কেন ডিভোর্স হয়েছিল হৃত্বিক-সুজ়ানের!প্রাক্তন বৌমাকে নিয়ে কী বললেন রাকেশ রোশন?
হৃত্বিক রোশন এবং সুজান খান, বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি। যাঁদের সম্পর্ক এক সময় ছিল অনেকের কাছে ‘আদর্শ দম্পতির’ মতো। ছোটবেলা থেকেই একে অপরকে জানতেন এবং পরবর্তীতে ২০০০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন।

হৃত্বিক রোশন এবং সুজান খান, বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি। যাঁদের সম্পর্ক এক সময় ছিল অনেকের কাছে ‘আদর্শ দম্পতির’ মতো। ছোটবেলা থেকেই একে অপরকে জানতেন এবং পরবর্তীতে ২০০০ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের সম্পর্ক ছিল অনেকটা সিনেমার মতো। ছোটবেলার প্রেম পরিণতি পায় বিয়েতে। তাদের দুই ছেলে—রেহান ও হৃদান। যদিও এই সংসার খুব বেশি দিনের হয়নি।
২০১৪ সালে হৃত্বিক রোশন এবং সুজান খান তাঁদের ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। যা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। বলিপাড়ার সবাই রীতিমতো হতবাক হয়ে যায়। কিন্তু, কেন তাঁদের বিয়ে ভেঙেছিল, তার কোনও স্পষ্ট কারণ এখনও ধোঁয়াশা। এই বিচ্ছেদের পর, শোনা গিয়েছিল যে ২০১৭ সালে তাঁরা ফের একে অপরের কাছাকাছি আসছেন। আবার একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন এবং ছেলেদের নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলেন। এমনকি, অনেকেই মনে করেছিলেন তারা আবার বিয়ে করতে যাচ্ছেন। তবে, বাস্তবে সেই আশা পূর্ণ হয়নি এবং তারা দু’জনেই আলাদা আলাদা পথ বেছে নেন।
বর্তমানে, হৃত্বিক রোশন সাবা আজাদের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। তাঁদের বয়সের ফারাক অনেকটাই। অন্যদিকে, সুজান খানও আরসালান গনির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে রয়েছেন। তবে, তাদের সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। সম্প্রতি, হৃত্বিকের বাবা, পরিচালক রাকেশ রোশন, প্রাক্তন পুত্রবধূ সুজান খানের বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন এবং তিনি জানিয়েছেন,এখনও সুজান তাঁর পরিবারের অংশ। রাকেশ রোশন বলেন, “হৃত্বিক ও সুজান যা কিছু করেছেন, তা তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়। তবে আমার কাছে সুজান এখনও আমাদের পরিবারের একজন সদস্য।” তিনি আরও বলেন, “ওরা প্রেমে পড়েছিল, তাঁদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে, তবে সেটা তাঁদের সমাধান করতে হবে। আমাদের কাছে, সুজান এখনও আমাদের পরিবারের একজন সদস্য, যিনি আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন।”
রাকেশ রোশন আরও একটি মজার কথা শেয়ার করেন, তিনি বলেন, “হৃত্বিক এবং আমার মেয়ে আমাকে একটু ভয় পায়। আমি জানি না কেন! হয়তো আমি একটু শৃঙ্খলাপরায়ণ মানুষ।” তিনি আরও জানান, “এটা মানে এই নয় যে আমি বদমেজাজি। আমি খুব বকাঝকা বা চিৎকার-চেঁচামিচি করি না। আমি শৃঙ্খলা মেনে চলি, এবং এটা হয়তো হৃত্বিকের ওপর একটা প্রভাব ফেলেছে। যখন সে ছোট ছিল, অনেক কিছুই সে আমায় ভয়ে বলত না, তবে এখন আমরা বন্ধুর মতো কথা বলি।”
রাকেশ রোশনের এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, তিনি নিজের পুত্রবধূ সুজানকে এখনও পরিবারের অংশ হিসেবে মনে করেন এবং তাঁদের সম্পর্কের বিচ্ছেদকে তিনি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখেন। এটি প্রমাণ করে যে, সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা অবিশ্বাস থাকলেও, পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা এবং সম্মান অপরিবর্তিত থাকে। তাঁদের সম্পর্কের এই জটিলতা এবং পরিবারের মধ্যের ভালবাসা বলিউডের একাধিক দৃষ্টান্তের মতো, যেখানে ব্যক্তিগত এবং পেশাদার জীবনের মধ্যে সুরক্ষা এবং সম্মান বজায় রাখা এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
