নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে শাহরুখকে হেনস্থা! ২ ঘণ্টা ধরে কী ঘটে? ফাঁস তথ্য
শাহরুখের সেই অসহায়তার কথা শুনে শুক্লা নেপথ্যে থেকে প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ করেন। যদিও তিনি ঠিক কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তা খোলসা করেননি, তবে তাঁর হস্তক্ষেপে দ্রুত বরফ গলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহরুখ আবার ফোন করে জানান যে সমস্যা মিটে গিয়েছে এবং তিনি ছাড়া পেয়েছেন।

বিশ্বজুড়ে তাঁর কোটি কোটি ভক্ত, তিনি বলিউডের ‘বাদশা’। কিন্তু ৯/১১ পরবর্তী আমেরিকায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি আর সন্দেহের আবহে সেই গ্ল্যামারও কোনও রক্ষাকবচ হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বছর কয়েক আগে নিউ ইয়র্কের নেব্রাস্কা বিমানবন্দরে শাহরুখ খানকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সম্প্রতি আবারও সামনে এনেছেন বিসিসিআই সহ-সভাপতি তথা কংগ্রেস সাংসদ রাজীব শুক্লা।
একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজীব শুক্লা জানান, সেই দিনটি ছিল জন্মাষ্টমী। আচমকাই শাহরুখের ফোন আসে তাঁর কাছে। অভিনেতা জানান, তাঁকে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বিমানবন্দরে আটকে রাখা হয়েছে। কোনও কারণ না জানিয়েই তাঁকে আলাদা একটি ঘরে বসিয়ে রাখা হয়েছিল এবং তাঁর মালপত্র তল্লাশি করা হচ্ছিল। শুক্লা বলেন, “তৎকালীন সময়ে আমেরিকার নিরাপত্তা প্রোটোকল ছিল অত্যন্ত কঠোর। শুধুমাত্র নামের ভিত্তিতে অনেককে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো।”
শাহরুখের সেই অসহায়তার কথা শুনে শুক্লা নেপথ্যে থেকে প্রভাবশালী মহলে যোগাযোগ করেন। যদিও তিনি ঠিক কার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তা খোলসা করেননি, তবে তাঁর হস্তক্ষেপে দ্রুত বরফ গলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহরুখ আবার ফোন করে জানান যে সমস্যা মিটে গিয়েছে এবং তিনি ছাড়া পেয়েছেন।
পরবর্তীকালে সেই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন শাহরুখ খান। তিনি জানিয়েছিলেন, বিনা কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটি বদ্ধ ঘরে আটকে থাকা তাঁর কাছে অত্যন্ত অপমানজনক ছিল। শাহরুখের কথায়, “যখন আপনি বিশ্বজুড়ে ভালোবাসা পান, তখন বিমানবন্দরে কেবল নামের কারণে এমন আচরণ সত্যিই মেনে নেওয়া কঠিন।”
তবে এত বড় মাপের তারকা হওয়া সত্ত্বেও এই ঘটনা নিয়ে মনের মধ্যে কোনও ঘৃণা পুষে রাখেননি শাহরুখ। তিনি উদারতা দেখিয়ে বলেছিলেন, “সেই সময় গোটা বিশ্বের পরিস্থিতিই ছিল ভয়ের। ভারতেও যদি এমন কোনও বড় হুমকি থাকত, তবে আমরাও আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একইভাবে জোরদার করতাম।” শাহরুখ স্পষ্ট করেছিলেন যে, তিক্ততা নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে বাস্তবতাকে গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিশ্বখ্যাত একজন শিল্পীর সঙ্গে এমন আচরণ সে সময় বিশ্বজুড়ে বর্ণবৈষম্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ‘অন্ধ’ প্রোটোকল নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। রাজীব শুক্লার স্মৃতিচারণ সেই বিতর্ককেই আবারও একবার উসকে দিল।
