AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Rahul Arunoday: রাহুলের মৃত্যুতে চুপ লীনা, এবার মুখ খুললেন ছেলে অর্ক, ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে একী বলে ফেললেন প্রযোজক!

Leena Ganguly's son Arka Post on Rahul: রাহুলের মৃত্যু নিয়ে প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করলেও, সরাসরি রাহুলের মৃত্যু নিয়ে একেবারেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন লীনা। তবে এবার ফেসবুকে এক লম্বা পোস্টে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে তথা প্রযোজক অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় রাহুলের মৃত্য়ুতে প্রথমবার মুখ খুললেন। তাঁর পোস্টে উঠে এল রাহুলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং কীভাবে ফোন করে রাহুল তাঁদের প্রযোজনা সংস্থায় কাজ চেয়েছিলেন, তাই স্পষ্ট করলেন অর্ক।

Rahul Arunoday: রাহুলের মৃত্যুতে চুপ লীনা, এবার মুখ খুললেন ছেলে অর্ক, ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে একী বলে ফেললেন প্রযোজক!
রাহুলের মৃত্যুতে মুখ খুললেন লীনাপুত্র অর্ক।
| Updated on: Apr 07, 2026 | 3:32 PM
Share

রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্য়ুর বিচার চেয়ে, সর্বপরী শুটিং ফ্লোরে সঠিক নিরাপত্তার খাতিরে মঙ্গলবার কর্মবিরতিতে যেতে চলেছে টলিপাড়া। এর আগে শনিবার জাস্টিস ফর রাহুল- মিছিলেও দেখা গিয়েছিল টলিউডের উজ্জ্বল তারকাদের মুখ। তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্য়ুতে যেন নতুন করে শিল্পী-কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে নড়ে চ়ড়ে বসেছে টলিপাড়া। তবে অভিযোগের তির কিন্তু জনপ্রিয় চিত্রনাট্যকার, পরিচালক লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায় ও তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের দিকেই। রাহুলের মৃত্যু নিয়ে প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করলেও, সরাসরি রাহুলের মৃত্যু নিয়ে একেবারেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন লীনা। তবে এবার ফেসবুকে এক লম্বা পোস্টে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে তথা প্রযোজক অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় রাহুলের মৃত্য়ুতে প্রথমবার মুখ খুললেন। তাঁর পোস্টে উঠে এল রাহুলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং কীভাবে ফোন করে রাহুল তাঁদের প্রযোজনা সংস্থায় কাজ চেয়েছিলেন, তাই স্পষ্ট করলেন অর্ক।

ঠিক কী লিখলেন লীনাপুত্র?

অর্ক তাঁর লেখার শুরুতেই স্পষ্ট করলেন, ঠিক কবে নাগাদ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে তাঁর পরিচয়। প্রথম দেখায় ঠিক কীভাবে আলাপ বেড়েছিল রাহুলের সঙ্গে, তাও স্পষ্ট করেছেন অর্ক। এমনকী, অর্ক তাঁর লেখায় জানিয়েছেন, মাঝে মধ্যেই ফোনে, হোয়াটসঅ্যাপে রাহুলের সঙ্গে কী কী কথা হত তাঁর।

অর্ক লিখলেন, ”রাহুলের সঙ্গে প্রথম দেখা প্রায় ১২ বছর আগে – সম্ভবত ২০১৪ বা ২০১৫ সালের দিকে। সেদিন বোধহয় সায়ন্তিকার জন্মদিন ছিল, হোটেল হিন্দুস্তানের গ্রাউন্ড ফ্লোরের ব্যাঙ্কোয়েট-এ। সেদিন রাহুলের সঙ্গে শুধু দেখা হয়েছিল, কোনও কথা হয়নি। কথা হয়েছিল প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে। আমার ভীষণ অবাক লেগেছিল – একজন হিরোইন, যাকে এত মানুষ চেনে, সে কিনা একেবারে পাশের বাড়ির মেয়ের মতো নিজে থেকেই এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলছে! তখন এই ইন্ডাস্ট্রিতে আমাকে প্রায় কেউই চিনত না, হাতে গোনা দু-একজন ছাড়া। তখন সবে সবে কলকাতায় এসেছি। তার আগে যে শহরে থাকতাম, সেখানে বাংলা সিনেমা দেখতে পাওয়াটাই ছিল এক বিশাল ব্যাপার। তাই ওদের সিনেমা আমি তার আগে দেখেছিলাম কিনা মনে পড়ে না, কিন্তু ওরা যে বেশ জনপ্রিয় মুখ, সেটা অবশ্যই জানতাম।”

