AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Uttam Kumar: এক নায়িকার ফোনেই রাতারাতি মুম্বইয়ে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন উত্তম! তারপরই করলেন জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল

Uttam Kumar Jhankar movie: ছয়ের দশকের বলিউডের এক নম্বর ও জনপ্রিয় নায়িকা আশা পারেখও নাকি মনে-প্রাণে পছন্দ করতেন মহানায়ককে। বিভিন্ন ফিল্মি ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে বহুবার উত্তমের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। যদিও আশা সেভাবে বাংলা ছবিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি, তবে ছয়ের দশকের এমন এক ঘটনা ঘটেছিল যা ভারতীয় সিনেপ্রেমীদের চমকে দিয়েছিল।

Uttam Kumar: এক নায়িকার ফোনেই রাতারাতি মুম্বইয়ে গিয়ে হাজির হয়েছিলেন উত্তম! তারপরই করলেন জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল
| Edited By: | Updated on: Oct 15, 2026 | 8:41 PM
Share

বাঙালি মাত্রই উত্তম-সুচিত্রা ম্যাজিকে মজে থাকা এক চিরন্তন নস্ট্যালজিয়া। টলিউডের গণ্ডি পেরিয়ে মহানায়ক উত্তম কুমারের স্টারডম যে সেকালে মুম্বইয়ের অন্দরেও প্রবল প্রভাব ফেলেছিল, তা অনেকেরই অজানা নয়। সুচিত্রা সেন কিংবা সুপ্রিয়াদেবী তো বটেই, ছয়ের দশকের বলিউডের এক নম্বর ও জনপ্রিয় নায়িকা আশা পারেখও নাকি মনে-প্রাণে পছন্দ করতেন মহানায়ককে। বিভিন্ন ফিল্মি ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে বহুবার উত্তমের অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন তিনি। যদিও আশা সেভাবে বাংলা ছবিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেননি, তবে ছয়ের দশকের এমন এক ঘটনা ঘটেছিল যা ভারতীয় সিনেপ্রেমীদের চমকে দিয়েছিল। বলা ভালো, এক দুর্দান্ত স্বপ্নের বীজ বুনেও তা শেষ পর্যন্ত অসমাপ্ত থেকে যায়।

সেকালে নানা গসিপ ম্যাগাজিনের পাতা ও অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, আচমকা এক ফোন পেয়েছিলেন মহানায়ক উত্তম কুমার। আর সেই ফোনের নির্দেশেই নাকি রাতারাতি কলকাতা ছেড়ে বম্বে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। ফোনটি করেছিলেন খোদ আশা পারেখের ম্যানেজার।

মূলত সেই সময়েই আশা পারেখ ও উত্তম কুমারকে জুটি করে একটি হিন্দি ছবি তৈরির বড়সড় পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বম্বের একাধিক স্টুডিওতে ছবির খাতিরে বিশেষ ফটোশুটও করেন উত্তম ও আশা। ক্যামেরার সামনে দুজনের সেই রোম্যান্টিক পোজ, কিংবা উত্তমের কাঁধে আশার ছিমছাম ছবি সেকালের ম্যাগাজিনগুলোতে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। ছবির নাম ঠিক হয়েছিল ‘ঝংকার’। এই প্রজেক্টে উত্তম-আশা ছাড়াও রাজেন্দ্র নাথ, গিরিধারি এবং তবসুমের মতো পরিচিত বলিউড অভিনেতাদের যুক্ত করার কথা ছিল। ছবির বেশ কিছু দৃশ্যের শুটিংও সম্পন্ন হয়েছিল। আর এটাই হতে চলেছিল উত্তম কুমারের কেরিয়ারের প্রথম হিন্দি ছবি।

সব ঠিকঠাক এগোলেও আচমকাই ছবিটির কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। গসিপ ও ইন্ডাস্ট্রির ফিসফাস অনুযায়ী, প্রযোজক সংক্রান্ত জটিলতা ও আর্থিক টানাপোড়েনের ফলেই ছবিটির কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হয়েছিল। অসম্পূর্ণ রয়ে যায় সেই প্রজেক্ট। আর কোনও উপায় না দেখে নিরাশ মনে মহানায়ক ঝটপট বম্বে ছেড়ে ফিরে আসেন নিজের শহর কলকাতায়। শোনা যায়, এই ছবি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দারুণ কষ্ট পেয়েছিলেন আশা পারেখ নিজেও, কারণ তিনি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে উত্তমের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছিলেন। এই ‘ঝংকার’ ছবিটি ১৯৫৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কালজয়ী ছবি ‘ইন্দ্রাণী’র হিন্দি রূপান্তর। কারণ, ‘ইন্দ্রাণী’ ছবির স্টাইলেই আশার সঙ্গে ফটোশুট হয়েছিল উত্তমের।

পরবর্তীকালে মুক্তি পাওয়া উত্তম কুমারের প্রথম হিন্দি ছবি ‘ছোটি সি মুলাকাত’-এর থেকে চিত্রনাট্যের বিচারে ‘ঝংকার’ অনেক বেশি এগিয়ে ছিল। বক্স অফিসে ‘ছোটি সি মুলাকাত’ ডাহা ফ্লপ করায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন মহানায়ক। কিন্তু প্রযোজকের জটিলতা কাটিয়ে বক্স অফিসের ‘লক্ষ্মী’ খ্যাত আশা পারেখের সঙ্গে যদি ‘ঝংকার’ মুক্তি পেত, তবে হয়তো বলিউডের মাটিতে প্রথম থেকেই রাজত্ব করতে পারতেন উত্তম কুমার।

Follow Us