Dharmendra and Suchitra Sen: গাড়ি চালাচ্ছেন ধর্মেন্দ্র, পাশের সিটে সুচিত্রা, দার্জিলিঙে এমন কী ঘটেছিল যা সারাজীবন মনে রেখেছিলেন ধরমজি?
Suchitra Sen and Dharmendra darjeeling: পরিচালক অসিত সেনের ১৯৬৩ সালের সুপারহিট বাংলা ছবি ‘উত্তর ফাল্গুনী’র হিন্দি রূপান্তর ছিল ‘মমতা’। শুরুতে এই হিন্দি রিমেকের জন্য মীনা কুমারীর কথা ভাবা হলেও, পরবর্তীতে সুচিত্রা সেন কাজটিতে সম্মতি জানান। শোনা যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাহিনি এবং নির্দেশক অসিত সেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি।

ছয়ের দশকের বাংলা ও ভারতীয় চলচ্চিত্রের আঙিনায় তখন সুচিত্রা সেনের একচ্ছত্র রাজত্ব। রূপ, অভিনয় আর ব্যক্তিত্বের অনন্য জাদুতে যিনি মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন লাখ লাখ অনুরাগীকে। সেই একই জাদুতে বিমোহিত হয়ে পড়েছিলেন বলিউডের তরুণ তুর্কি ধর্মেন্দ্রও। সম্প্রতি প্রবীণ এই বলিউড অভিনেতার প্রয়াণের পর রুপোলি পর্দার সেই পুরনো সোনালী অধ্যায়গুলো যেন ফের জীবন্ত হয়ে উঠেছে স্মৃতির ফ্রেমে। উঠে আসছে ১৯৬৬ সালের কালজয়ী ছবি ‘মমতা’ এবং মহানায়িকার সঙ্গে তাঁর রসায়নের অমলিন রূপকথা।
পরিচালক অসিত সেনের ১৯৬৩ সালের সুপারহিট বাংলা ছবি ‘উত্তর ফাল্গুনী’র হিন্দি রূপান্তর ছিল ‘মমতা’। শুরুতে এই হিন্দি রিমেকের জন্য মীনা কুমারীর কথা ভাবা হলেও, পরবর্তীতে সুচিত্রা সেন কাজটিতে সম্মতি জানান। শোনা যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাহিনি এবং নির্দেশক অসিত সেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকেই এই প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। আর ছবিতে শান্ত, মার্জিত তরুণ ব্যারিস্টার ইন্দ্রনীলের চরিত্রে সুচিত্রার বিপরীত অভিনয় করার সুযোগ পান উদীয়মান তারকা ধর্মেন্দ্র।
কলকাতার নিউ থিয়েটার্স ও দার্জিলিংয়ের মনোরম পাহাড়ে হয়েছিল ‘মমতা’র শুটিং। সেই স্মৃতিচারণ করে এক সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্র জানিয়েছিলেন, শুটিংয়ের দিনগুলো ছিল একদম জাদুকরী। বিশেষ করে দার্জিলিংয়ের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “মাঝে মাঝেই গাড়ি চালিয়ে সুচিত্রা সেন ও তাঁর বোনকে নিয়ে ঘুরতে বেরোতাম। একদিন স্টিয়ারিং আমার হাতে, আর পাশে বসে স্বয়ং সুচিত্রা দেবী… সেই মুহূর্তটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা উপহার। মনে হতো যেন স্বপ্নের মধ্যে আছি।”
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সুচিত্রার খ্যাতি তখন তুঙ্গে। তাঁর মতো একজন কিংবদন্তি শিল্পীর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করাটা ধর্মেন্দ্রর কাছে ছিল কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অভিজ্ঞতা। পরবর্তীতে সুচিত্রার সঙ্গে আরও কাজ করার তীব্র ইচ্ছে থাকলেও, হিন্দি সিনেমা সম্পর্কে মহানায়িকার অনিচ্ছার কারণে সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি।
সংগীত পরিচালক রোশন এবং গীতিকার মজরুহ সুলতানপুরীর সুরে ‘মমতা’ ছবির গানগুলো আজও কালজয়ী। লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠের ‘রহে না রহে হাম’ কিংবা হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও লতা মঙ্গেশকরের কালজয়ী দ্বৈত গান ‘ছুপা লো ইউঁ দিল মে প্যায়ার মেরা’—উত্তম-সুচিত্রা যুগের পাশাপাশি ধর্মেন্দ্র-সুচিত্রার এই বিরল কেমিস্ট্রিকে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরস্থায়ী করে রেখেছে।