অর্ক তাঁর পোস্টে জানিয়েছেন, রাহুলের হাতে যখন কাজ ছিল না, তখন অর্ককে ফোন করে কাজের খোঁজ নিয়েছিলেন রাহুল। স্পষ্ট কাজও নাকি চেয়েছিলেন। অর্ক লিখলেন, ”রাহুলের সঙ্গে আলাপ হয় তার এক বছর পরে। তখন BCL বলে একটা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হচ্ছিল, সেখানে খেলতে গিয়ে। খুব বেশি আড্ডা হয়নি, তবে ওই দু-একবার দেখা হলে যেমন হয়, তেমনই। তুই-তোকারি সম্পর্ক হয় তার বেশ খানিক পরে – আমার কাছের বন্ধু তথাগতর মাধ্যমে। এটা বোধহয় ২০১৮ বা ২০১৯ সালের দিকে। এই সময় আমি সবে আমার প্রযোজনা সংস্থা খুলেছি। কোনো রকমে এদিক-ওদিক থেকে ধার-টার নিয়ে কিছু টাকা জোগাড় করেছি, আর একটা চ্যানেল থেকে বলেছে, একটা প্রোজেক্ট দিলেও দিতে পারে – তারই ব্যবস্থা চলছে। বাজেটের খুব টানাটানি – খুব নামকরা কোনো কাস্টকে নেওয়ার সামর্থ্য নেই। প্রথম প্রোজেক্ট, তাই চ্যানেলও নিশ্চিত নয় কাজটা ভালোভাবে করতে পারব কিনা। তাই স্বাভাবিক কারণেই বেশি বাজেট দেয়নি। কিন্তু আমাদের তো সেই সীমিত বাজেটের মধ্যেই ভালো করে কাজ করতে হবে। প্রোজেক্ট যদি তাড়াতাড়ি বন্ধ হয়ে যায়, একে তো তারপর কীভাবে লোনের টাকা ফেরত দেব জানি না, তার ওপর কোনো চ্যানেল আর কোনো কাজই দেবে না।”

অর্ক আরও লিখলেন, ”যাই হোক, এরকমই একদিন রাহুল ফোন করে। আমি তার কিছুদিন আগে ‘খোঁজ’ বলে একটা ছবি বানিয়েছিলাম – বোধহয় সেটা দেখেই জানাতে ফোন করেছিল, বা সেরকমই কিছু একটা হবে। কথায় কথায় বলল, ওর একটা প্রোজেক্ট বেশ কিছুদিন আগে বন্ধ হয়ে গেছে, আর এখন হাতে কোনো স্থায়ী কাজ নেই। আমিও ওকে বলি – আমি একটা নতুন কোম্পানি খুলেছি, এবার ইনডিপেন্ডেন্টলি প্রোডিউস করার কথা ভাবছি। একটা ওয়েব অ্যান্থোলজি বানিয়েছি, আর বোধহয় একটা সিরিয়ালও শুরু হতে পারে। রাহুল সোজাসুজি আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, “এই তো, তাহলে আমাকেই নে! কেন, মানাবে না?” এতটা ডিরেক্ট কথা শুনে প্রায় হাসিই পেয়ে গিয়েছিল। আমি বলি, “ভাই, আমার কাছে কি তোকে অ্যাফোর্ড করার মতো বাজেট আছে?” রাহুল বলে, “আমার এখন কাজের দরকার, আর তোর প্রথম সিরিয়াল – কাজটা আমি-ই করব কিন্তু।” তারপর একটা নাম্বার বলে, “এই টাকা দিতে পারবি তো? তাহলেই হবে।” আমি জানতাম, ও সাধারণত এর থেকে অনেক বেশি পারিশ্রমিক নেয়। তার ওপর ওর মতো কাউকে নিতে পারলে প্রোজেক্টের ওজনও অনেকটা বেড়ে যাবে। তাই ও যে অ্যামাউন্ট-টা বলল, তার কাছাকাছি একটা অ্যামাউন্ট-এই আমি রাজি হয়ে যাই। মনে মনে জানতাম, চ্যানেল নিশ্চয়ই খুশিই হবে – রাহুলকে লক করতে পেরেছি শুনে। তবু বললাম, “একদিন সময় দে – চ্যানেলের সঙ্গে একবার কথা বলে নিই। আমাদের দিক থেকে তো লকড।”

