Bollywood: আত্মহত্যা করবেন ঠিক করে ফেলেন, এক পুরোহিতই বদলে দিয়েছিল বলিউডের এই অভিনেতার জীবন
Narmada River Incident: এক ঝটকায় জীবনটা থমকে গিয়েছিল রূপোলি পর্দার এই তারকার। নিয়ে ফেলেছিলেন সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তটাও। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভেসে এল একটা অচেনা ডাক। নদীর গভীর জল থেকে এক পুরোহিত কীভাবে ফিরিয়ে আনলেন এক মহাতারকার প্রাণ?

একসময় যাঁর এক চিলতে হাসি আর চমৎকার নাচ দেখতে প্রেক্ষাগৃহে টিকিটের কাড়াকাড়ি পড়ে যেত, সেই মানুষটার জীবনই একমুহূর্তে থেমে গিয়েছিল চরম এক ট্র্যাজেডিতে। চারপাশের সব আলো, গ্ল্যামার আর কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা, সবকিছু এক লহমায় ফিকে হয়ে গিয়েছিল তাঁর কাছে। বুকভাঙা কষ্ট সামলাতে না পেরে মৃত্যুর অন্ধকার গলিতে পা বাড়াতেও দ্বিধা করেননি তিনি। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে একটি ডাক বদলে দিয়েছিল সবকিছু। গভীর নদীর জল থেকে ফিরিয়ে এনেছিল এক মহাতারকার জীবন!
সম্প্রতি নিজের জীবনের সেই ভয়ঙ্কর আর অতি গোপন স্মৃতির কথা প্রকাশ্যে আনলেন জনপ্রিয় বলিউড তারকা গোবিন্দা (Govinda)।
ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের। সেই বছর ১৫ জুন চিরতরে বিদায় নেন অভিনেতার মা, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেত্রী নির্মলা দেবী। মায়ের সঙ্গে তাঁর টান ছিল অপরিসীম। তাই মা চলে যাওয়ার পর পুরো বিশ্বটাই যেন শূন্য হয়ে গিয়েছিল অভিনেতার কাছে। মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে, মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন সব শেষ করে দেওয়ার।
সেই বিষাদগ্রস্ত দিনে হাঁটতে হাঁটতে তিনি পৌঁছে যান নর্মদা নদীর পাড়ে। এরপর কোনও কিছু না ভেবেই ধীর পায়ে নেমে যান জলের গভীরে। সেই কষ্টের কথা মনে করে গোবিন্দা বলেন, “বুকের ভেতরটা যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, আর কিছু বাকি নেই, সব শেষ হয়ে গিয়েছে।”
কিন্তু সত্যিই কি তিনি জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন? পরে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা খোলাখুলিই স্বীকার করেন, “একরকম তা-ই।” অভিনেতার ভাষায়, “আমার মনে হচ্ছিল, জলের একটু গভীরে চলে গেলেই বুঝি আবার মায়ের দেখা পাব! সেই ভাবনা থেকেই নর্মদার জলে নেমে পড়েছিলাম।”
যখন এক পা এক পা করে গহীন জলের দিকে এগোচ্ছেন, ঠিক তখনই নদীর ঘাটে থাকা রাম কুন্ডল নামের এক স্থানীয় পুরোহিত দূর থেকে দেখে ফেলেন তাঁকে। চিনতে পেরে তিনি চিৎকার করে ডেকে ওঠেন। সেই গলার আওয়াজ যেন এক ধাক্কায় ঘোর ভেঙে দেয় তারকার।
পুরোহিতের সেই ডাক শুনেই থমকে দাঁড়ান অভিনেতা। বুঝতে পারেন, তিনি কতটা বড় ভুল করতে যাচ্ছিলেন। চোখের সামনে ভেসে ওঠে নিজের ছোট ছোট সন্তানদের মুখ। গোবিন্দা বলেন, “হঠাৎ খেয়াল হল, আমাকে তো আমার ছেলেমেয়েদের জন্য হলেও বেঁচে থাকতে হবে!”
জল থেকে উঠে আসেন তিনি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে অভিনেতার লেগেছিল প্রায় ১৫ দিন। কিন্তু এই একটা ঘটনাই চিরতরে বদলে দেয় তাঁর জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি। আলো ঝলমলে রূপোলি পর্দা আর খ্যাতির আসল চেহারাটা তিনি সেদিনই চিনে গিয়েছিলেন। গোবিন্দার স্পষ্ট কথা, “সিনেমা বা স্টার হওয়া আমার জীবনের আসল প্রাপ্তি নয়। মা আর পরিবারকে আগলে রাখতে পেরেছি, সেটাই আমার জীবনের সেরা অর্জন।”
