Udhayanidhi Stalin arrest: বিজয় না উদয়নিধি কাকে ভালোবাসেন তৃষা? গ্রেফতারির মাঝেই জল্পনা বাড়ালেন গায়িকা সুচিত্রা
Vijay Trisha: ডিএমকে নেতা উদয়নিধি স্টালিনের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত তামিল রাজনীতি। কিন্তু সেই বিতর্কের আবহেই নতুন করে ঘি ঢালল গায়িকা সুচিত্রার এক পুরনো সাক্ষাৎকার। বিজয়ের প্রেম থেকে শুরু করে তৃষা ও উদয়নিধির সম্পর্ক নিয়ে গায়িকার বিস্ফোরক দাবি এখন নেটপাড়ায় তুঙ্গে। কী বলেছেন গায়িকা?

তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক আর বিনোদন জগতের সীমানাটা বরাবরই বেশ ধোঁয়াশা। তবে ইদানীং সেই জল আরও ঘোলাটে হয়ে উঠেছে। এক জলবণ্টন ইস্যুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণনকে কেন্দ্র করে মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ডিএমকে নেতা তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্টালিন। কিন্তু এই গ্রেফতারির জল গড়াচ্ছে অনেকদূর। পুরো ঘটনার মাঝে আচমকাই নতুন করে আগুনে ঘি ঢেলেছে গায়িকা সুচিত্রার একটি পুরনো ও বিতর্কিত সাক্ষাৎকার। বিজয়, তৃষা এবং উদয়নিধির সম্পর্কের ত্রিপক্ষীয় সমীকরণ নিয়ে গায়িকার সেই বক্তব্য এখন ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ঘটনার সূত্রপাত তাঞ্জাভুরে ডিএমকে-র এক সভা থেকে। কাবেরী জলবণ্টন ইস্যু নিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন উদয়নিধি। ঠিক সেই সময়েই জনতা থেকে ‘তৃষা’ নাম নিয়ে স্লোগান উঠতেই উদয়নিধি এক আপত্তিকর মন্তব্য করে বসেন। তাতেই চরম ক্ষুব্ধ হয় বিজয়ের দল ‘টিভিকে’। এক মহিলার প্রতি অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে জাতীয় মহিলা কমিশন ও পুলিশের দ্বারস্থ হয় তারা। এর পরেই মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার করা হয় উদয়নিধিকে। অবশ্য সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে উদয়নিধি একে রাজনৈতিক রসিকতা বলে কটাক্ষ করেছেন এবং ডিএমকে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলেই দাবি করছে।
রাজনৈতিক এই শোরগোলের ঠিক মাঝখানেই নেটিজেনরা খুঁচিয়ে তুলেছেন গায়িকা সুচিত্রার এক পুরনো বয়ান। সেই সাক্ষাৎকারে সুচিত্রা দক্ষিণী সিনেজগতের এই ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলি নিয়ে বেশ কিছু অপ্রমাণিত দাবি করেছিলেন। গায়িকা সরাসরি বলেছিলেন, “আমি তৃষাকে একদম পছন্দ করি না। আমি নিরপেক্ষভাবেই বলব, কোনও পক্ষপাতিত্ব করব না। বিজয়কে আমি খুব পছন্দ করি। আমি কারও পক্ষ না নিয়ে সততার সঙ্গে আমার মতামত দেব।” বিজয়ের জীবনধারা ও রাজনীতি নিয়ে সুচিত্রা বলেন, “সফল মানুষেরা যখন একাকী হয়ে পড়েন, তখন তাঁদের জীবনে ক্ষতিকর প্রভাব বা পরজীবী প্রবেশ করে। বিজয় নিজের বাবা-মা এবং স্ত্রীর থেকে দূরত্ব তৈরি করে নিজেকে নিঃসঙ্গ করে ফেলেছেন। তিনি একা, কিন্তু এখনও কোনও আত্মপর্যালোচনা করেননি। এর মধ্যে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন; সত্যি বলতে, রাজনীতিতে তাঁকে পথ দেখানোর জন্য তাঁর বাবা চন্দ্রশেখরের প্রয়োজন। তা না হলে রাজনীতিতে তিনি কিছুই হাসিল করতে পারবেন না।”
তবে সুচিত্রার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা অংশটি ছিল সম্পর্কের টানাপোড়েন সংক্রান্ত। তিনি সরাসরি দাবি করেছিলেন, “বিজয় হয়তো তৃষাকে ভালোবাসেন, কিন্তু তৃষা ভালোবাসেন উদয়নিধি স্টালিনকে! সত্যি বলতে, উদয়নিধি স্টালিনের জন্যই তৃষা ও বরুণ মানিয়ানের বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। উদয়নিধি তাঁদের বিয়েটা সহ্য করতে পারছিলেন না।” যদিও এই সমস্ত মন্তব্যের সপক্ষে গায়িকা কোনও শক্তপোক্ত তথ্যপ্রমাণ দিতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে উদয়নিধির গ্রেফতারি এবং একইসঙ্গে সুচিত্রার এই পুরনো ও অপ্রমাণিত উক্তিগুলি ভাইরাল হওয়ায় নেটদুনিয়ায় চর্চার উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
