প্রাক্তন স্বামী অনুরাগের ছবি করে কেরিয়ার নষ্ট কল্কির! কোন ঘটনা সামনে আনলেন?
ছবিতে সাফল্য এলেও শুরুটা সহজ ছিল না। সাদা চামড়া আর বিদেশি লুকের জন্য চরম ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। কল্কি জানান, ‘দেব ডি’-র পর যখন ‘সাংহাই’ মুক্তি পায়, মানুষ তাঁর চেহারার ওপর আক্রমণ করেছিল। তাঁকে ‘রাশিয়ান মডেল’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁর দাঁত নিয়ে মজা করে বলা হত ‘বিগ টিথ’ বা ‘বাগস বানি টিথ’। কল্কির সাফ কথা, "ট্রোলিং তখন যেমন লাগত, এখনও তেমনই লাগে। তবে এখন বাউন্ডারি সেট করতে শিখে গিয়েছি।"

২০০৯ সাল। প্রাক্তন স্বামী অনুরাগ কাশ্যপের হাত ধরে বলিউডে পা রেখেছিলেন এক ছিপছিপে ফরাসি বংশোদ্ভূত তরুণী। তথাকথিত সুন্দরী নায়িকার সংজ্ঞা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছিলেন তিনি। আজও বলিউডের অন্যতম ‘বোল্ড’ এবং ‘অফবিট’ ছবি বললেই সবার আগে মাথায় আসে ‘দেব ডি’-র নাম। আগামী ২৪ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে ফের মুক্তি পাচ্ছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাসের এই মডার্ন রিটেলিং। আর সেই আবহেই নিজের ডেবিউ ফিল্ম নিয়ে বিস্ফোরক সব তথ্য ফাঁস করলেন অভিনেত্রী কল্কি কোয়েচলিন।
শরৎচন্দ্রের চন্দ্রমুখী মানেই চোখের সামনে ভাসে এক ট্র্যাজিক হিরোইন। কিন্তু অনুরাগের ছবিতে ‘ছন্দা’ ছিল একেবারেই অন্যরকম। এমএমএস স্ক্যান্ডালের শিকার হওয়া এক স্কুলছাত্রী, যে পরিস্থিতির চাপে হাই-প্রোফাইল এসকর্ট হয়ে যায়। কল্কি এক সাক্ষাৎকারে জানান, সেই সময় বহু অভিনেত্রী এই চরিত্রটি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের চোখে এই স্ক্রিপ্ট ছিল ‘নোংরা এবং অশ্লীল’। বিশেষ করে ফোন সেক্সের একটি দৃশ্য নিয়ে চরম আপত্তি ছিল সবার।
কল্কির কথায়, “অডিশনের সময় অনুরাগ আমায় বলেছিলেন, ছন্দার কাছে এই যৌনতা বা এসকর্ট জীবনটা একটা সাধারণ দিনের মতো। আমি সোফায় বসে একটা বালিশ নিয়ে খেলতে খেলতে খুব ক্যাজুয়াল ভঙ্গিতে যৌন উদ্দীপক সংলাপগুলো বলেছিলাম। ওটাই ছিল মাস্টারস্ট্রোক। অনুরাগ বুঝেছিলেন, আমি চরিত্রটাকে অতি-নাটকীয় না করে খুব বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারব।”
ছবিতে সাফল্য এলেও শুরুটা সহজ ছিল না। সাদা চামড়া আর বিদেশি লুকের জন্য চরম ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। কল্কি জানান, ‘দেব ডি’-র পর যখন ‘সাংহাই’ মুক্তি পায়, মানুষ তাঁর চেহারার ওপর আক্রমণ করেছিল। তাঁকে ‘রাশিয়ান মডেল’ বলে দেগে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি তাঁর দাঁত নিয়ে মজা করে বলা হত ‘বিগ টিথ’ বা ‘বাগস বানি টিথ’। কল্কির সাফ কথা, “ট্রোলিং তখন যেমন লাগত, এখনও তেমনই লাগে। তবে এখন বাউন্ডারি সেট করতে শিখে গিয়েছি।”
শুনলে অবাক হবেন, ‘দেব ডি’ হিট হওয়ার পরেও টানা দুই বছর কল্কির হাতে কোনও ছবির কাজ ছিল না। ইন্ডাস্ট্রি তাঁকে ঠিকঠাক গ্রহণ করতে সময় নিয়েছিল। সেই দুঃসময়ে থিয়েটারই ছিল তাঁর একমাত্র ভরসা। এরপর জোয়া আখতারের ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’ ছবির মাধ্যমে ফের বড় পর্দায় কামব্যাক করেন তিনি। মজার বিষয় হল, প্রথম ছবি ও প্রত্যাবর্তনের ছবি- দুটিতেই তাঁর নায়ক ছিলেন অভয় দেওল। পুরানো দিনের স্মৃতি হাতড়ে কল্কি বলেন, “আমি তখন জোয়াকে চিনতামই না। অনুরাগের বন্ধু হিসেবে ওর বাড়িতে কুকুরছানার সঙ্গে খেলতে গিয়েছিলাম। পরে যখন জোয়ার ছবিতে কাজ করার সুযোগ এল, তখন তাঁর আগের কাজগুলো দেখে বুঝলাম যে আমি কত বড় মাপের পরিচালকের সঙ্গে কাজ করতে চলেছি!” রিলিজের ১৭ বছর পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছে ‘দেব ডি’। ছন্দা আর দেবের সেই নেশাতুর রসায়ন নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মনে কতটা জায়গা করে নেয়, এখন সেটাই দেখার।
