Ishaan Khatter: ‘বাবা হিন্দু, মা মুসলিম…’ ঈশান খট্টরের ধর্ম কী? অভিনেতা বললেন ‘জয় শ্রী…’
Ishaan Khatter gave a unique reply: খোদ মার্টিন স্করসেসির মতো বিশ্বখ্যাত পরিচালকও অস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঈশানের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আর পাঁচজন সমসাময়িক অভিনেতার মতো শুধু গ্ল্যামারের পেছনে না ছুটে, কনটেন্ট বা ছবির চিত্রনাট্য বাছাইতেও নিজের পরিণত মনস্কতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তবে এবার অভিনয় নয়, নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কার্যত ছক্কা হাঁকালেন নীলিমা-পুত্র।

হিন্দি সিনেমার চেনা ছক ভেঙে নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করেছেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেতা ঈশান খট্টর। ‘ধড়ক’ থেকে শুরু করে ‘বেয়ন্ড দ্য ক্লাউডস’, ‘দ্য রয়্যালস’ কিংবা অস্কারের মঞ্চ কাঁপানো সাম্প্রতিক ছবি ‘হোমবাউন্ড’— তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একের পর এক ভিন্নস্বাদের কাজ। খোদ মার্টিন স্করসেসির মতো বিশ্বখ্যাত পরিচালকও অস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ঈশানের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আর পাঁচজন সমসাময়িক অভিনেতার মতো শুধু গ্ল্যামারের পেছনে না ছুটে, কনটেন্ট বা ছবির চিত্রনাট্য বাছাইতেও নিজের পরিণত মনস্কতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তবে এবার অভিনয় নয়, নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কার্যত ছক্কা হাঁকালেন নীলিমা-পুত্র।
শাহিদ কাপুরের ভাই হলেও বলিউডে নেপোটিজমের ছায়া মাড়াননি ঈশান। নিজের দক্ষতায় মাটি শক্ত করেছেন। প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা এই অভিনেতা সাধারণত ছবির প্রিমিয়ার বা প্রচার ছাড়া ক্যামেরার সামনে খুব একটা আসেন না। নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখতেই ভালোবাসেন। কিন্তু সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুরাগীদের সঙ্গে এক ‘আস্ক মি অ্যানিথিং’ (Ask Me Anything) বা প্রশ্নোত্তর পর্বে যোগ দিতেই ধেয়ে আসে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন। এক নেটিজেন সরাসরি তাঁর ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে মেজাজ না হারিয়ে ঈশান যেভাবে পরিস্থিতির সামাল দিলেন, তা এখন নেটপাড়ার হট টপিক।

ইনস্টাগ্রামের ওই চ্যাট সেশনে এক অনুরাগী লেখেন, “আচ্ছা, আপনার ধর্ম ঠিক কী? সত্যি বলতে, আমি এটা নিয়ে ভীষণ বিভ্রান্ত!” প্রসঙ্গত, ঈশানের মা, প্রবীণ অভিনেত্রী তথা প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় নৃত্যশিল্পী নীলিমা আজিম ইসলাম ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে, তাঁর বাবা অভিনেতা রাজেশ খট্টর হলেন পাঞ্জাবি হিন্দু। স্বভাবতই, দুই ভিন্ন সংস্কৃতির আবহে বড় হওয়া ঈশানের ধর্মপরিচয় নিয়ে কৌতুহল ছিল নেটিজেনদের একাংশের।
ধর্মের এই বেড়াজালকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়ে ঈশান জবাব দেন, “জয় যিশু, শ্রী আল্লাহ, হোলি স্পিরিট দি ফতেহ।” অর্থাৎ হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান— সব ধর্মের নাম ও স্লোগানকে এক লাইনে মিলিয়ে দিয়ে এক অনন্য সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দিলেন অভিনেতা। এখানেই শেষ নয়, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে সনাতন ধর্মীয় রীতিনীতির উর্ধ্বে গিয়ে তাঁর কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় ‘প্রকৃতি, দয়া, মানবিকতা এবং সৃষ্টিশীলতা’।
সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো উস্কানিতে পা না দিয়ে, অত্যন্ত পরিপক্বতা ও রসবোধের সাথে ঈশান যেভাবে এই ‘ধর্মসংকট’ পার করলেন, তা দেখে মুগ্ধ অনুরাগীরাও। নেটিজেনদের একাংশের মতে, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে তরুণ প্রজন্মের এক অভিনেতার কাছ থেকে এমন ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবিক বার্তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
