Cancer Risk: ডাবের জল কি ক্যানসার সারাতে পারে? গুজবকে কেন্দ্র করে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
Coconut water benefits: বার বার এই সব ভুল তথ্য ছড়ানোর ফলে ভীষণ রকম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে মানুষের মধ্যে। এমন অসংগতি মূলক তথ্য চিকিৎসায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে

সোশ্যাল মিডিয়াতে কত রকম তথ্যই পাওয়া যায়। সব সময় যে তা খারাপ এমনও নয়। আবার সবটা যে ভাল জোর দিয়ে একথাও বলা যায় না। হোয়্যাটস অ্যাপ ইউনিভার্সিটির দৌলতে এখন তথ্য আর জ্ঞানের ছড়াছড়ি সর্বত্র। আর এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য যে অধিকাংশ সময়েই ভয়ংকর হয় তা কিন্তু একাধিকবার জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকী উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন। কিছুদিন আগেই একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল গরম ডাবের জল ক্যানসার সারিয়ে দিতে পারে। কিছুদিন আগেই দ্য হিন্দু-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল এই তথ্য। ২০১৯ সালে ফেসবুকে প্রথম এই পোস্টটি ভাইরাল হয়েছিল। তারপর ২০২২ এর শুরুতেও আবার ফেসবুকে ভাইরাল হয় সেই তথ্য।
ডাবের জল পেট ঠাণ্ডা রাখে, শরীরের জন্য ভাল একথা সকলেই জানেন। ডাবের জল গরম করে খাওয়া যায় এমন তথ্য কেউই জানেন না। সেই পোস্টে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছিল- ডাবের জল ক্যানসার ঠেকাতে সক্ষম। এবং বলা হয়েছিল ক্যানসার বিষয়ক রিসার্চে সর্বশেষ অগ্রগতি। ডাবের ডলে এমন কিছু উপাদান থাকে যা ম্যালিগন্যান্ট কোষ ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। সুস্থ কোষে যার কোনও রকম প্রভাব পড়ে না। মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ডিরেক্টর চিকিৎসক সিএস প্রমেশ একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে বলেছিলেন- ‘এই তথ্য অবাজ্ঞানিক এবং সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অনেকের বিশ্বাস গো মূত্র ক্যানসার নিরাময়ে সক্ষম। কিন্তু এই তথ্যের সঠিক কোনও ভিত্তি নেই। সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক। আর এই সব টোটকা প্রয়োগের ফলাফল হতে পারে বিপজ্জ্নক’। চিকিৎসক প্রমেশ দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে ওই একই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বলেন, ‘দিনরাত এমন ভুয়ো খবর ছড়ানোয় ক্যানসার ইনস্টিটিউটগুলি একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে’। মুম্বইয়ের এশিয়ান ক্যানসার ইনস্টিটিউটের শল্যচিকিৎসক রমাকান্ত দেশপাণ্ডে দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন- বার বার এই সব ভুল তথ্য ছড়ানোর ফলে ভীষণ রকম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে মানুষের মধ্যে। কেউ কেউ এ ব্যাপারে সরাসরি দায়ী করছেন ক্যানসার ইনস্টিটিউটগুলিকেই। এমন বিভ্রান্তি মূলক তথ্য চিকিৎসায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অবিলম্বে এমন গুজব ছড়ানো বন্ধ হোক।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের নিরিখে এ বছর অর্থাৎ ২০২২-এ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ কোটির কাছাকাছি। এই সংখ্যা শুধুমাত্র ভারতেই। ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা পৌঁচ্ছে যাবে ৪ কোটিতে। এমনটাই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