অর্কের কথায়, ”এরপর সেদিন সন্ধে পর্যন্ত চ্যানেলে মিটিং চলছিল। হঠাৎ দেখি রাহুল ফোন করছে। ভাবলাম পরে কল ব্যাক করব, কিন্তু রাত হয়ে গেল, আর তারপর ভুলেই গেলাম। পরের দিন দুপুরে মনে পড়তেই ফোন করি। চ্যানেল থেকেও যে সবাই হাসিমুখে রাজি হয়ে গেছে – সেটাও ওকে বলার ছিল। কিন্তু ফোন করতেই বুঝতে পারি, এক অদ্ভুত কাণ্ড হয়ে গেছে। আমি ফোন রাখতেই ওকে ফোন করেছে SVF থেকে, আর যে টাকায় আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল তার থেকে অনেকটা বেশি টাকা অফার করেছে ওকে অন্য একটা প্রোজেক্টের জন্য। তাই কী করবে বুঝতে না পেরে আমায় ফোন করছিল। টাকার অঙ্কটা শুনে আমি আর কিছু বলতে পারি না। চ্যানেলের দিদিদের মুখগুলো একবার করে মনে আসে ঠিকই, কিন্তু তারপরই মনে হয় – আমার জন্য প্রতি মাসে এতগুলো করে টাকা লস করবে? তার সঙ্গে আরও একটা পার্সোনাল সুবিধার কথা বলে – সেটা শুনেও বুঝতে পারি যে এটাও আমাদের এখানে কাজ করলে ও পাবে না। রাহুল হয়তো একটু হেসিটেট করছিল, কিন্তু আমি-ই বলে দিই – “এতগুলো টাকা পাচ্ছিস, আর বেশি ভাবিস না, ওটাই করে নে।”

রাহুলের সঙ্গে প্রকৃত অর্থে বন্ধুত্ব বোধহয় এর পর থেকেই শুরু। দুর্ভাগ্যবশতঃ SVF-এর সেই প্রোজেক্টটা কোনো কারণে খুব বেশী দিন চলে না আর আমাদের শো টা চলে যায়। এই নিয়ে অবশ্য পরে মজার ছলেই অনেকবার আফসোসও করেছে ও – আর আমিও “দেখ কেমন লাগে” গোছের tease করে গেছি। রাহুলের সঙ্গে আমার আর কোনোদিন সরাসরি কাজ করা হয়নি। মাঝে মাঝেই কাজ নিয়ে কথা হত যদিও। যখন প্রথম হিন্দিতে কাজ শুরু করেছি – হঠাৎ একদিন লিখল, “আমার হিন্দি কিন্তু খুব ভালো” – আমি শুধু হো হো করে হাসার emoji দিলাম! কেন, কে জানে? হয়তো ধরে নিয়েছিলাম আমার মতো ওর হিন্দিও নিশ্চই লালমোহন বাবুর মতোই হবে!

