‘আমি নগ্ন হচ্ছি, আপনিও জামা-কাপড় খুলে ফেলুন!’ কোন কাণ্ড ঘটিয়েছেন সইফ আলি খান?
পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের এই কাল্ট সিনেমাটির কুড়ি বছর পার হতে চললেও, ছবিটির শুটিং ফ্লোরের নানা অজানা গল্প আজও শ্রোতাদের চমকে দেয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সইফ এমনই এক বিস্ফোরক ও মজাদার ঘটনার স্মৃতিচারণ করলেন, যেখানে খোদ পরিচালক তাঁকে ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ নগ্ন হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন!

‘ওমকারা’ ছবির সেই কুখ্যাত খলনায়ক ‘ল্যাংড়া ত্যাগী’-র চরিত্রটিকে কি সহজে ভোলা যায়? সইফ আলি খানের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা এবং কালজয়ী অভিনয় ছিল সেটি। পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের এই কাল্ট সিনেমাটির কুড়ি বছর পার হতে চললেও, ছবিটির শুটিং ফ্লোরের নানা অজানা গল্প আজও শ্রোতাদের চমকে দেয়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সইফ এমনই এক বিস্ফোরক ও মজাদার ঘটনার স্মৃতিচারণ করলেন, যেখানে খোদ পরিচালক তাঁকে ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ নগ্ন হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন!
হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়া-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সইফ জানান, ছবির একটি দৃশ্যের জন্য বিশাল ভরদ্বাজ তাঁকে আয়নার সামনে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে অভিনয় করতে বলেছিলেন। মিস্টার খানের স্বভাবসিদ্ধ রসিক মেজাজে তিনি পরিচালককে পাল্টা শর্ত দেন, “আপনি যদি নিজে নগ্ন হয়ে দৃশ্যটি পরিচালনা করেন, তবেই আমি নগ্ন হয়ে শুট করব!” স্বাভাবিকভাবেই বিশাল সেই প্রস্তাবে রাজি হননি, আর তাই শেষ মুহূর্তে বদলে যায় সেই দৃশ্যটি।
ঠিক কী ঘটেছিল ওমকারার সেটে? সইফ বলেন, “ছবির একটা দৃশ্যের কথা আমার খুব মনে পড়ে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটা লম্বা ডায়লগ বলার দৃশ্য ছিল। বিশাল জি হঠাৎ আমাকে এসে বললেন, ‘তুমি কি এই দৃশ্যটা পুরো নগ্ন হয়ে শুট করতে পারবে?’ আইডিয়াটা দারুণ রোমাঞ্চকর হলেও সেটে তখন প্রচুর মানুষের ভিড়, তাই আমি একটু দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম। আমি তখন ওঁকে সোজা বলি, ‘শুনুন, আপনি যদি নগ্ন হয়ে ডিরেকশন দেন, তবে আমি নগ্ন হয়েই শট দেব।’ উনি হেসে বললেন, ‘না ভাই, আমি পারব না।’ ব্যস, ওখানেই গল্প শেষ।”
তবে আজ এত বছর পর পেছনে ফিরে তাকিয়ে সইফের আফসোস, দৃশ্যটি ওভাবে শুট করলেই বোধহয় ভালো হতো। সইফের কথায়, “আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভাবলে মনে হয়, নগ্ন হয়ে শুট করতে আমার কোনও আপত্তি থাকত না। আসলে বিশাল তো পেছন থেকে সিলুয়েটে শুট করতেন। ওটা পর্দায় দেখতে দারুণ লাগত। তখন আমরা অনেক নতুন কিছু করার চেষ্টা করছিলাম, তাই এটা করলে একটা দারুণ ব্যাপার হত। সত্যি বলতে, আজ এমন প্রস্তাব পেলে আমি নিশ্চিত রাজি হয়ে যেতাম।”
নগ্নতার চ্যাপ্টার বন্ধ হওয়ার পর, সেটের মধ্যেই শেষ মুহূর্তে পুরো দৃশ্যটির খোলনলচে বদলে দেন পরিচালক। সইফ খোলসা করেন, “আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আমার একটা দীর্ঘ সংলাপ বলার কথা ছিল—যেখানে ল্যাংড়া ত্যাগী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছে, ‘তুমি আমাকে বাহুবলী বানালে না, এবার আমি এর প্রতিশোধ নেব…’। কিন্তু শট নেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে বিশাল জি আমার কাছে এসে বললেন, ‘আমি চাই না তুমি কোনো ডায়লগ বলো। আমার মাথায় অন্য একটা চমৎকার আইডিয়া এসেছে।’”
বিশাল ভরদ্বাজের সেই উপস্থিত বুদ্ধি কীভাবে দৃশ্যটিকে আইকনিক করে তুলল, তা জানিয়ে সইফ বলেন, “পরিচালক আমাকে বললেন, ‘তুমি আয়নার সামনে দাঁড়াও। পেছন থেকে ট্রলিতে ক্যামেরা তোমার দিকে এগোবে। তোমার হাতে আমি একটা ভারী হাতুড়ি বা লোহার টুকরো দিচ্ছি। তুমি নিজের রাগে নিজেই ওই আয়নাটা ভেঙে চুরমার করে দেবে। আয়নাটা এমনভাবে ভাঙবে যাতে কাচের টুকরোয় তোমার মুখের বিভিন্ন অংশ খণ্ড খণ্ড হয়ে ধরা পড়ে। আর হাতুড়ি মারার চোটে তোমার হাত কেটে যে রক্ত বেরোবে, সেই রক্ত নিজের কপালে রাজতিলকের মতো লেপে দেবে। ব্যস, কোনও সংলাপের প্রয়োজন নেই।’”
সইফ বলেন, পরিচালকের এই আইডিয়া শুনেই তিনি রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েছিলেন। একটিমাত্র শটে, কোনও সংলাপ ছাড়াই ল্যাংড়া ত্যাগীর ভেতরের সমস্ত হিংস্রতা ও প্রতিশোধের আগুন ফুটিয়ে তুলেছিলেন বিশাল ভরদ্বাজ। সিনেমার ভাষায় একেই বোধহয় বলে খাঁটি ম্যাজিক!
