AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Arijit Singh Shreyan: চরম ডিপ্রেশনে গান ছাড়তে বসেছিলেন শ্রেয়ান! অরিজিতের এক পরামর্শেই বদলে গেল জীবন

Sa Re Ga Ma Pa winner: বয়সের সঙ্গে গলার স্বর বদলাতেই চরম মানসিক অবসাদ! গান বাজনাই ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন সারেগামাপা খ্যাত শ্রেয়ান। সেই কঠিন সময়ে কীভাবে তাঁর জীবনে ম্যাজিকের মতো কাজ করল অরিজিৎ সিংয়ের পরামর্শ? জানুন বিস্তারিত।

Arijit Singh Shreyan: চরম ডিপ্রেশনে গান ছাড়তে বসেছিলেন শ্রেয়ান! অরিজিতের এক পরামর্শেই বদলে গেল জীবন
কী বলেছেন তিনি?Image Credit: Pinterest
| Updated on: Nov 03, 2026 | 9:31 AM
Share

মনে পড়ে সেই ছোট্ট শ্রেয়ানকে? সারেগামাপা-র মঞ্চে যার মিষ্টি গলায় বুঁদ হয়ে থাকত গোটা বাংলা! আকাশছোঁয়া সেই খ্যাতির আড়ালে যে কতটা গভীর অন্ধকার লুকিয়ে থাকতে পারে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। গলার স্বর বদলে যাওয়ায় একটা সময় চরম হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন তরুণ গায়ক শ্রেয়ান ভট্টাচার্য (Shreyan Bhattacharya)। ভেবেছিলেন চিরকালের জন্য গানই ছেড়ে দেবেন। আর ঠিক সেই খাদের কিনারা থেকেই তাঁকে টেনে তোলেন খোদ অরিজিৎ সিং (Arijit Singh)। কীভাবে? সম্প্রতি ‘বাহ বাংলা’ পডকাস্টে সেই অজানা লড়াইয়ের কথাই শোনালেন সারেগামাপা লিটল চ্যাম্পস বিজয়ী শ্রেয়ান।

কেন ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলেন শ্রেয়ান?

বয়স তখন মাত্র ১২-১৩ বছর। নিয়ম মেনেই গলার স্বর বদলাতে শুরু করে। আর ঠিক তখনই শুরু হয় আসল সমস্যা। শ্রেয়ান জানান, “যখন ভোকাল চেঞ্জ হচ্ছে, তখন আগের সেই কনফিডেন্স পাচ্ছিলাম না। ক্রমশ ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম।” স্টেজে উঠে ঠিকমতো সাউন্ড ফিডব্যাক মিলত না। তার উপর ছোটবেলার সেই বিশাল পরিচিতি ধরে রাখার একটা মারাত্মক চাপও ছিল। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত মানসিক অবসাদে তলিয়ে যান তিনি। অবস্থা এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, গানবাজনা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

অনেক সময় ছোট শিল্পীদের উপর পরিবারের বিশাল প্রত্যাশার চাপ থাকে। কিন্তু শ্রেয়ানের ক্ষেত্রে তাঁর পরিবার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভয়েস চেঞ্জের এই সংবেদনশীল সময়ে টানা গান গাইলে গলার স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এই কথা ভেবেই তাঁর বাবা-মা সচেতনভাবে তাঁকে লাইভ শো থেকে দূরে রাখেন। শ্রেয়ান বলেন, “মা-বাবা প্রথম থেকেই এটাকে খুব পজিটিভ ভাবে নিয়েছে আর আমাকে খুব কনফিডেন্স দিয়েছে।”

কীভাবে অন্ধকার থেকে আলোর দিশা দেখালেন অরিজিৎ?

শ্রেয়ানের জীবনে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছিল অরিজিৎ সিংয়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। অরিজিতের নিজের ছবি ‘সা’-তে অভিনয় এবং গান গাওয়ার ডাক পান শ্রেয়ান। রেকর্ডিংয়ের জন্য গিয়েছিলেন মুম্বইয়ে অরিজিতের নিজের স্টুডিয়োতে। সেই অভিজ্ঞতাই বদলে দেয় তাঁর ভাবনার জগৎ। শ্রেয়ানের কথায়, “দাদা তখন খাচ্ছিলেন। উঠে এসে আমার সঙ্গে এমনভাবে কথা বললেন, যেন আমি ওঁর পাড়ারই কোনও ছেলে! একজন মানুষ কতটা খাঁটি হলে যে এমন সুন্দর মিউজিক তৈরি করতে পারেন, সেটা দাদাকে খুব কাছ থেকে দেখে বুঝেছিলাম।”

গলার স্বর বদলানো নিয়ে শ্রেয়ানের মনে যে ভয় ঢুকেছিল, তা এক নিমেষে দূর করে দেন খোদ অরিজিৎ। গায়কের স্পষ্ট পরামর্শ ছিল, ভয়েস চেঞ্জের এই বিষয়টাকে একদমই মাথায় না নিতে। বরং এই সময়টায় বেশি রিয়্যালিটি শো না করে নিজের রেওয়াজে মন দিতে বলেছিলেন তিনি। অরিজিতের ওই কয়েকটা কথাই শ্রেয়ানকে নতুন করে লড়াই করার সাহস জোগায়।

নতুন রূপে ফেরা অরিজিতের পরামর্শে নতুন করে পথ চলা শুরু। বর্তমানে মুম্বই থেকে মিউজিক প্রোডাকশনের উপর একটি কোর্স শেষ করেছেন শ্রেয়ান। এখন তিনি শুধু গায়ক নন, স্বাধীনভাবে গান তৈরি করছেন। বাজাচ্ছেন নানা বাদ্যযন্ত্রও। ছোটবেলার সেই সমস্ত বাধা পেরিয়ে আজ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে এক নতুন রূপে নিজেকে তৈরি করছেন শ্রেয়ান।

Follow Us