“দেশের মাটি”-তে কাজ অফার হওয়ার সময়েও ওর সঙ্গে আলাদা করে ফোনে কথা হয়েছিল। এর আগে ও শুধু হিরোর চরিত্র করত, এই প্রথম সাপোর্টিং চরিত্র। হিরোদের যেমন মিনিমাম গ্যারান্টি মাসিক কনট্র্যাক্ট হয়, তাতে পারিশ্রমিক অনেকটাই গ্যারান্টিড থাকে। চরিত্রাভিনেতা হিসেবে কাজ করাটা ওর জন্য খানিকটা কালচারাল শক। প্রোডাকশন থেকে বোধহয় জানিয়েছিল, ওই চরিত্রের জন্য মিনিমাম গ্যারান্টি করা যাবে না। আমি ঠিক কী বলেছিলাম, মনে নেই, কিন্তু কাজটা ও ফাইনালি করেছিল। আপনাদের মধ্যে অনেকের হয়তো মনে আছে – এই ধারাবাহিকটিতে একটা সময়ের পরে রাহুল আর রুকমার “রাজা-মাম্পি” জুটি ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। লোকে রাজা আর মাম্পিকে দিয়েই দেশের মাটিকে চিনতে শুরু করে। আপনারা হয়তো কেউ কেউ জানেন, “দেশের মাটি”-র স্ক্রিপ্ট লিখতেন আমার মা। মা আবার যার অভিনয় পছন্দ হয়, তাকে মন থেকে সাজিয়ে চরিত্র দেয়। আমি জানতাম, রাহুলকে মায়ের পছন্দ হবে। ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, আমার কোনো বন্ধু যদি একটু ভালো বাংলা লেখে বা একটু সুনীল-শক্তি পড়ে, সে মায়ের বন্ধু হয়ে যায়। হয়তো মনে মনে ইচ্ছে ছিল, নিজের ছেলেও সেরকম হবে – দুটো প্রবন্ধ-নিবন্ধ ভালো করে লিখতে পারবে। তাই একমাত্র ছেলেকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করিয়েছিল। মনে আছে ছোটবেলায় বলত, “ইংরেজি তো এমনিতেই শিখে যাবি, কিন্তু বাংলা স্কুলে না পড়লে বাংলা ঠিক করে শিখতে পারবি না।” এসব ইন্ডাস্ট্রিতে স্ক্রিপ্ট লিখতে আসার বহু বছর আগের কথা। তখন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পার্ট-টাইম বাংলা পড়াতেন সকালবেলায়, আর সন্ধেবেলায় লিটল ম্যাগাজিন। যাই হোক, নিজের পুত্রভাগ্যে যে সাহিত্য সুখ জোটেনি, সেটা তো আমার লেখা পড়ে নিশ্চয়ই বোঝা যাচ্ছে। নম্বরও পেতাম শুধু লজ্জা নিবারণের জন্য, যতটুকু না পেলেই নয়। তাই আমার কোনো বন্ধু, যদি একটু বেশি বই পড়ে আর ভালো লিখতে পারে, তাদের সবার সঙ্গে মায়ের আলাদা করে বন্ধুত্ব। তথাগত, রাহুল আর আমার ছোটবেলার বন্ধুরা – জয়লিপি, দেবলীনা, আদিত্য- মায়ের এবার বইমেলায় কোন বইটা বেরোল – শেষ কোন আর্টিকেলে আমাকে নিয়ে এক লাইন লিখেছে, সব এখনও ওদের থেকেই জানতে পারি।

যাইহোক, রাহুলের কথায় ফিরি। আপনারা অনেকেই জানেন, ২০২১-২২ নাগাদ ও নিজের ছবি বানানোর জন্য তখন মরিয়া হয়ে প্রডিউসারদের কাছে ঘুরছে। ও জানত – আমাদের কোম্পানি ছবি প্রডিউস করে না, তাই কোনোদিন সরাসরি প্রডিউস করার কথা বলে নি, কিন্তু বলত তোর হেল্প লাগবে। ওর আর অনিন্দ্য (সাঁই)-এর সাথে দেখা করে আমি একবার বলেছিলাম, ডেসপারেট হয়ে যা বাজেট পাচ্ছিস তাতেই ছবি বানিয়ে ফেলিস না। পরে কম বাজেটে বানানোর জন্য কেউ বেশি নম্বর দেবে না – আর যদি ঠিক মতো বানাতে না পারিস, ক’দিন পরে লোকে হয়তো ভুলে যাবে, কিন্তু নিজের মনে সারাজীবন অনুশোচনা থেকে যাবে। ওরা হয়তো ভেবেছিল ডিসকারেজ করছি। সত্যিই ডিসকারেজ করেছিলাম, কিন্তু কেন করেছিলাম সেটা হয়তো সেদিন ও বোঝেনি।

