আমির খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ে ভয়! পরিচালককে অদ্ভুত শর্ত দেন কাজল
মজার বিষয় হল, এই সিনেমার জন্য কাজল কিন্তু পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। তখন কাজল সদ্য মা হয়েছেন। নিসা তখন খুবই ছোট। কুনাল ভেবেছিলেন, এই অবস্থায় হয়তো কাজল কাজ করতে চাইবেন না। কিন্তু চিত্রনাট্য শোনার পর অভিনেত্রী নিজেই চমকে দেন পরিচালককে। রাজি হয়ে যান জুনির চরিত্রে অভিনয় করতে।

বলিউডের রোমান্টিক থ্রিলার বললেই অবধারিতভাবে উঠে আসে ২০০৬ সালের সুপারহিট সিনেমা ‘ফানা’র নাম। কাশ্মীরি কন্যা জুনি আর রেহানের সেই জমাট প্রেম আজও দর্শকদের মনে জীবন্ত হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে ‘দেখো না’ গানের সেই বৃষ্টিভেজা রোমান্স। সেই গানের ভিডিয়ো আজও দেখতে পছন্দ করেন দর্শক। কিন্তু জানেন কি, আমির খানের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করার আগে পরিচালক কুণাল কোহলির সামনে এক অদ্ভুত শর্ত রেখেছিলেন কাজল? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই গোপন তথ্যই ফাঁস করলেন পরিচালক।
আসলে ‘ফানা’ সিনেমার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্মৃতির পাতা উল্টাচ্ছিলেন পরিচালক। সেখানেই উঠে আসে কাজলের সেই শর্তের কথা। শ্যুটিংয়ের প্রথম দিনেই কাজল পরিচালককে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “দেখো কুণাল, সেনসুয়াল দৃশ্য তুমি যেমন খুশি শুট করো, কিন্তু একটা কথা মাথায় রেখো— এই গানটা কিন্তু আমাকে আমার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের সঙ্গে বসে দেখতে হবে!” অর্থাৎ ঘনিষ্ঠতা যেন শালীনতার গণ্ডি না ছাড়ায়, সেদিকেই ছিল অভিনেত্রীর কড়া নজর।
মজার বিষয় হল, এই সিনেমার জন্য কাজল কিন্তু পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলেন না। তখন কাজল সদ্য মা হয়েছেন। নাইসা তখন খুবই ছোট। কুণাল ভেবেছিলেন, এই অবস্থায় হয়তো কাজল কাজ করতে চাইবেন না। কিন্তু চিত্রনাট্য শোনার পর অভিনেত্রী নিজেই চমকে দেন পরিচালককে। রাজি হয়ে যান জুনির চরিত্রে অভিনয় করতে।
পরিচালক আরও জানান, অন্ধ মেয়ের চরিত্রে কাজলের অভিনয়কে তিনি স্রেফ ‘সহানুভূতি’ হিসাবে দেখাতে চাননি। সচরাচর সিনেমায় অন্ধ চরিত্র মানেই চোখে কালো চশমা দেওয়া হয়, কিন্তু কুণাল তা করেননি। তিনি চেয়েছিলেন কাজলের চোখের ভাষা দর্শক সরাসরি অনুভব করুক। প্রেম বা শারীরিক আকর্ষণ যে কোনও প্রতিবন্ধকতার ঊর্ধ্বে, সেটাই ছিল পরিচালকের মূল লক্ষ্য। তাই কাজলের শর্ত মেনেও দৃশ্যের আবেদন এতটুকু কমতে দেননি তিনি। আজ দুই দশক পরেও ‘ফানা’র সেই রসায়ন অমলিন। আমিরের রহস্যময় চার্ম আর কাজলের স্নিগ্ধ অভিনয় আজও দর্শকদের মনে জায়গা নিয়ে রয়েছে।
