত হল, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব সিরিয়াস এবং ড্রামাটিক মিউজিক জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এডিট করা হয়েছিল ঠিক একটি হিন্দি মেগা সিরিয়ালের কায়দায়।

ভরা মঞ্চে নীল নীতিন মুকেশকে অপমান শাহরুখের ! ঠিক কী ঘটে?
Image Credit: wikipedia
| Updated on: Mar 17, 2026 | 6:35 PM
Share

২০০৯ সালের সেই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের রাতটার কথা মনে আছে? যেখানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে শাহরুখ খান সপাটে পদবি নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন নীল নীতিন মুকেশকে। আর তার উত্তরে প্রকাশ্যেই কিং খানকে ‘শাট আপ’ বলে চুপ করিয়ে দিয়েছিলেন নীল। সেই ভিডিয়ো আজও সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝেমধ্যেই ভাইরাল হয়। নেটিজেনদের একটা বড় অংশ ভাবতেন, শাহরুখের রসিকতায় বোধহয় সত্যিই রেগে আগুন হয়েছিলেন নীল। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ বছর পর সেই ‘বিস্ফোরক’ মুহূর্তের নেপথ্যের আসল সত্য সামনে আনলেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান ও অভিনেতা বীর দাস।

আসল ঘটনাটি কী ছিল?

সম্প্রতি ২০২৬-এর অস্কার মিটতেই বীর দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি আলোচনা করছিলেন কেন ভারতে রিকি জারভেস বা কোনান ও’ব্রায়েনের মতো কমেডিয়ানরা বড় অ্যাওয়ার্ড শো হোস্ট করেন না। সেখানেই এক নেটিজেন পুরনো সেই কাসুন্দি ঘেঁটে নীল নীতিন মুকেশের ‘তেড়ে আসা’র প্রসঙ্গটি তোলেন। জবাবে বীর দাস যা জানালেন, তাতে অনেকেরই চোখ কপালে উঠেছে। বীর স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওই পুরো বিষয়টিই ছিল চিত্রনাট্যের অংশ অর্থাৎ আগে থেকেই বিষয়টি ঠিক করে রাখা হয়েছিল!

বীর দাস জানিয়েছেন, সেই সময় তিনি নিজেই ওই অনুষ্ঠানের স্ক্রিপ্ট রাইটিং টিমের সদস্য ছিলেন। তিনি লেখেন, “মজার তথ্য হল, ওই অংশটা আমরাই লিখেছিলাম। ওটা স্রেফ একটা হিউমার হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। নীল নিজেও জানতেন কী হতে চলেছে এবং তিনি দারুণ স্পোর্টিংলি সেটা মেনে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ গোটাটাই ছিল প্ল্যান করা।”

কেন মানুষ একে সত্যি ভেবেছিল?

বীর দাসের মতে, মঞ্চে যা ঘটেছিল তা নিছক মজা হলেও, টিভির কারসাজি নাটকের পরিবেশ তৈরি করেছিল । তিনি ব্যাখ্যা করেন, “অনুষ্ঠানটি যখন টিভিতে সম্প্রচারিত হল, তখন ব্যাকগ্রাউন্ডে খুব সিরিয়াস এবং ড্রামাটিক মিউজিক জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এডিট করা হয়েছিল ঠিক একটি হিন্দি মেগা সিরিয়ালের কায়দায়। ফলে সাধারণ দর্শক ভেবে নিয়েছিলেন যে নীল সত্যিই চটে গিয়েছেন। আদতে স্রেফ এডিটিংয়ের জোরেই সাধারণ রসিকতা ‘ঝগড়া’র রূপ পায়।”

এই প্রসঙ্গে ভারতের অ্যাওয়ার্ড শো-র সংস্কৃতি নিয়েও সরব হয়েছেন বীর। তাঁর মতে, ভারতে বড় তারকাদের নিয়ে রোস্ট করা বা রসিকতা করা বেশ কঠিন কাজ। কারণ এখানে তারকাদের ‘ইগো’ অনেক সময় হাস্যকৌতুকের রাস্তায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বীরের কথায়, “একজন কমেডিয়ানের কাজ হল সেলিব্রিটিদের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু আমাদের দেশে বড় তারকাদের নিয়ে রসিকতা করতে গেলে ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রশ্ন চলে আসে।”

উল্লেখ্য, সেই ২০০৯ সালের ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসে শাহরুখ হাসতে হাসতে বলেছিলেন, “নীল, নীতিন, মুকেশ—তিনটেই তো নাম, পদবি কোথায় ভাই?” উত্তরে নীল বলেছিলেন, “আপনি আমাকে অপমান করছেন। আমার বাবা এখানে বসে আছেন, আপনাদের এবার চুপ করা উচিত (শাট আপ)।” সেদিনের সেই রাগী নীল যে আসলে চমৎকার অভিনয় করছিলেন, তা আজ পরিষ্কার।

Follow Us