Utshav Mukherjee: কেন নিরুদ্দেশ হন? ফিরে এসে ‘নরক’ যন্ত্রণার কথা জানালেন উৎসব
Cyber Attack: এই কঠিন সময়ে স্ত্রী মৌপিয়া সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন এবং তাঁকে মানসিকভাবে সুস্থ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মৌপিয়াকে বিয়ের পর তাঁর জীবনে সুখের জোয়ার এলেও, সেই শান্তি স্থায়ী হয়নি। নতুন করে জীবন শুরু করার সময়েই আবারও শুরু হয় সাইবার আক্রমণ। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করেও মেলেনি সমাধান।

টানা ২৪ দিনের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে কিছুদিন আগেই খোঁজ মেলে পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়ের। গত ২ এপ্রিল থেকে হঠাৎ করেই বেপাত্তা হয়ে গিয়েছিলেন টলিউড পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায়। তাঁকে ঘিরে দানা বেঁধেছিল রহস্য। অবশেষে দিল্লি থেকে উদ্ধার হওয়ার পর কলকাতায় ফিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে নিজের নীরবতা ভাঙলেন পরিচালক। আগেই জানিয়েছিলেন তিনি সুস্থ আছেন। এবার জানালেন, কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তিনি ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।
তিনি জানিয়েছেন, ২০১৯-২০২০ সাল থেকে তিনি এক সাংঘাতিক সাইবার অ্যাটাকের শিকার। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে তোলা ছবি নিয়ে বিকৃত করা থেকে শুরু করে ক্রমাগত কদর্য কমেন্টের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। উৎসবের দাবি, বারবার সাইবার অ্যাটাকের ফলে ধীরে ধীরে সহকর্মীরা তাঁর থেকে দূরে যেতে শুরু করেন এবং অনেকেই তাঁকে অবিশ্বাস করতে শুরু করেন। বারবার পাসওয়ার্ড বদলালেও কোনও সুরাহা হয়নি। এর ফলে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং পার্টি বা বন্ধুদের সঙ্গ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকেন। এভাবেই বছরের পর বছর চলতে থাকে তাঁর জীবন।
তবে গত বছর উৎসবের জীবনে আসে বড় শোকের ছায়া। পরিচালকের কথায়, “গত বছর মাত্র সাড়ে চারমাসের মধ্যে আমি আমার বাবা এবং মা কে হারাই। আমার মা যখন গত বছর টাটা মেডিক্যাল কলেজে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন, সেই সময়তেও আমি বারবার সাইবার অ্যাটাকের শিকার হই। আমার বাবা মারা যান সেপ্টেম্বরে, এবং তার এক দু’দিন পর থেকেই আবার শুরু হয় অ্যাটাক, এবং এই অ্যাটাক ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, আইএমডিবি পেজ বিভিন্ন জায়গায় আমাকে আক্রমণ করা হয়। বার বার আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়।”
এই কঠিন সময়ে স্ত্রী মৌপিয়া সবসময় তাঁর পাশে ছিলেন এবং তাঁকে মানসিকভাবে সুস্থ করতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মৌপিয়াকে বিয়ের পর তাঁর জীবনে সুখের জোয়ার এলেও, সেই শান্তি স্থায়ী হয়নি। নতুন করে জীবন শুরু করার সময়েই আবারও শুরু হয় সাইবার আক্রমণ। বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করেও মেলেনি সমাধান।
উৎসব জানিয়েছেন, “বিয়ের পর এই ঘটনা আরও বাড়তে থাকে, এবং সব থেকে বড় ব্যাপার এবার আক্রমণ আমার থেকে ঘুরে আমার স্ত্রীর দিকে যেতে থাকে। একের এক মিথ্যে কদর্য আক্রমণের শিকার হন মৌপিয়া।” এমনকি উৎসবের ঘনিষ্ঠ অনেকেই এই আক্রমণের শিকার হন। পুলিশের দ্বারস্থ হলেও স্ত্রীর প্রতি হওয়া অপমান সহ্য করতে পারছিলেন না পরিচালক। নিজেকে দায়ী মনে করে এক ভয়াবহ মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়ায় ভয়াবহ থ্রেট পাই যে আমাদের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া হবে, সেই থ্রেট কখনও ক্রিপটিক কখনও আরও মারাত্মক।” উৎসব বলেন, এই ঘটনার পিছনে কে দায়ী তা তাঁরা জানেন, তবে এটি একা একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিচালক। প্রথমে কারও সঙ্গে না থাকলেও পরে দিল্লিতে বন্ধুর কাছে পৌঁছালে তাঁর স্ত্রী খবর পান। উৎসব জানিয়েছেন, যে ঘটনা তিনি ঘটিয়েছেন তা ঠিক হয়নি এবং তিনি এখন তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে থেকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান। সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং যে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি থেকে সমস্যা হচ্ছিল তা বন্ধ করা গিয়েছে। আপাতত ব্যক্তিগত শান্তি নিয়ে ভাবছেন তাঁরা এবং যারা তাঁর জন্য দুশ্চিন্তা করেছিলেন তাঁদের সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন পরিচালক।
