খিদের চোটে প্রাণওষ্ঠাগত উত্তম-সুপ্রিয়ার! প্যারিসে গিয়ে কোন বিপাকে পড়েছিলেন জুটি?
বরং চলচ্চিত্র উৎসব মিটতেই উত্তমকে বিদেশ ভ্রমণে সঙ্গ দেন সুপ্রিয়া। সুপ্রিয়া তাঁর আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছিলেন এই বিদেশ সফরের কথা। যা কিনা অম্লমধুর স্মৃতিতে সাজানো। তবে লন্ডন পেরিয়ে উত্তম-সুপ্রিয়া যখন প্য়ারিসে পৌঁছলেন, সেখানেই এমন এক ঘটনার সাক্ষী হন দুজনে। যা আমৃত্য মনে রেখে দিয়েছিলেন উত্তম ও সুপ্রিয়া।

উত্তম কুমারের প্রথম বিদেশে যাওয়ার সুযোগ আসে সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরেই। সালটা ১৯৬৬। সে বছর বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্য়ালে নায়ক দেখানো হয়েছিল। আর সেই কারণেই বার্লিনে উড়ে গিয়েছিলেন উত্তম। কিন্তু বার্লিনে আটকে থাকেননি। সুযোগ পেয়ে ঘুরে বেড়িয়ে ছিলেন লন্ডন, প্য়ারিস, জুরিখ, রোম। নাহ, একা নয়। বরং চলচ্চিত্র উৎসব মিটতেই উত্তমকে বিদেশ ভ্রমণে সঙ্গ দেন সুপ্রিয়া। সুপ্রিয়া তাঁর আত্মজীবনীতে তুলে ধরেছিলেন এই বিদেশ সফরের কথা। যা কিনা অম্লমধুর স্মৃতিতে সাজানো। তবে লন্ডন পেরিয়ে উত্তম-সুপ্রিয়া যখন প্য়ারিসে পৌঁছলেন, সেখানেই এমন এক ঘটনার সাক্ষী হন দুজনে। যা আমৃত্য মনে রেখে দিয়েছিলেন উত্তম ও সুপ্রিয়া। প্যারিসের মতো প্রেমের শহরের গিয়ে যে এমনটা ঘটবে, তা আন্দাজও করতে পারেননি তিনি।
কী ঘটেছিল উত্তম-সুপ্রিয়ার সঙ্গে?
উত্তম- সুপ্রিয়া লন্ডন থেকে অনেক সকালেই প্লেনে উঠেছিলেন প্যারিসের উদ্দেশে। প্লেন লেট হওয়ার কারণে, প্যারিস পৌঁছতে প্রায় বিকেল হয়ে গিয়েছিল। খিদের চোটে তখন দুজনেরই পেটে ইঁদুর দৌঁড়। প্লেনে দেওয়া ব্রেকফাস্ট হজম হয়ে তখন গায়েব। প্লেন থেকে নেমে ঝটপট গাড়ি নিয়ে হোটেলে রওনা দিলেন উত্তম-সুপ্রিয়া। ভেবেছিলেন, হোটেলে ঢুকেই কিছু একটা খেয়ে ফেলবেন। কিন্তু অর্ডার করতেই রুম সার্ভিস, ঘরে নিয়ে আসলেন ব্রেড স্টিক আর হ্যামের কয়েকটা টুকরো। খাদ্যরসিক উত্তম, প্লেটের উপর এসব দেখে একেবারেই হতাশ। তৎক্ষণাৎ সুপ্রিয়াকে বলে উঠলেন, চলো বেণু, বাইরে বেরিয়ে রাস্তায় কিছু খেয়ে নিই।
যেমন ভাবনা তেমনি কাজ। সূর্য তখন অস্ত যায় যায়। হোটেল থেকে বেরিয়ে একটু হাঁটতেই চোখের সামনে আইফেল টাওয়ার। খিদেয় তখন প্রাণওষ্ঠাগত। কিন্তু আইফল টাওয়ার দেখে কিছুটা থমকে গেলেন উত্তম-সুপ্রিয়া। তাকিয়ে থাকলেন হতবাক হয়ে। উত্তমের হাতে তখন সুপ্রিয়ার হাত। একটু থমকে গিয়ে আবার হাঁটা শুরু। খোঁজ শুরু ভাল রেস্তোরাঁর।
প্যারিসের রাস্তার ধারে ধারে নানারকম ক্যাফে। সেরকমই একটাতে ঢুকে পড়লেন সুপ্রিয়া ও উত্তম। রেস্তোঁরারকর্মীরা কেউই, ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ্য নয়। তাই হাতের ইশারায় মেনু কার্ড দেখিয়ে দুজনেই স্যুপ এবং হালকা খাবার অর্ডার করা হল। কেননা, এক হাঁটাহাঁটি ঝক্কির পর খিদে মরে গিয়েছিল দুজনের। তারপর প্লেন জার্নির ধকল। কোনও রকমে সেই খাবার খেয়ে ফের হাঁটতে হাঁটতে হোটেলে ফেরা। প্যারিসের আলোআঁধারির রাস্তায় হাঁটছেন উত্তম-সুপ্রিয়া। উত্তমের পরনে লং কোট, মাথায় হ্যাট। আর সুপ্রিয়া পরেছিলেন শাড়ি আর ওভার কোট। আইফেল টাওয়ারের ঠিক আগে এক স্ট্রিট সিঙ্গার তখন ভালোবাসার গান ধরেছেন… লা ভিয়ে এন রোজ…’