কিছুদিন পর আবার ফোন – একজন প্রডিউসার ওর ছবি করতে রাজি হয়েছে আর বাজেট – যেটা নিয়ে ডিসকারেজ করেছিলাম, তার থেকেও কম।
সেদিন রাহুলের গলায় যে ছেলেমানুষের মতো উচ্ছ্বাস ছিল সেটাকে আর প্র্যাকটিক্যালিটি দিয়ে চেপে দিতে পারিনি। “পার্টি দে, মগে করে মদ খাবো” এরকমই কিছু একটা বলেছিলাম নিশ্চয়ই।
হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খুলে দেখছিলাম ২০২২-এ, আমার জন্মদিনের পরে জানিয়েছিল ২৫শে জুলাই থেকে শুট শুরু। প্রডিউসারকে নিয়ে কী কথা হয়েছিল তার বিস্তারিত যাচ্ছি না। তার মধ্যে অনেক কথা ব্যক্তিগত পরিসরে বলা, তাই সেসব বাদ দিয়ে, মোট কথা, রাহুলের সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিয়ে ছবি, আমাদের ছোটবেলার পাড়া ক্রিকেট নিয়ে ছবি, was just about to hit the floor and he was as happy as a little baby। আমাদের সবার র‌্যাশেনাল চিন্তা, ব্যবসায়িক স্কোপ, atychiphobia সব রাহুলের এই adolescent version-এর কাছে গো-হারান হেরে যাচ্ছিল। রাহুলের সিনেমাটা ফাইনালি আর হয়নি। প্রথমে প্রডিউসার ডেট পেছোতে থাকে আর পরে এমন সময় ক্যানসেল করে দেয়, যখন ওর প্ল্যানিং সব রেডি। আর জাস্ট ক’ দিন পরেই শুট। এই নিয়ে লম্বা কনভারসেসান হয় ওর সাথে। রাহুল কিভাবে কনভারসেসান শুরু করত জানেন? “দুটো খবর আছে” “একটা ভালো একটা খারাপ, কোনটা আগে শুনবি?” আমি বললাম ভালোটাই আগে বল। ও বলল “প্রিয়াঙ্কা আর আমি – we are getting back together” আমি বললাম “এ তো দারুণ খবর!” রাহুলের সাথে ওর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুবই কম কথা হতো, কিন্তু মাঝে মাঝে ও নিজের থেকে বললে আন্দাজ করতে পারতাম সহজকে কতটা মিস করে। তাই এর থেকে ভালো খবর আর কী হতে পারে? খারাপ খবরটাও ও নিজে থেকেই বলল – “প্রডিউসার বলেছে ছবিটা আর হবে না” আমি বললাম “কি বলছিস? আবার ডেট পিছিয়েছে?” ও বলল – “না না, আর পিছোনোর কিছু নেই। ছবিটা আর হচ্ছে না। বলে দিয়েছে।”
তার পর আরও বেশ কিছুক্ষণ কথা হয়। ফোন রাখার পর নিজের মনেই প্রশ্ন আসে – জীবনের সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট সাকসেস আর ফেলিওর যদি একই দিনে আসে, সেটা কি একে অপরের পরিপূরক হতে পারে?

