‘ একেবারে জানোয়ার…’, কিশোর কুমারকে নিয়ে বিস্ফোরক স্ত্রী লীনা
সম্প্রতি এক পুরনো সাক্ষাৎকারে কিশোর কুমারের খামখেয়ালি স্বভাব এবং অদ্ভুত সব আচরণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন তাঁর চতুর্থ স্ত্রী লীনা চন্দ্রভারকর। লীনার কথায়, কিশোর কুমারের আচমকা মেজাজ পরিবর্তন অনেক সময় তাঁকে আতঙ্কের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেত।

গায়ক, অভিনেতা, পরিচালক। কিশোর কুমার ভারতীয় সিনেমার এমন এক ব্যক্তিত্ব। যাকে নিয়ে নানান গল্প ছড়িয়ে রয়েছে বলিউডের অলিগলিতে। কিশোর কুমার নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ভারতীয় চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল ইতিহাস। তাঁর গান আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মানুষের হৃদয়ে দোলা দেয়। কিন্তু পর্দার পেছনের মানুষটা ঠিক কেমন ছিলেন? সম্প্রতি এক পুরনো সাক্ষাৎকারে কিশোর কুমারের খামখেয়ালি স্বভাব এবং অদ্ভুত সব আচরণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন তাঁর চতুর্থ স্ত্রী লীনা চন্দ্রভারকর। লীনার কথায়, কিশোর কুমারের আচমকা মেজাজ পরিবর্তন অনেক সময় তাঁকে আতঙ্কের চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেত।
‘লেহরেন রেট্রো’-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে লীনা একটি বিশেষ ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তখন ‘পেয়ার আজনবি হ্যায়’ ছবির শুটিং চলছিল। মেকআপ রুমে থাকাকালীন কিশোর কুমার হঠাৎ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, তাঁর সম্পর্কে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে লীনা কী শুনেছেন? লীনা এড়িয়ে যেতে চাইলেও কিশোর নাছোড়বান্দা। শেষমেশ লীনা যখন বলেন যে, তিনি শুনেছেন কিশোর একজন অসাধারণ গায়ক এবং কমেডিয়ান— তখন কিশোরের যেন তাতে মন ভরছিল না।
লীনা জানান, এর ঠিক পরেই কিশোর কুমার এক বীভৎস রূপ ধারণ করেন। লীনার কথায়, “ওঁর মুখটা যেন মানুষের থেকে জানোয়ারের মতো ভয়ংকর হয়ে উঠল! রীতিমতো পাগলের মতো আচরণ করতে শুরু করলেন তিনি। আমি এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম যে ঘর থেকে পালানোর জন্য হেয়ার ড্রেসারকে খুঁজতে থাকি। উনি সোফার ওপর লাফিয়ে পড়ে হাঁপাতে শুরু করেন।” ভয় পেয়ে লীনা যখন চিৎকার করে বলে ওঠেন, “হ্যাঁ, শুনেছি আপনি উন্মাদ!”, তখন আবার স্বাভাবিকভাবে হাসতে শুরু করেন শিল্পী। আসলে নিজেকে ‘উম্মাদ’ শুনতে তিনি ভালবাসতেন।
কিশোর কুমারের চতুর্থ স্ত্রী হওয়ায় সবসময় এক অদ্ভুত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন লীনা। তাঁর মনে সবসময় ভয় কাজ করত। কিশোর আবার পঞ্চম বিয়ে করে বসবেন না তো? এই মানসিক চাপের কারণে একবার ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লীনা। তিনি যখন ট্যাক্সিতে উঠতে যাচ্ছেন, তখন কিশোর কুমার তাঁকে ধমক দিয়ে বলেন, “বেরিয়ে যাও, আর কোনওদিন ফিরে আসবে না। আমার সঙ্গে আর কথা বলবে না!”
তবে লীনা জানান, শেষ পর্যন্ত কিশোর কুমারের সহকর্মীরা এসে তাঁকে পথ আটকান। তাঁরা বলেন, “আপনি চলে গেলে উনি তো আবার আগের মতো হয়ে যাবে। আপনার জন্যই তো মানুষটা বদলেছে।” কিশোর কুমারের চারিত্রিক জটিলতা এবং তাঁর প্রতিভা— এই দুইয়ের মিশেলে লীনার দাম্পত্য জীবন যে কতটা রহস্যময় ছিল, তাঁর এই বয়ানই প্রমাণ।
