AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

‘আমার শরীরে ২৫ শতাংশ বাঙালির রক্ত বইছে, তাই …!’ কোন কথা মনে করালেন হৃত্বিক?

শিকড়ের টানে কলকাতা থেকে মুম্বাই হৃতিকের এই বাঙালি সত্তার যোগসূত্র তাঁর ঠাকুরমা— ইরা রোশন। বিয়ের আগে যিনি ছিলেন কলকাতার মেয়ে ইরা মৈত্র। বিশ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিলোত্তমা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিল্লিতে। সেখানেই আলাপ প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে।

'আমার শরীরে ২৫ শতাংশ বাঙালির রক্ত বইছে, তাই ...!' কোন কথা মনে করালেন হৃত্বিক?
| Updated on: Jan 03, 2026 | 1:50 PM
Share

গ্রিক গড-এর মতো চেহারা, সুঠাম দেহ আর মায়াবী চোখ— এই দিয়েই তো গত আড়াই দশক ধরে বলিউড শাসন করছেন হৃতিক রোশন। কিন্তু এই সুপারস্টারের শরীরেও যে মিশে আছে ২৫ শতাংশ খাঁটি বাঙালির রক্ত, সে কথা কজন জানতেন? সম্প্রতি বছরের শুরুতে একগুচ্ছ ছবি পোস্ট করে হৃতিক নিজেই মনে করিয়ে দিলেন তাঁর শিকড়ের কথা। ক্যাপশনে লিখলেন, “বোধহয় এভাবেই আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্ত বইছে।”

শিকড়ের টানে কলকাতা থেকে মুম্বাই হৃতিকের এই বাঙালি সত্তার যোগসূত্র তাঁর ঠাকুরমা— ইরা রোশন। বিয়ের আগে যিনি ছিলেন কলকাতার মেয়ে ইরা মৈত্র। বিশ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে গান গাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিলোত্তমা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন দিল্লিতে। সেখানেই আলাপ প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে। সেই আলাপই পরে পরিণয়ে রূপ নেয়। সংগীতের সেই সুরের মূর্ছনা আজও যেন হৃতিকের প্রতিটি ছন্দে জীবন্ত।

‘ডুগগু’ নামের সেই ছোট্ট ছেলেটি পরিবারে ইরা ছিলেন বটগাছের মতো। হৃতিকের বাবা রাকেশ রোশনের ডাকনাম ছিল ‘গুড্ডু’। সেই নামের সঙ্গে মিলিয়ে আদরের নাতির নাম ‘ডুগগু’ রেখেছিলেন ঠাকুরমা ইরা-ই। মুম্বাইয়ের চাকচিক্যের মাঝেও নাতিকে তিনি বড় করেছিলেন বাঙালি আদব-কায়দায়। হৃতিক তাঁকে আদর করে ডাকতেন ‘ঠামি’। পিয়ানো বাজানো থেকে শুরু করে মাছের ঝোল দিয়ে ভাত মাখিয়ে খাওয়ানো— হৃতিকের শৈশব ছিল এক টুকরো বাংলাতেই ঘেরা।

কলকাতার সঙ্গে অদ্ভুত সমাপতন জানুয়ারি মাসটি হৃতিকের জীবনে সবসময়ই একটু বেশি স্পেশাল। এই মাসেই তাঁর জন্মদিন, এই মাসেই মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’। আর অদ্ভুতভাবে, তাঁর জীবনের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও ছিল এই তিলোত্তমার বুকেই। বাবা রাকেশ রোশন কিছুটা বাংলা বলতে পারলেও হৃতিকের জিভে সেই টান নেই ঠিকই, কিন্তু তাঁর রুচিতে আজও মিশে আছে ‘ঠামি’-র হাতের রান্না করা সেই মাছের স্বাদ।

স্মৃতির মিছিলে ইরা রোশন ২০০৫ সালে জীবনাবসান হয় ইরা রোশনের। শৈশবের সেই নিরাপদ আশ্রয় হারিয়ে গেলেও তাঁর স্মৃতিগুলো হৃতিক সযত্নে আগলে রেখেছেন। আজও যখন এই বলিউড তারকা বাঙালি সংস্কৃতির স্পর্শ পান, তাঁর রক্ত যেন চনমন করে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সেই স্বীকারোক্তি কেবল একটি ক্যাপশন নয়, বরং এক নাতির পক্ষ থেকে তাঁর ‘ঠামি’-কে দেওয়া এক পরম শ্রদ্ধাঞ্জলি।

৫২-তে পা রাখা হৃতিক বুঝিয়ে দিলেন, যতই তিনি বলিউডের ‘ডুগগু’ বা ‘গ্রিক গড’ হন না কেন, তাঁর হৃদয়ের একটা কোণ আজও সেই মৈত্র বাড়ির মেয়েটির জন্যই বরাদ্দ।