
রুপোলি পর্দায় এখন কেবলই মারপিট আর দাপটের দেখা মেলে। যে হিরো যত বেশি রাগী, বক্স অফিসে তার দর ততটাই বেশি। কিন্তু পর্দার এই গায়ের জোর কি সত্যিই বীরত্ব? কামব্যাক করার আগেই এই প্রশ্ন তুলে বলিউডকে রীতিমতো প্রশ্নের মুখে ফেললেল অভিনেতা ইমরান খান। তাঁর কথায়, এখনকার সিনেমায় হিরোদের যেভাবে ‘আলফা মেল’ সাজানো হয়, তাঁরা আদতে দায়িত্বজ্ঞানহীন ‘ম্যান-চাইল্ড’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
সম্প্রতি ভক্তদের সঙ্গে এক আড্ডায় ইমরান নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর মতে, পর্দায় এখন যাঁদের আমরা ‘হিরো’ হিসেবে দেখছি, তারা মানসিকভাবে একেবারেই অপরিপক্ক। ইমরান বলেন, “আমি লক্ষ্য করেছি, আমাদের সিনেমাগুলো এমন সব চরিত্রের প্রশংসা করছে, যাঁরা কোনও নারীর থেকে প্রত্যাখ্যাত হলে ছোট বাচ্চাদের মতো জেদ ধরে বসে থাকে কিংবা হিংস্র হয়ে ওঠে। পর্দায় হিংস্রতা দেখানো এক বিষয়, আর সেই খারাপ আচরণকে ‘হিরোইজম’ বলে চালানো সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার।”
ইমরানের দাবি, এখনকার বড় বাজেটের ছবিগুলো থেকে দয়া, মায়া বা একে অপরের প্রতি সম্মানের মতো মানবিক গুণগুলো একেবারেই হারিয়ে গিয়েছে। সবাই কেবল পেশি আর গলার জোর দেখাতে ব্যস্ত। ইমরান মনে করেন, আসল শক্তি গায়ের জোরে নেই, বরং নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারা আর অন্যের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার মধ্যেই প্রকৃত পৌরুষ লুকিয়ে আছে। স্রেফ ট্রেন্ডের পেছনে ছুটে তিনি এমন কোনও ‘বিষাক্ত’ চরিত্রের অংশ হতে রাজি নন।
তবে ভক্তদের জন্য খুশির খবর হল, খুব শীঘ্রই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে ফিরছেন তিনি। ছবির নাম ‘অধুরে হাম অধুরে তুম’। ইমরান জানিয়েছেন, এই ছবিতে তিনি কোনও উগ্র হিরো নন, বরং এক সংবেদনশীল মানুষের গল্প বলবেন। বলিউডের এই মারকাটারি জমানায় ইমরানের এই উল্টো পথে হাঁটা চরিত্র বেছে নেওয়া দর্শকদের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে, এখন সেটাই দেখার।