ইনস্টাগ্রাম লাইভে কেন নিজেকে শেষ করতে চাইলেন অনুরাগ ডোভাল?
লাইভ চলাকালীন অনুরাগের মানসিক অস্থিরতা ছিল স্পষ্ট। নিজের মায়ের কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। হঠাৎই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলেন, “মা, পরের জন্মে যদি তোমার কাছে আসি, তবে শুধু ভালোবাসা দিও।” এরপরই যেন এক মরণখেলায় মেতে ওঠেন তিনি। গাড়ির এক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে বলেন, “চলো, শেষ ড্রাইভে যাই।”

শনিবার রাতে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী ছিল নেটপাড়া। প্রায় ৮২ হাজার মানুষ লাইভ দেখছেন তাঁদের প্রিয় ইউটিউবার ‘ইউকে ০৭ রাইডার’ ওরফে অনুরাগ ডোভালকে। কিন্তু সেই লাইভ যে এক মৃত্যুকূপের প্রবেশদ্বার হয়ে উঠবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি কেউ। দিল্লি-মিরাট এক্সপ্রেসওয়ের বুক চিরে তখন ঝড়ের গতিতে ছুটছে অনুরাগের টয়োটা ফরচুনার। চোখে জল, গলায় কান্নার রেশ-ক্যামেরার ওপার থেকে অনুরাগ যেন এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে কথা বলে যাচ্ছিলেন। বেশ ভয় পেয়েছিলেন অনুরাগীরা।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
লাইভ চলাকালীন অনুরাগের মানসিক অস্থিরতা ছিল স্পষ্ট। নিজের মায়ের কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। হঠাৎই স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে বলেন, “মা, পরের জন্মে যদি তোমার কাছে আসি, তবে শুধু ভালোবাসা দিও।” এরপরই যেন এক মরণখেলায় মেতে ওঠেন তিনি। গাড়ির এক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে বলেন, “চলো, শেষ ড্রাইভে যাই।”
লাইভ স্ট্রিমিংয়ে দেখা যায়, গাড়ির স্পিডোমিটার নিমেষের মধ্যে ১০০, ১২০ পেরিয়ে ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টা ছাড়িয়ে গিয়েছে। হাইওয়ের বাকি গাড়িগুলোকে বাঁক খাইয়ে ওভারটেক করতে করতে অনুরাগ শেষবার চিৎকার করে ওঠেন, “এটাই বিদায়!” এর কয়েক সেকেন্ড পরেই এক বিকট শব্দ। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আইল্যান্ডের ব্যারিয়ারে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। লাইভ ভিডিয়োটি সেখানেই থমকে যায়।
গাড়িটি কার্যত দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা ছুটে এসে অনুরাগকে উদ্ধার করে মিরাটের সুভারতী হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে তাঁকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছিল। পরে অন্য এক নেট-প্রভাবী দীপক কাঠুরিয়ার শেয়ার করা ভিডিয়োতে দেখা যায়, অনুরাগ জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং যন্ত্রণার মাঝেও ক্ষীণ হাসছেন। তাঁর সহকারী রোহিত পাণ্ডে ভক্তদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, অনুরাগ বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
View this post on Instagram
এই ঘটনার পিছনে কি শুধুই অবসাদ, নাকি পারিবারিক ষড়যন্ত্র?
অনুরাগের এই চরম পদক্ষেপের পিছনে উঠে আসছে নানা অভিযোগ। তাঁর দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি হেনস্থার শিকার। এমনকি তাঁর স্ত্রী ঋতিকা ভিনজাতের হওয়ায় তাঁর মা-বাবাও এই বিয়ে মেনে নেননি বলে তিনি বারবার অভিযোগ করেছেন। তবে অনুরাগের ভাই কলম ইঙ্ক সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলছেন। তাঁর দাবি, অনুরাগ তাঁর স্ত্রীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছেন এবং এই দুর্ঘটনাটি আসলে মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার একটি ফন্দি মাত্র।
আপাতত অনুরাগ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও, তাঁর জীবন নিয়ে ওঠা এই তর্কের ঝড় থামছে না। অভিনেতা আলি গনিও সরব হয়েছেন নেটিজেনদের একাংশের বিদ্রুপের বিরুদ্ধে। মানসিক স্বাস্থ্য নাকি ব্যক্তিগত প্রচার এই দুইয়ের লড়াইয়ে আপাতত বিধ্বস্ত অনুরাগের জীবন।
