২৬ দিন শুটিং হয়েও কেন বন্ধ হল অমিতাভ-কমল হাসানের ছবি?
এরপর ১৯৮৫ সালে বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘গ্রেফতার’ ছবিতে স্ক্রিন শেয়ার করেন তিনি। যে ছবিতে রজনীকান্তের একটি ক্যামিও রোলও ছিল। কিন্তু সিনেমা প্রেমীদের অনেকেরই অজানা যে, ‘গ্রেফতার’ ছবির আগে এই দুই মেগাস্টার ‘খবরদার’ নামের একটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে চলেছিলেন। তবে শুটিং বেশ কিছুটা হওয়ার পরও আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রজেক্ট।

প্রায় ৬৬ বছরের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তামিল, মালয়ালম, তেলুগু, কন্নড়, বাংলা এবং হিন্দি মিলিয়ে ২৩০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন দক্ষিণী সুপারস্টার কমল হাসন। দক্ষিণের পাশাপাশি বলিউডেও তাঁর সাফল্য আকাশছোঁয়া। ১৯৭৪ সালে ‘আয়না’ ছবির হাত ধরে হিন্দিতে ডেবিউ করলেও, বলিউডে তাঁকে আসল পরিচিতি এনে দেয় ব্লকবাস্টার রোম্যান্টিক ট্র্যাজেডি ‘এক দুজে কে লিয়ে’। এরপর ১৯৮৫ সালে বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে ‘গ্রেফতার’ ছবিতে স্ক্রিন শেয়ার করেন তিনি। যে ছবিতে রজনীকান্তের একটি ক্যামিও রোলও ছিল। কিন্তু সিনেমা প্রেমীদের অনেকেরই অজানা যে, ‘গ্রেফতার’ ছবির আগে এই দুই মেগাস্টার ‘খবরদার’ নামের একটি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে চলেছিলেন। তবে শুটিং বেশ কিছুটা হওয়ার পরও আচমকাই বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রজেক্ট।
টি রামা রাওয়ের পরিচালনায় এবং অতলুরি পূর্ণচন্দ্র রাওয়ের প্রযোজনায় তৈরি হওয়ার কথা ছিল ‘খবরদার’ ছবিটি। কিন্তু এমন কী ঘটেছিল যার জন্য বিগ বি এবং কমল হাসনের এই বহুপ্রতিক্ষিত ছবিটিকে চিরতরে ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দিতে হয়?
জানা যায়, ‘খবরদার’ ছবিটির বিষয়বস্তু ছিল ‘ইউথেনেশিয়া’ বা ইচ্ছামৃত্যু। ছবিতে অমিতাভ বচ্চন একজন ডাক্তারের ভূমিকায় এবং কমল হাসন একজন মুমূর্ষু রোগীর চরিত্রে অভিনয় করছিলেন। ছবির কাজ বেশ কিছুটা এগোনোর পর আচমকাই এর প্রযোজনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে এই প্রজেক্ট নিয়ে মুখ খুলেছিলেন স্বয়ং কমল হাসন। তিনি জানান, “সম্ভবত ছবিটির নাম বদলে ‘কানুন কে কাঠঘরে মে’ রাখার কথা ভাবা হচ্ছিল। আমি প্রায় ২০-২৫ দিন শুটিংও করেছিলাম। যেহেতু টি. রামা রাও বেশ দ্রুত কাজ করতেন, তাই ছবির প্রায় অর্ধেকের বেশি শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। আমার অংশের বেশিরভাগ কাজই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারপর কী যেন একটা হল… আমাকে জানানো হল যে নির্মাতাদের নাকি ছবিটি পছন্দ হচ্ছে না। যেহেতু আমি আমার পারিশ্রমিকের অর্ধেক টাকা ততক্ষণে পেয়ে গিয়েছিলাম, তাই আর কিছু বলিনি। এর কয়েক বছর পর নির্মাতারা প্রজেক্টটি নতুন করে শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ততদিনে আমার লুক বদলে গিয়েছিল এবং একজন অভিনেতা হিসেবে আমিও অনেকটাই পালটে গিয়েছিলাম। তাই পুরনো সেই গল্পে আর কাজ করতে রাজি হইনি।”
অমিতাভ বচ্চনই কি বন্ধ করিয়েছিলেন ছবি?
পরবর্তীকালে এই প্রজেক্ট নিয়ে এক বিস্ফোরক দাবি করেন জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা তথা অভিনেতা কে. ভাগ্যরাজ। তাঁর দাবি, এই ছবিটির কাজ বন্ধ হওয়ার পেছনে আসল কারণ ছিলেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন। অমিতাভের মনে হয়েছিল, ছবিতে কমল হাসনের চরিত্রটি তাঁর নিজের চরিত্রকে ছাপিয়ে যেতে পারে।
এক সাক্ষাৎকারে ভাগ্যরাজ বলেন, “ছবির প্রায় ১০,০০০ ফুট রিল শুটিং হয়ে যাওয়ার পর মূল সমস্যা দেখা দেয়। চিত্রনাট্য অনুযায়ী, কমল হাসনের চরিত্রটির মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল। গল্পের খাতিরে ওই চরিত্রের মৃত্যু হওয়াটাই ছিল ছবির আসল ইউএসপি (USP)। কিন্তু তেমনটা হলে, পর্দায় অমিতাভ বচ্চনের চরিত্রটি ম্লান হয়ে যেত এবং ছবির সমস্ত কৃতিত্ব পেতেন কমল হাসন। অন্যদিকে, গল্প বদলে যদি কমলের চরিত্রটিকে বাঁচিয়ে রাখা হত, তবে ছবির মূল আবেগটাই নষ্ট হয়ে যেত এবং ছবিটির ফ্লপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।”
কে. ভাগ্যরাজ আরও যোগ করেন, “এটা স্পষ্ট ছিল যে কমলের চরিত্রের মৃত্যু হলে ছবিটি সুপারহিট হতো, কিন্তু অমিতাভ বচ্চন সেই তুলনায় লাইমলাইট পেতেন না। বিষয়টি বুঝতে পেরে অমিতাভ প্রযোজকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি পরিষ্কার জানান, একটিমাত্র ছবির জন্য তিনি বিগত এত বছরে তৈরি করা নিজের স্টারডম বা ইমেজ নষ্ট করতে চান না। কেরিয়ারের এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এড়াতে তিনি প্রযোজক পূর্ণচন্দ্র রাওকে অন্য কোনও প্রজেক্ট নিয়ে আসার অনুরোধ করেন। অমিতাভ অবশ্যই ছবিটির সাফল্য চেয়েছিলেন, কিন্তু নিজের কেরিয়ারের ক্ষতি করে নয়। ফলস্বরূপ, দুই তারকার এই ঐতিহাসিক মেলবন্ধন আর পর্দায় দেখা যায়নি এবং ‘খবরদার’ ছবিতে চিরতরে তালা পড়ে যায়।”
