Breast Cancer: পুরুষদের কি ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে?
Male Breast Cancer: পুরুষদের কী ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে? এতদিন যে ক্যানসারটিকে শুধুমাত্র মহিলাদের রোগ বলে ভেবে এসেছেন, তার শিকার কি পুরুষরাও? হ্যাঁ, সংখ্যায় কম হলেও পুরুষদের শরীরেও নিঃশব্দে থাবা বসাচ্ছে এই মারণব্যাধি। কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

ব্রেস্ট ক্যানসার বা স্তন ক্যানসার বললেই সাধারণত মহিলাদের কথা মাথায় আসে। কিন্তু পুরুষদেরও যে এই মারাত্মক ক্যানসার হতে পারে, তা কি জানেন? কথাটা শুনে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি। পুরুষদের শরীরে ক্যানসারের কোন লক্ষণগুলি দেখলে আগে থেকেই সতর্ক হওয়া দরকার।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্রেস্ট ক্যানসারের ৯৯ শতাংশ রোগীই মহিলা। পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার মাত্র ০.৫১ শতাংশ। সংখ্যাটা খুব সামান্য হলেও পুরুষদের ক্ষেত্রে এই রোগ যথেষ্ট বিরল এবং বিপজ্জনক। তাই সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়া আর চিকিৎসা শুরু হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কী বলছেন চিকিৎসকরা?
যথার্থ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. অভিজিৎ কোটবাগী জানিয়েছেন, পুরুষদের ব্রেস্ট ক্যানসারের বেশ কয়েকটি প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে। শরীরে এই লক্ষণগুলি দেখলে কখনওই অবহেলা করা ঠিক নয়:
- বুকে কোনও শক্ত পিণ্ড বা ডেলা (লাম্প) অনুভব করা।
- নিপল থেকে রক্ত বা অন্য কোনও তরল বেরিয়ে আসা।
- স্তনবৃন্ত ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া।
- বুকের আশেপাশের চামড়ায় কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বুকেই নয়, শরীরের আরও কয়েকটি লক্ষণের দিকে নজর রাখা দরকার। বগলের নীচে বা গলার কাছে ফুলে গেলে সতর্ক হতে হবে। এ ছাড়া, সারাক্ষণ খুব ক্লান্তি লাগা, কোনও কারণ ছাড়াই হাড়ে ব্যথা হওয়া, হঠাৎ করে অনেকটা ওজন কমে যাওয়া বা খাওয়ার ইচ্ছে একেবারেই চলে যাওয়া— এগুলোও ক্যানসারের বড় লক্ষণ হতে পারে।
পরিবারে আগে কারও ক্যানসার হয়ে থাকলে এই রোগের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেও ক্যানসারের ভয় থাকে। তাই নিয়ম করে হেলথ চেকআপ করা খুব জরুরি। বুকে ব্যথা না থাকলেও যদি কোনও শক্ত পিণ্ড বা ফোলা ভাব বুঝতে পারেন, তবে একটুও দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
ক্যানসারের মতো রোগ থেকে বাঁচতে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। চিকিৎসকদের মতে, রোজ নিয়ম করে ব্যায়াম করা, ওজন ঠিক রাখা এবং ধুমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকা শরীরের পক্ষে খুব ভালো। প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর জিনিস রাখুন এবং বাইরের প্যাকেটজাত বা ভাজাভুজি খাবার এড়িয়ে চলুন। শরীরে কোনও অস্বাভাবিক কিছু বুঝলেই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
