শাহরুখ নন, সলমনই হতেন ‘বাজিগর’! কেন লাস্ট মিনিটে পিছিয়ে এসেছিলেন ভাইজান?
সঞ্জয় লীলা বনশালীর সঙ্গে 'খামোশি' এবং 'হাম দিল দে চুকে সনম'-এর মতো সফল কাজ থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি 'দেবদাস' করেননি? এই প্রশ্নের জবাবে সলমন সাফ জানান, "একদমই না, আমার কোনও আফসোস নেই। আমি এমন কোনও চরিত্রে অভিনয় করতে চাই না যা তরুণ প্রজন্মের ওপর ভুল প্রভাব ফেলতে পারে।"

বলিউডের ইতিহাসের অন্যতম মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ছবি ‘বাজিগর’ (Baazigar)। এই ছবির হাত ধরেই শাহরুখ খানের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু জানেন কি, এই নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব প্রথমে গিয়েছিল সলমন খানের কাছে? সম্প্রতি সুভাষ কে ঝা-র একটি পুরনো সাক্ষাৎকারে সলমন খোলসা করেছেন কেন তিনি ‘বাজিগর’ বা সঞ্জয় লীলা বনশালীর কালজয়ী সৃষ্টি ‘দেবদাস’-এর মতো ছবি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
সঞ্জয় লীলা বনশালীর সঙ্গে ‘খামোশি’ এবং ‘হাম দিল দে চুকে সনম’-এর মতো সফল কাজ থাকা সত্ত্বেও কেন তিনি ‘দেবদাস’ করেননি? এই প্রশ্নের জবাবে সলমন সাফ জানান, “একদমই না, আমার কোনও আফসোস নেই। আমি এমন কোনও চরিত্রে অভিনয় করতে চাই না যা তরুণ প্রজন্মের ওপর ভুল প্রভাব ফেলতে পারে।”
সলমন বিশ্বাস করেন, পর্দার চরিত্রের প্রভাব বাস্তব জীবনে পড়ে। তাঁর মতে, অভিনয়ের পেছনে একটি নৈতিক দিক থাকা প্রয়োজন। সলমন বলেন, “আমি ‘রাধে’ ছবির সময়ও দর্শকদের সতর্ক করেছিলাম যে ছবির চরিত্রের ভুল কাজগুলো যেন কেউ অনুসরণ না করে, বরং তাঁর ভুল থেকে শিক্ষা নেয়।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চাই যার মন পরিষ্কার এবং যে চরিত্রের পেছনে গভীর সততা রয়েছে।”
সিনেমায় প্রেমের সংজ্ঞার পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভাইজান জানান, বর্তমানে রোমান্সের নামে অনেক সময় ধ্বংসাত্মক আবেগ দেখানো হয়। তিনি বলেন, “একটা সময় ছিল যখন নায়করা ভালোবাসার জন্য প্রাণ দিত। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ যখন প্রেমের জন্য আত্মঘাতী হয়, সেটা মুহূর্তের উত্তেজনায় ঘটে যায়।” সলমনের মতে, আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত আর ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। আর এই কারণেই তিনি সমাজকে ভুল বার্তা দেয় এমন চরিত্র থেকে দূরে থাকেন। তিনি সরাসরি স্বীকার করেন, “ভুল দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে এমন কাজ আমি করব না। আমাকে ‘বাজিগর’ অফার করা হয়েছিল, আমি করিনি।”
