আপত্তি সত্ত্বেও ‘বর্ডার ২’ -তে গান গাইতে বাধ্য করা হয় অরিজিৎকে? দাবি ঘিরে শোরগোল বলিউডে
বলিউডের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। দাবি করা হচ্ছে, ‘বর্ডার ২’ ছবিতে কালজয়ী গান ‘ঘর কব আওগে’-র রিমেক সংস্করণে কণ্ঠ দিতে একেবারেই রাজি ছিলেন না অরিজিৎ। সৃজনশীলতার নিরিখে গানটি নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তি ছিল।

অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক থেকে ‘সন্ন্যাস’ কি নিছকই একঘেয়েমি, না কি এর গভীরে লুকিয়ে আছে বলিউডের অন্ধকার কোনো সমীকরণ? গায়কের অবসরের ঘোষণার পর থেকেই অনুরাগীদের মনে দানা বাঁধছিল হাজারো প্রশ্ন। এবার সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল সানি দেওল অভিনীত আসন্ন ছবি ‘বর্ডার ২’ এবং তার প্রযোজক ভূষণ কুমারের নাম।
বলিউডের অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। দাবি করা হচ্ছে, ‘বর্ডার ২’ ছবিতে কালজয়ী গান ‘ঘর কব আওগে’-র রিমেক সংস্করণে কণ্ঠ দিতে একেবারেই রাজি ছিলেন না অরিজিৎ। সৃজনশীলতার নিরিখে গানটি নিয়ে তাঁর প্রবল আপত্তি ছিল। বিশেষ করে, একটি দেশাত্মবোধক আইকনিক গানের রিমেক কেন হবে— সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, প্রভাবশালী প্রযোজনা সংস্থার চাপে শেষ পর্যন্ত গানটি গাইতে ‘বাধ্য’ করা হয় তাঁকে। এই ঘটনার পরেই নাকি বীতশ্রদ্ধ হয়ে চিরতরে প্লেব্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন অরিজিৎ। অন্তত বলিউডের জল্পনা সেটাই বলছে।
এই বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন টি-সিরিজের কর্ণধার ভূষণ কুমার। যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানান, “এসবই ভিত্তিহীন এবং ফালতু কথা। বিশ্বাস না হলে অরিজিৎকে ফোন করেই জেনে নিন।” উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ‘বর্ডার’ ছবির এই জনপ্রিয় গানটি এবার নতুনভাবে গেয়েছেন সোনু নিগম, রূপকুমার রাঠৌর, বিশাল মিশ্র এবং অরিজিৎ নিজে। প্রযোজকের দাবি, অরিজিতের সাথে কোনো জোরজবরদস্তি করা হয়নি।
ভূষণ কুমার অস্বীকার করলেও গুঞ্জন থামছে না। ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশের মতে, বড় বড় মিউজিক লেবেল এবং প্রযোজনা সংস্থাগুলির একাধিপত্য আর সহ্য করতে পারছিলেন না অরিজিৎ। শিল্পীসত্তার চেয়ে ব্যবসায়িক মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার এই সংস্কৃতিতে তিনি দমবন্ধ বোধ করছিলেন। নিজের সৃজনশীল স্বাধীনতা খর্ব হওয়াটাই সম্ভবত তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অরিজিৎ নিজে সরাসরি কোনো বিতর্কে জড়াননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আগে থেকে নেওয়া কাজগুলো শেষ করে তিনি নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেবেন সিনেমার জগত থেকে। বড় প্রযোজনা সংস্থার ‘দখলদারি’ থেকে মুক্তি পেয়ে এবার তিনি মন দেবেন স্বাধীন সঙ্গীতে। বলিউডের এই ‘মেলোডি কিং’ কি সত্যিই রাজনীতির শিকার, না কি নিজের শর্তে বাঁচতেই এই রাজকীয় প্রস্থান— সেই রহস্যের সমাধান হয়তো সময়ই দেবে।
