মঞ্চে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ববি, ধর্মেন্দ্রর শেষ দিনগুলোয় কী ঘটেছিল?
স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ববি জানান, ধর্মেন্দ্র সবসময় হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসতেন। ববির কথায়, "বাবা বিশ্বাস করতেন ঈশ্বর আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন। তিনি বলতেন, প্রত্যেকের মধ্যেই এক অনন্য প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে যে কোনও কিছু অর্জন করা সম্ভব।"

পুরস্কার মঞ্চে আলো ঝলমলে পরিবেশ। চারদিকে মুহুর্মুহু করতালির শব্দ। কিন্তু ববি দেওলের কানে তখন যেন অন্য কোনও সুর বাজছে। সামনে রাখা বাবার আজীবন সম্মাননা স্মারক বা ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ হাতে নিয়েই গলা ধরে এল অভিনেতার। চোখের জল আর বাধা মানে নি। গত বছরের নভেম্বর মাসে চিরঘুমে চলে গিয়েছেন বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র। সোমবার রাতে বাবার হয়ে সেই সম্মানের ট্রফি নিতে গিয়ে মঞ্চেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন ববি। উপস্থিত দর্শকদের চোখেও তখন জল।
ববি যখন মঞ্চে ভাষণ দিতে ওঠেন, তখন তাঁর স্মৃতিতে ভিড় করে আসছিল বাবার অসংখ্য মুহূর্ত। তিনি বলেন, “আপনাদের সবার চোখের দিকে তাকালে আমি আমার বাবার ভালোবাসা দেখতে পাই। তিনি শুধু অভিনয়ের মাধ্যমেই নয়, জীবনের শেষ দিনগুলিতে তাঁর ইনস্টাগ্রাম রিলস দিয়েও আপনাদের মন জয় করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়াটা ছিল বাবার নতুন শখ।” উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর মুম্বইয়ের বাসভবনে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা ও শ্বাসকষ্টের কারণে দীর্ঘদিন ভুগেছিলেন তিনি। সেই কষ্টের দিনগুলো পার করে আজ যখন তাঁর মুকুটে আরও এক পালক জুড়ল তখন তিনি আর নেই।
স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে ববি জানান, ধর্মেন্দ্র সবসময় হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসতেন। ববির কথায়, “বাবা বিশ্বাস করতেন ঈশ্বর আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন। তিনি বলতেন, প্রত্যেকের মধ্যেই এক অনন্য প্রতিভা লুকিয়ে থাকে। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখলে যে কোনও কিছু অর্জন করা সম্ভব।” মঞ্চে দাঁড়িয়ে ববি বলেন, “আজ এখান থেকে বাড়ি ফিরে খুব ইচ্ছে করছে বাবাকে গিয়ে বলি— পাপা, তুমি তো আসতে পারলে না, দেখো তোমার হয়ে আমি ট্রফিটা নিয়ে এসেছি। কখনও ভাবিনি এই দিনটা আমাকে এভাবে দেখতে হবে।”
সত্তরের দশকের অমর সৃষ্টি ‘শোলে’ হোক বা ‘সীতা অউর গীতা’— ধর্মেন্দ্র সবেতেই সেরা। ছ’দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সিনেমার দর্শকদের বুঁদ করে রেখেছিলেন তিনি। তাঁর শেষ কাজ শ্রীরাম রাঘবনের ‘ইক্কিস’। এই বায়োপিকটি মুক্তি পেয়েছে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি, অর্থাৎ ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পরে। রুপালি পর্দায় প্রিয় নায়ককে শেষবারের মতো দেখার সেই মুহূর্ত আজও অনুরাগীদের মনে টাটকা। ববি এদিন মনে করিয়ে দিলেন, মানুষ হিসেবে ধর্মেন্দ্রর বড় প্রাপ্তি ছিল এই অগাধ ভালোবাসা, যা আজ তাঁর অনুপস্থিতিতেও ফুরিয়ে যায়নি।
