রোজকার এই ভুল বারোটা বাজাচ্ছে কিডনির, আজই সতর্ক হন না হলে বিপদ!
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ভারতীয়দের মধ্যে কিডনির অসুখ মারাত্মক হারে বাড়ছে। এমসের (AIIMS) নেফ্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। ভয়ের বিষয় হল, অনেকেই জানেন না যে তাঁদের কিডনি ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে।

মানব শরীরের ছাঁকনি হল কিডনি। রক্ত থেকে টক্সিন সহ বিষাক্ত পদার্থ ছেঁকে বেড় করে দেওয়াই কিডনিক কাজ। তবে মুশকিল হল অজান্তেই অনেকে এমন কিছু ভুল করেন যার প্রভাব গিয়ে পড়ে কিডনির ওপর। আর সেই অভ্যাস গুলোই তিলে তিলে বিকল করে দিচ্ছে কিডনি। আজ ১২ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস। ২০২৬ সালে এই বিশেষ দিনে দাঁড়িয়ে একবার ভাবুন তো, জ্বিভের স্বাদ মেটাতে গিয়ে কিডনির চরম ক্ষতি করছেন না তো?
কিডনি মানুষের শরীরের সাইলেন্ট হিরো! কেন জানেন?
কিডনি শুধু রক্ত পরিষ্কার করেনা। শরীরের জল এবং সোডিয়ামের পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখাও কিডনির কাজ। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনকারী হরমোন তৈরি থেকে শুরু করে লোহিত রক্তকণিকা গঠনেও এর ভূমিকা রয়েছে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ভারতীয়দের মধ্যে কিডনির অসুখ মারাত্মক হারে বাড়ছে। এমসের (AIIMS) নেফ্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। ভয়ের বিষয় হল, অনেকেই জানেন না যে তাঁদের কিডনি ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে।
আপনার কোন কোন অভ্যাস কিডনির জন্য ‘বিষ’?
কিডনি নষ্ট হওয়ার পেছনে কেবল ভাগ্য নয়, প্রধানত দায়ী জীবনযাত্রাই। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, নীচের এই অভ্যাসগুলো কিডনির চরম শত্রু:
নুনের আধিক্য: খাবারে অতিরিক্ত নুন খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কিডনির সূক্ষ্ম রক্তজালিকাগুলোর ওপর।
কম জল খাওয়া: সারাদিনে পর্যাপ্ত জল না খেলে কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য বের করতে পারে না। ফলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
পেনকিলার ওষুধের অপব্যবহার: কথায় কথায় পেনকিলার খাওয়ার নেশা কিডনিকে স্থায়ীভাবে বিকল করে দিতে পারে।
প্রসেসড ফুড ও জাঙ্ক ফুড: অনলাইন ডেলিভারির যুগে অনেকেই প্যাকেটজাত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন। এতে থাকা প্রিজারভেটিভ কিডনি ও লিভারের জন্য বিষের সমান।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও স্থূলতা: ওজন বাড়লে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ।
কিডনি ভালো রাখবেন কীভাবে?
কিডনিকে সুস্থ রাখা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
নিয়মিত ব্যায়াম: জিমে যেতে না পারলেও প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ঘাম ঝরিয়ে হাঁটুন।
পর্যাপ্ত জল: দিনে অন্তত ৮ গ্লাস বা ২.৫ -৩ লিটার জল পান নিশ্চিত করুন।
রুটিন চেকআপ: যাঁদের সুগার, হাই ব্লাড প্রেসার বা বংশগত কিডনির সমস্যা আছে, তাঁরা বছরে অন্তত একবার ইউরিন ও KFT (কিডনি ফাংশন টেস্ট) করান।
নেশা ত্যাগ: ধূমপান বা মদ্যপান কিডনির কার্যক্ষমতা দ্রুত কমিয়ে দেয়, তাই এগুলো থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।
কিডনি একবার বিকল হলে জীবন বিভীষিকাময় হয়ে ওঠে। তাই আজ থেকেই নিজের ডায়েট চার্ট থেকে অতিরিক্ত তেল-নুন বাদ দিন আর নিজেকে সচল রাখুন। মনে রাখবেন, সুস্থ কিডনিই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।