রাহুলের পডকাস্ট সহজকথা নিয়ে বলতে গিয়ে অর্ক লিখলেন, “সহজ কথার” কনসেপ্টটা ভাতৃসম অনিন্দ্যের থেকে আগেই শুনেছিলাম। রাহুল পডকাস্ট করবে – আমার এই ব্যাপারটা খুব মজার লেগেছিল। নিজের থেকেই জানিয়েছিলাম ইংরেজিতে “katha” নয় “kotha” লেখ। সার্চ অ্যালগরিদম আরও বেটার হবে তাহলে। লোকে তো “kotha” বলেই টাইপ করবে। ও বাবা! কথা বলতে আবার অন্য ‘কথা’ মাথায় এল। এটা আবার খুবই পার্সোনাল একটা pun – দু-একজন বাদে আর কেউ বুঝবে না। এই ভোলে বাবা ধারাবাহিকটি জয়েন করার কিছুদিন আগে অবধি প্রফেশনালি রাহুল একটু কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। যখন যোগাযোগ করে, তখন আমাদের একটা নতুন প্রোজেক্ট-এর কাস্টিং চলছিল। হিরোর চরিত্রের জন্য একজন অভিনেতাকে প্রেজেন্ট করা হয়েছিল আর চ্যানেল-ও মোটামুটি কনফার্ম করে দিয়েছে। এখন আমাদের এখানে কাস্টিং হওয়া তো একটু ডিফিকাল্ট। এদিকে আমি একদিন আগেই শুনেছি, ভোলে বাবা ধারাবাহিকে ক্যারেক্টার লিপ হচ্ছে। ওই প্রোজেক্ট-এর হিরো নীল (আমরা জিতু বলে ডাকি), প্রোজেক্ট জয়েন করার আগে বম্বেতে আমার প্রতিবেশী ছিল। সে ফোন করে বলল – ” দাদা, আমার এক্স-রুমমেট-কে বলে রেখেছি, নেক্সট মাসে ফেরত যাচ্ছি লোখণ্ডওয়ালা, ভোলে বাবা-তে আমাদের রোল শেষ। রাহুলের সাথে কথা বলতে বলতে মনে পড়ল সে কথা। আমি বললাম শিগগির মায়ের সাথে একবার যোগাযোগ কর – ভোলে বাবা-তে বোধহয় লিপ হবে। রাহুল বোধহয় কথাটা শেষ হতেই দেয় না – সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওর যে কাস্টিং হয়েছে – এটা জানতে পারি পরে। দুর্ঘটনা ঘটার জাস্ট কিছুদিন আগে। ফোন করে বলল – “একটাও এপিসোড দেখলি?” আমি অফিস-এ ছিলাম, কনটেক্সট বুঝতে না পেরে অবাক হলাম। আসলে ভুলেই গেছিলাম যে ভোলে বাবা নিয়ে ওর সাথে কোনো কথা হয়েছিল। ও বলল – “তোর জন্য কাজটা হলো আর তুই-ই দেখলি না? খুব মজার ক্যারেক্টার – জানি তুই এপিসোডস দেখিস না, কিন্তু এটা দেখিস, দেখলে বুঝবি কেন বলছি।” আমি জানি, যে ও জানে, যে আমার বলার, বা না বলার জন্য ওর কাজটা হয়নি। কিন্তু ওর সাথে এই আর্গুমেন্ট- এ গিয়ে যে জিততে পারব না, সেটা এতদিনে বুঝে গেছি, তাই এই নিয়ে আর কথা বাড়াইনি। শুনলাম একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ নাকি করে ফেলেছে লাস্ট কয়েকদিনের মধ্যে। বলল – “ভাই যখন কাজ থাকে না তখন একদমই থাকেই না, আর এখন দেখ এত কাজ – জাস্ট নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় নেই।” আমরা যারা অভিনয় বা তার অ্যাসোসিয়েটেড প্রফেশন-এ আছি তারা সবাই জানি, এই কমপ্লেইন্ট-টা আসলে কতটা স্যাটিসফাইং! আমি সেদিন কলকাতায়, প্ল্যান করলাম মুভিটোনে দেখা করতে যাব – বলল ৪টে অবধি আছি, কখন আসবি? আমি বললাম জানাচ্ছি। সেই জানানো আর হয়নি। আসলে মানুষ থাকলে তো কখনো বোঝা যায় না যে এর পর আবার কখনো দেখা নাও হতে পারে। ভেবেছিলাম হয়তো নেক্সট বার এসে দেখা করব। দেখা কিন্তু সেই নেক্সট বারেই হলো, কেওড়াতলা শ্মশানে। আমি এক কোণায় দাঁড়িয়ে থাকলাম – আর ও আমাদের দেখতেও পেল না। না কি হয়তো দেখতে পেল, কি জানি!

রাহুলের অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে বলতে গিয়ে অর্ক জানান, ”রাহুলের অ্যাক্সিডেন্ট-এর পরে অনেক জার্নালিস্ট-এর ফোন পেয়েছি। যাদের সাথে খুবই পার্সোনাল বন্ধুত্বের সম্পর্ক তাদের বাদে কারুর ফোন তুলিনি। যারা মনে মনে ভাবছেন কেন তুলিনি, ছেড়ে দিন, আপনারা বুঝবেন না। পরিচিত, অপরিচিত সব জার্নালিস্ট-ই জানেন – আমি ম্যাজিক মোমেন্টস-এর মুখপাত্র নই – কি হয়েছে এটা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মতো বলা একটা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয় যে তখন ঘটনাস্থল থেকে বহু কিলোমিটার দূরে। ঘটনাস্থলে অনেক কলাকুশলী ছিলেন, অভিনেতারা ছিলেন – তারা যা বলেছেন তার থেকেই আমাদের সবাইকে ইনফারেন্স ড্র করতে হচ্ছে। পুলিশ তদন্তের জন্য অনেক ডকুমেন্ট, ফুটেজ ইত্যাদি সিজ করেছে বলে জানি। রাহুলের শেষ মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজ ড্রোন ক্যামেরা-য় বন্দি। সেই ফুটেজ দেখতে চাওয়ার অধিকার অবশ্যই রাহুলের পরিবারের মানুষদের থাকতে পারে, কিন্তু আপনারা যারা বলছেন সেটাকে সোশ্যাল মিডিয়া-তে পাবলিক করে দেওয়া হোক – তারা কি বলছেন ভেবে বলছেন তো?”

