অমিতাভের জন্য ভিটেমাটি বন্ধক রাখতে হয়েছিল পরিচালককে! কারণ জানেন?
ঠিক এই সময় অভিনেতা প্রাণের পরামর্শে 'বম্বে টু গোয়া' ছবির একটি ফাইট সিন দেখে অমিতাভকে পছন্দ করেন মেহরা। কিন্তু ছবির লগ্নিকারীরা বেঁকে বসলেন। ধর্মেন্দ্রর বদলে একজন 'ফ্লপ' নায়ককে মেনে নিতে চাননি ডিস্ট্রিবিউটররা। জেদ বজায় রাখতে প্রকাশ মেহরা নিজের বাড়ি ও স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেন।

বলিউডের ইতিহাসে ‘জঞ্জির’ (Zanjeer) কেবল একটি সিনেমা নয়,ছবিকে জড়িয়ে রয়েছে অজস্র গল্প। এই ছবি তৈরির নেপথ্যে যে হাড়হিম করা লড়াই ছিল, তা হয়তো আজ অনেকেরই অজানা। যে অমিতাভ বচ্চনকে ছাড়া আজ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস অসম্পূর্ণ, সেই বিগ বি-র কাস্টিং নিয়ে ঘোর আপত্তি ছিল স্বয়ং ছবির প্রযোজকদের! অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, ছবি শেষ করতে নিজের বাড়ি এবং স্ত্রীর গয়না পর্যন্ত বন্ধক রাখতে হয়েছিল পরিচালক প্রকাশ মেহরাকে।
সালটা ১৯৭২। ধর্মেন্দ্র ‘সমাধি’ সুপারহিট হওয়ার পর প্রকাশ মেহরা নতুন কিছু করতে চাইছিলেন। ধর্মেন্দ্রর কাছ থেকেই তিনি ৩৫০০ টাকায় সেলিম-জাভেদের লেখা একটি দুর্ধর্ষ চিত্রনাট্য কিনে নেন। কিন্তু সময়ের অভাবে ধর্মেন্দ্র কাজ করতে পারছিলেন না। এরপর রাজকুমার থেকে দেব আনন্দ— অনেক তারকাকেই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। দেব আনন্দের আপত্তি ছিল ছবিতে গান নেই কেন, আর রাজকুমার চেয়েছিলেন শুটিং হোক হায়দরাবাদে। কিন্তু প্রকাশ মেহরা ছিলেন নাছোড়বান্দা, তিনি বম্বের পুলিশের গল্প বম্বেতেই শুট করতে চেয়েছিলেন।
ঠিক এই সময় অভিনেতা প্রাণের পরামর্শে ‘বম্বে টু গোয়া’ ছবির একটি ফাইট সিন দেখে অমিতাভকে পছন্দ করেন মেহরা। কিন্তু ছবির লগ্নিকারীরা বেঁকে বসলেন। ধর্মেন্দ্রর বদলে একজন ‘ফ্লপ’ নায়ককে মেনে নিতে চাননি ডিস্ট্রিবিউটররা। জেদ বজায় রাখতে প্রকাশ মেহরা নিজের বাড়ি ও স্ত্রীর গয়না বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করেন।
বাধা বিপত্তি পেরিয়ে যখন মুক্তি পায় ছবিটি তখন ছবি ঘিরে দর্শকদের উত্তেজনা ছিল দেখার মত। ছবির ভেতরেও ছিল একই রকম উত্তেজনা। খাকি উর্দিতে গম্ভীর বিজয় (অমিতাভ) যখন থানায় ঢুকে সপাটে লাথি মেরে শের খানের (প্রাণ) চেয়ার সরিয়ে দিয়ে বলেন— “এটা পুলিশ স্টেশন, তোমার বাবার ঘর নয়”, তখন দর্শক প্রথমবার দেখল এমন এক নায়ককে, যে রোমান্স নয় বরং প্রতিবাদ করতে জানে। পরে সিটির আওয়াজে গমগম করছিল সিনেমা হল।
তবে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে কিন্তু ‘জঞ্জির’ একদমই চলেনি। চারদিকে যখন ফ্লপ তকমা লেগে গিয়েছে, তখন হতাশায় অমিতাভ বচ্চনের ধুম জ্বর এসে গিয়েছিল। প্রকাশ মেহরা সব হারানোর ভয়ে ওরলি সি ফেস-এ গিয়ে বসে থাকতেন একা। কিন্তু আচমকাই কলকাতা থেকে একটি ফোন সব বদলে দিল। জানা গেল, কলকাতার প্রেক্ষাগৃহের বাইরে দর্শকদের লম্বা লাইন! ধীরে ধীরে সেই ঢেউ আছড়ে পড়ল গোটা দেশে। রাতারাতি পাল্টে গেল অমিতাভের ভাগ্য, জন্ম নিল বলিউডের কালজয়ী ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’।
