অভিনয় ছেড়ে ছেলের স্কুলের সামনে সবজি বিক্রি! এই অভিনেতার কথা শুনলে চোখে জল আসবে
সবই চলছিল ঠিকঠাক। কিন্তু করোনার সময় হঠাৎই অভিনয়ের দুনিয়া থেকে বিরতি নিয়ে জৈব চাষের (Organic Farming) দিকে ঝুঁকেছিলেন রাজেশ। বিহারে প্রায় ২০ একর জমি লিজ নিয়ে শুরু করেছিলেন বড়সড় প্রজেক্ট। কিন্তু বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখেছিলেন। ভয়াবহ বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় ১৫ হাজারেরও বেশি চারাগাছ। মুহূর্তের মধ্যে সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়।

টিভি পর্দার সেই আদুরে ‘রোশেশ ভাই’ ওরফে রাজেশ কুমারকে মনে আছে? যার কবিতা শুনে হেসে লুটোপুটি খেত দর্শক? পর্দার সেই হাসিখুশি অভিনেতা বাস্তব জীবনে যে এমন এক ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। চাষবাস করতে গিয়ে ২ কোটি টাকার ঋণের বোঝা, পকেটে মাত্র আড়াই হাজার টাকা নিয়ে ঘোর দুর্দিন দেখেছেন তিনি। এমনকি নিজের ছেলের স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে সবজি পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে তাঁকে। তবে হার মানেননি রাজেশ। সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় এবং সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা।
চাষ করতে গিয়েই সর্বনাশ?
সবই চলছিল ঠিকঠাক। কিন্তু করোনার সময় হঠাৎই অভিনয়ের দুনিয়া থেকে বিরতি নিয়ে জৈব চাষের (Organic Farming) দিকে ঝুঁকেছিলেন রাজেশ। বিহারে প্রায় ২০ একর জমি লিজ নিয়ে শুরু করেছিলেন বড়সড় প্রজেক্ট। কিন্তু বিধাতা হয়তো অন্য কিছু লিখেছিলেন। ভয়াবহ বন্যায় নষ্ট হয়ে যায় ১৫ হাজারেরও বেশি চারাগাছ। মুহূর্তের মধ্যে সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। অভিনেতা জানান, একসময় তাঁর ব্যাঙ্কে পড়ে ছিল মাত্র ২৫০০ টাকা। ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি টাকায়।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অভাব সামাল দিতে তিনি নিজের ছেলের স্কুলের বাইরেই সবজি বিক্রি করা শুরু করেন। রাজেশ বলেন, “সেই সময় যাতায়াতের জন্য শুধু অটো বা লোকাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতাম। লোকে দেখে করুণা করত, ভাবত বেচারা গাড়ি কিনতে পারছে না! অথচ আজও আমি যখন শুটিংয়ে উবার বা র্যাপিডো ব্যবহার করি, তখন তারাই বলে আমি খুব মাটির মানুষ।” ট্রাফিকের ঝক্কি এড়াতে এখনও বিলাসবহুল গাড়ির বদলে সাধারণ যানেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন অভিনেতা।
রাজেশের এই লড়াইয়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর দুই বোন। গত বছর ব্লকবাস্টার ছবি ‘সাইয়ারা’-তে অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই উপার্জিত অর্থে ঋণের সিংহভাগ মিটিয়ে ফেলেছেন। রাজেশ জানিয়েছেন, তাঁর ২ কোটির ঋণের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ মেটানো হয়ে গিয়েছে, বাকি আছে মাত্র ১৫-২০ লক্ষ টাকা। আমেরিকায় থাকা দিদি চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছেন ভাইয়ের পাশে দাঁড়াতে। এখন দুই বোন মিলেই সামলাচ্ছেন রাজেশের সেই চাষের জমি, যাতে অভিনেতা নিজের অভিনয় কেরিয়ারে মন দিতে পারেন।
