Amiyaranjan Bandyopadhyay Death: গুরুপূর্ণিমার পূণ্যতিথিতে প্রয়াত পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
Pandit Amiyaranjan Bandyopadhyay: গুরুপূর্ণিমার পূণ্যতিথিতেই চিরবিদায় নিলেন বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রবীণতম প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতগুরু পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই TV9 Bangla নক্ষত্র সম্মান-এ 'লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট' পুরষ্কারে সম্মানিত হওয়া এই সুরসাধকের প্রয়াণে স্তব্ধ পুরো সাংস্কৃতিক জগৎ।

গুরুপূর্ণিমার পূণ্যতিথি, শিষ্যাদের ঢল নামার কথা ছিল গুরুর চরণে। কিন্তু দিনটাই বদলে গেল গভীর এক বিষাদে। শতায়ু ছুঁয়ে চিরকালের মতো সুরের জগৎ থেকে বিদায় নিলেন বিষ্ণুপুর ঘরানার প্রবীণতম প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠসঙ্গীতশিল্পী পণ্ডিত অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শতায়ু প্রবাদপ্রতীম শিল্পী। কিছুদিন আগে জীবনের ঠিক ১০০টি বসন্ত পেরিয়ে তাঁর এই চলে যাওয়া যেন বাংলা তথা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটা বিশাল অধ্যায়ের অবসান ঘটাল। ভারতীয় সঙ্গীতজগতে অভূতপূর্ব অবদানের জন্য এই বছর ‘টিভি৯ বাংলা নক্ষত্র সম্মান’ অনুষ্ঠানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছিল ‘জীবনকৃতি সম্মান’ (Lifetime Achievement) পুরষ্কারে।
চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিনে ১০০ বছরে পা দিয়েছিলেন তিনি। শতবর্ষ ছোঁয়ার পরও, গলায় বা রেওয়াজে এতটুকু মরচে পড়তে দেননি তিনি। গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে নিজের শতবর্ষ উদযাপনের দিনটিতেও টানা ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে বেহাগ রাগ গেয়ে চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে। টিভি নাইন বাংলাকে ছেলে শান্তনু জানান, ‘প্রথমে হিপ বোন ভেঙেছিল। অপারেশন হয়। বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তারপর আবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বেশ কয়েক দিন এসএসকেএম-এ ছিলেন। আজ দুপুর আড়াইটের সময়ে হার্ট অ্যাটাক হয়।’’
১৯২৭ সালে কলকাতার টেগোর ক্যাসেল স্ট্রিটে জন্ম অমিয়রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বিষ্ণুপুর ঘরানার বিখ্যাত শিল্পী পণ্ডিত সত্যকিঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য সন্তান ছিলেন তিনি। বাবার কাছেই সঙ্গীতের শক্ত ভিত গড়ে ওঠে। পরবর্তীকালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এবং শ্রীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দিকপালদের কাছেও তালিম পেয়েছেন। তবে ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েও ঘরানার অন্ধ অনুকরণে নিজেকে বেঁধে রাখেননি তিনি। আমির খান ও তারাপদ চক্রবর্তী ছিলেন তাঁর প্রিয় শিল্পী। শুধু তানের আড়ম্বর নয়, সুর ও শব্দকে আত্মস্থ করে পরিবেশন করাই ছিল তাঁর গানের প্রাণ।
সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি শিক্ষাবিদও ছিলেন তিনি। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করার পাশাপাশি সুরের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে পিএইচডি করেছিলেন। অজস্র ছাত্রছাত্রীকে গান শিখিয়ে গড়ে তুলেছেন পরম মমতায়। তাঁর সুযোগ্য পুত্র পণ্ডিত শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ও বর্তমানে এই ঐতিহ্য বহন করে চলছেন। এক শতকের সাধনা শেষে গুরুর এই প্রয়াণে স্তব্ধ আজ পুরো সঙ্গীতমহল।