অর্কর কথায়, ”আমি জানি ওর পরিবারের মানুষ জানতে চায় এত স্টেটমেন্ট-এর মধ্যে কোনটা তারা বিশ্বাস করবেন, কি সেফটি মেজারস ছিল, আমার ধারণা সেটা জানতে চাওয়ার পূর্ণ অধিকার ওর পরিবার, বন্ধু বান্ধবদের রয়েছে। তাই প্রোডাকশন কোম্পানি-র থেকে জানতে চাওয়া বা পূর্ণ তদন্তের দাবি করা বা পুলিশ-এর থেকে জানতে চাওয়া – এর সবকটাই স্বাভাবিক এবং যথেষ্ট ন্যায্য। যদি অবহেলার ১% ও সম্ভাবনা থাকে, তার তদন্ত হওয়া উচিত, প্রতিবাদ হওয়া উচিত, পদযাত্রাও হওয়া উচিত। কিন্তু আপনাদের conscience-কে একবার জিজ্ঞেস করুন – যাদের প্রথম সারিতে রেখে আপনারা হাঁটলেন, তাদের দেখতে পেলে রাহুল নিজে লজ্জিত হতো না তো? ইন্ডাস্ট্রি-র মার্কা মারা serial sexual offender – যিনি কোনো পাবলিক ইভেন্ট-এ গেলে মহিলারা তার কাছাকাছি যেতে নিরাপদ বোধ করেন না, যার জন্য প্রতিবাদ করতে আপনারাই কিছুদিন আগে পথে নেমেছিলেন – তিনি নিজের ইমেজ শুধরাতে ২ মিনিটের নিম্ন মানের অভিনয় করলেন, ভালো লাগলো আপনাদের? গর্ব বোধ করলেন? যে প্রোডিউসার-দের শর্ট-এ চিটিংবাজ বলে ডাকেন, যাদের ফাইনান্সিয়াল মিসকনডাক্ট-এর জন্য সমস্ত চ্যানেল থেকে কাজ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তারা নিজের relevance খুঁজে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে মিথ্যে কথা রটাচ্ছে। আপনারাও জানেন সেটা। যাই হোক। ইন্ডাস্ট্রি-তে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি-র স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন হওয়া উচিত – কিন্তু গা বাঁচানোর আর পার্সোনাল অ্যাটাক আর নিজের পার্সোনাল এজেন্ডা-কে এস্টাবলিশ করার র‍্যালি হওয়া উচিত নয়। এটা আপনারাও জানেন – হয়তো ভেবে দেখেননি, তাই একটু ভাবতে অনুরোধ করলাম। তারপর আপনাদের যা ঠিক মনে হয় সেটাই করবেন। ফেডারেশন আর EIMPA মিলে সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি নিয়ে গাইডলাইনস তৈরি করতে চায়, সাধুবাদ জানাই – নিশ্চয়ই সাধ্য মতো সহযোগিতা করব। বছর খানেক আগে যে লাইটম্যান অন জব ইলেকট্রিফায়েড হয়ে মারা গেছিল, বা যে ছাদ থেকে পড়ে গেছিল লাইট বাঁধতে গিয়ে, তারা-ও আমাদের ভাই। তাদের নিয়ে হয়তো নিউজ হয়নি, কিন্তু তাদেরও পরিবার আছে। প্রতিবাদ পার্সোনাল এজেন্ডা হয়ে গিয়ে দুজন মানুষের জীবনের দামের মধ্যে যাতে ইমপার্শিয়ালিটি ক্রিয়েট না করে, সেটা এনশিওর করা-ও আমাদের সবারই কর্তব্য। সব শেষ এ সহজের জন্য বলি – সহজ, তুমি আমাকে কখনও দেখোনি কিন্তু তুমি আমার খুব আদরের। আমি জানি তুমি অলরেডি এক ঝটকায় অনেকটা বড় হয়ে গেছো, আরও বড় যখন হবে তখন নিশ্চয়ই পুরো বিষয়টা বুঝবে। কারুর কথা শুনে নয়, নিজের বিচার বুদ্ধি দিয়েই বুঝবে। তখন হয়তো বুঝবে এই আঙ্কলটা তোমার বাবাকে আরো অনেকের মতনই ভালবাসত।”

 

লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ছেলে অর্কর নাম না নিয়ে একটি পাল্টাও পোস্ট করেছেন প্রযোজক রানা সরকারও।

 

 

 

Follow Us