ভারতীয় রাজনীতিতে প্রথম! একদিনও সংসদে না গিয়ে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক, বিজেপিতে যাচ্ছেন?
রাজ্য়সভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে জুন মাসেই ইমেল করেছিলেন টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তবে এবার ইমেল নয়, বরং বুধবার সশরীরে এসে ইস্তফা দিলেন কোয়েল। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী এবং প্রয়োজক নিশপাল সিং।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রাজ্য়সভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে জুন মাসেই পদত্যাগ পত্র ইমেল করেছিলেন টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তবে এবার ইমেলে নয়, বরং বুধবার স্বশরীরে উপস্থিত হয়েই ইস্তফা দিলেন কোয়েল। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী এবং প্রযোজক নিশপাল সিং।
গত ৬ এপ্রিল দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদ পদে শপথ নিয়েছিলেন কোয়েল। শপথ নেওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরো পরিবারের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, “বাংলার মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।” সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, “দেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই।” ভোট প্রচারেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে পরাজয়ের পর আর কোনও কথা বলতে শোনা যায়নি তাঁকে। হঠাৎই জুন মাসের ১১ তারিখ ইমেলে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন কোয়েল। তবে তখন তাঁকে জানানো হয়েছিল, ইমেলে ইস্তফাপত্র গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ব্যক্তিগত কারণে দেশের বাইরে থাকার কারণে তাঁর এই ইস্তফা বিলম্বিত হয়। এবার দেশে ফিরে বুধবার স্বশরীরে ইস্তফাপত্র জমা দিলেন কোয়েল। সূত্র বলছে, এরই মাঝে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র কুমার যাদবের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন কোয়েল। তৃণমূলের রাজ্য়সভার সদস্যসংখ্য়া ১৩ থেকে কমে এখন ৯। এর আগে সুখেন্দু শেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেব সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করে বিজেপির হাত ধরেছেন। তার পরেই কোয়েলের ইস্তফা।
কোয়েল মল্লিক কার্যত প্রথম এমন কোনও সাংসদ, যিনি সাংসদপদ গ্রহণ করার পরে অধিবেশনে একদিনও যোগদান না করে ইস্তফা দিলেন। এবং এখানে উল্লেখ করতে হয়, কোয়েল আগেই ইস্তফা করতে চেয়েছিলেন ইমেল মারফত। কিন্তু তখন তাঁকে জানানো হয়, নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেই তাঁকে ইস্তফা দিতে হবে। তিনি যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছেন তাও জানাতে হবে ইস্তফা জমা দেওয়ার সময়। তাঁর এই পদক্ষেপ থেকে প্রথমে মনে হয়েছিল , হয়তো কোয়েল শুরুতেই, তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শেষ করতে চাইছেন। কিন্তু বুধবার পদত্যাগ করার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে কোয়েলের সাক্ষাৎ, নতুন করে আরেক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। পদত্যাগ দেওয়ার আগে তিনি ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে গিয়ে, তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন কোয়েল। এখানে উল্লেখ করা উচিত, কয়েকদিন আগে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুখেন্দু শেখর রায় পদত্যাগ করার পরে, ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। অন্যদিকে, সুস্মিতা দেব পদত্যাদ করার পরে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে দেখা করেন। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর প্রকাশ চিক বরাইক তাঁর তুরুপের তাস নিজের কাছেই রেখেছেন। এরা তিন জনই এই মুহূর্তে বিজেপির অন্দরে। তাহলে কি সুখেন্দু, প্রকাশ ও সুস্মিতার পথেই হাঁটতে চলেছেন কোয়েল? তিনি কি এবার বিজেপিতে যোগ দেবেন? রাজনৈতিক মহলে কিন্তু এসব প্রশ্নই এখন ঘুরপাক করছে।
কোয়েলের পদত্যাগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে টিভি নাইন বাংলাকে বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, ”বাংলার মানুষ কিন্তু চায়নি যে বাংলার মানুষ, কোয়েল মল্লিক তৃণমূল নামক এই লুটেরা দলটির সঙ্গে কোনওভাবে জড়িয়ে পড়ুক। কোয়েল মল্লিক কোনওদিনই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। কোয়েলকে ভালো মানুষ হিসেবে সবাই জানেন। কোয়েলকে এভাবে রাজনীতিতে দেখে মানুষ কষ্ট পাচ্ছিল। আমি আগেই বলেছিলাম, কোয়েল হয়তো ভুল সিঁড়িতে পা দিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি বেরিয়ে এসেছেন, এবার তিনি কী করবেন একজন পরিণত মানুষ হিসেবে। এটা একেবারেই তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” অন্যদিকে, তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল জানান, ”এই মুহূর্তে আমরা ৮ জন রাজ্যসভার সদস্য রয়েছি। কোয়েল এখন ইস্তফা দিয়েছেন। জুন মাসেই তো ইমেল করেছিলেন। তখন তাঁকে স্বশরীরে এসে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানানো হয়। কেন এতদিন কোয়েল মল্লিক সময় নিলেন, সেটা তিনিই বলতে পারবেন। ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন, পূর্বে শুধু কোয়েল নয়, আমাদের আরও অনেকেই ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেছেন। ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেই পদত্য়াগ করেছেন, হয়তো তাঁর থেকে ইরফরমেনশন পেতে দেরি হচ্ছিল। এটুকু বলতে পারি, এই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে যাবে না। বিজেপি তাঁদের নিজেদের লোক পাচ্ছে না, তৃণমূলের লোকজন নিয়ে চলে যাচ্ছে।”
