Bigg Boss Bangla: ‘আপনারও তো মেয়ে আছে!’ তনুশ্রীর সঙ্গে ‘খারাপ’ ভাষায় কথা বলায় ভরতকে তুলোধনা সৌরভের, রেহাই পেলেন না বাকিরাও
Sourav Ganguly: ‘বিগ বস বাংলা’র অন্দরে তনুশ্রী রায় দাসের সঙ্গে খারাপ ভাষায় কথা বলে এবার ‘দাদার দরবার’-এ জোরদার তোপের মুখে পড়লেন ক্যাপ্টেন ভরত কল। ভরতের আচরণে ক্ষোভ উগরে দিয়ে খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিলেন, রেহাই পেলেন না প্রতিবাদ না করা অন্য প্রতিযোগীরাও।

বিগ বসের ঘর মানেই নানা চরিত্রের সমাহার আর সেই সঙ্গে উত্তেজনার পারদ চড়া। কিন্তু তাই বলে শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে? এমনটা মোটেই বরদাস্ত করলেন না শোয়ের সঞ্চালক খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। উইকেন্ডের ‘দাদার দরবার’-এ এবার শুরু থেকেই মেজাজ চড়া। বহু মহিলার সামনে তনুশ্রী রায় দাসের সঙ্গে কুরুচিকর ভাষায় কথা বলার জন্য সরাসরি ভরত কলকে তুলোধনা করলেন ‘দাদা’।
সৌরভ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভরতের এই ব্যবহারে শুধু তিনি নন, ক্ষুব্ধ হয়েছেন দর্শকও। ক্যাপ্টেন ভরতকে বাস্তব মনে করিয়ে দিয়ে দাদা বলেন, ভরত কলের নিজের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তনুশ্রীরও রয়েছে এক মেয়ে। তা ছাড়া বিগ বসের অন্দরে একাধিক মহিলা প্রতিযোগী রয়েছেন। তার পরেও এক জন মহিলাকে উদ্দেশ করে কীভাবে এই ধরনের ভাষা প্রয়োগ করতে পারলেন তিনি? কড়া সুরে মহারাজের সংযোজন, “আমার এটা একদম ভাল লাগেনি। দেশ-বিদেশের বহু বাঙালির কাছে এই শো আমি পৌঁছে দিই। প্রত্যেকে অবাক হয়েছেন। কী শো বানাচ্ছি আমরা? কী মেসেজ দিচ্ছি দর্শকদের?”
শুধু ভরত একা নন, সৌরভের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন সহ-প্রতিযোগীরাও। বিশেষ করে অভিনেত্রী মনামী ঘোষের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তিনি। এক জন নারী হয়েও কেন মনামী এই ঘটনার তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ করলেন না, জানতে চান সৌরভ। আত্মপক্ষ সমর্থনে মনামী জানান, ঝামেলার সময়ে তিনি বিষয়টির গভীরতা ঠিক বুঝে উঠতে পারেননি। পরে অবশ্য তিনি ভরতকে বুঝিয়ে বলেছিলেন যে ওই ভাষা ব্যবহার করা উচিত হয়নি। একই সুর আরেক প্রতিযোগী সৃজলার গলাতেও। তিনি দাবি করেন, সঙ্গে সঙ্গে না বললেও পরে তিনি ভরতকে ভুল ধরিয়ে দিয়েছিলেন। তবে ঘটনায় যারা প্রতিবাদ না করে দাঁড়িয়ে হাসছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককেই বকা দেন সৌরভ।
পুরো ঘটনা নিয়ে তনুশ্রী তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তনুশ্রীর বক্তব্য, শুরু থেকে ভরতের প্রতি তাঁর কোনও রাগ ছিল না। তিনি যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা মেনে নিতেও তাঁর আপত্তি ছিল না। তবে তাঁকে মূল ঘর থেকে ডাগ আউটে পাঠানোর পর তিনি দ্বিধায় পড়ে যান যে ভেতরের কাজকর্ম তিনি করবেন কি না। তনুশ্রী বলেন, বিগ বসের ঘরে তিনি আগে থেকে কাউকে চিনতেন না, সবাইকে বোঝার চেষ্টা করছিলেন। তনুশ্রীর কথায়, “প্রথম দিন থেকেই ভরত কলের মনে আমাকে নিয়ে অদ্ভুত ভাবনা তৈরি হয়েছিল। আমাকে কোনও কাজ না দিয়ে পরের দিন থেকে বলা শুরু করে দিলেন, উনি বলেছেন তাই করতে হবে, কারণ উনি ক্যাপ্টেন!” তনুশ্রী আরও যোগ করেন, ভালো ভাবে কথা বললে তিনি সব কাজ করবেন, কিন্তু খারাপ আচরণ কোনও ভাবেই মানবেন না। সেই উত্তপ্ত মুহূর্তে কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াননি বলে জানান তনুশ্রী, পরে এসে শান্ত করতে চেয়েছিলেন মাত্র। দাদার দরবারে ক্ষমা চান ভরত।
ঠিক কী ঘটেছিল বিগ বসের ঘরে?
ঘটনার সূত্রপাত বাথরুম পরিষ্কারের দায়িত্ব আর ঘরের নিয়মকানুন নিয়ে। নিয়মমাফিক তনুশ্রী-সহ চার প্রতিযোগীকে মূল ঘরের বাইরে ‘ডাগআউট হাউজে’ পাঠিয়ে দেন ক্যাপ্টেন ভরত। তনুশ্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি যেহেতু মূল ঘরে থাকছেন না, তাই ভেতরের কাজ করবেন না। এতেই মেজাজ হারান ভরত। তনুশ্রীকে বাথরুম পরিষ্কার করার কড়া নির্দেশ দিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, কাজ না করলে শৌচালয়ে ঢুকতে দেওয়া হবে না। এমনকী তিনি এও বলে বসেন, বাথরুমে যেতে না পারলে তনুশ্রী যেন ঘরের ভেতর খাটের পাশেই শৌচকর্ম সারেন! ক্যামেরার সামনে এমন অপমানে ফেটে পড়েন তনুশ্রী। পাল্টা তর্কে জড়ান দু’জনে। এই চরম বাদানুবাদের জেরেই ‘দাদার দরবার’-এ কড়া জবাবদিহির মুখে পড়তে হয় ভরতকে।
