AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Auto Brewery Syndrome: মদ না খেয়েও হতে পারেন মাতাল! জানেন কোন রোগ?

Auto Brewery Syndrome: মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য বেলজিয়ামে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এক যুবক। কিন্তু কিছুদিন পরে আদালতে বেকসুর খালাস হয়ে যান সেই যুবক।

Auto Brewery Syndrome: মদ না খেয়েও হতে পারেন মাতাল! জানেন কোন রোগ?
| Updated on: Aug 29, 2024 | 5:16 PM
Share

ছুঁয়েও দেখেন না মদ। তবু বার বার মাতাল হয়ে ওঠে শরীর। নেশায় টলমলো অবস্থা। রক্ত পরীক্ষা করলেই শরীরে স্পষ্ট অ্যালকোহলের উপস্থিতি। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য বেলজিয়ামে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এক যুবক। কিন্তু কিছুদিন পরে আদালতে বেকসুর খালাস হয়ে যান সেই যুবক। তাঁর আইনজীবি জানান তিনি এমন এক রোগে আক্রান্ত যেখানে শরীর নিজেই অ্যালকোহল তৈরি করে। বিরল এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও সারা পৃথিবীতে হাতে গোনা কয়েকজন।

কানাডার টরন্টোবাসী এক মহিলার সঙ্গে সম্প্রতি ঘটেছে এমনই এক ঘটনা। হঠাৎ করে দেখ যায় তাঁর মাঝেমাঝে কথা জড়িয়ে যাচ্ছে, ঠিক যে রকমটা মদ্যপানের প্রচণ্ড নেশা হলে হয়। শরীরেও খুব ক্লান্তি। আবার মদ না খেলেও মুখ থেকে পাওয়া যাচ্ছে অ্যালকোহলের গন্ধ। অথচ তিনি নাকি কখনই মদ্যপান করেন না। এই সমস্যা নিয়ে এক-দু’বার নয় সাত সাতবার চিকিৎসকের কাছে ছুটেছেন ভদ্রমহিলা। যখন রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে, দেহে মিলিছে ভাল মাত্রায় অ্যালকোহলের উপস্থিতি।

শেষে আরও পরীক্ষা করার পরে ধরা পড়ল এক বিরল রোগের ঘটনা। যাকে বলে অটো ব্রিউয়ারি সিনড্রোম বা এবিএস। বাংলায় একে অনেকে মাতাল রোগও বলে। এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর পেটের ভিতরে থাকা কিছু ছত্রাক থেকে শরীরে অ্যালকোহল তৈরি হয়। শরীরের ভিতর অ্যালকোহলের মাত্রা বেড়ে যায় বলেই কথা জড়িয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, বার বার হেঁচকি ওঠার মতো নানা উপসর্গ দেখা যায়।

চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা জন্মগত নয়। অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেলে কিংবা ডায়েটে কার্বোহাইড্রেটের মাত্রা খুব বেড়ে গেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কী ভাবে বুঝবেন আপনি এই রোগে আক্রান্ত?

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ত্বকে লাল দাগ দেখা যায়। প্রায়ই মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া খুব সাধারণ লক্ষণ। আবার এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর শরীরও ঘন ঘন ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। এমনকি স্মৃতিশক্তিও হ্রাস পেতে পারে। অল্পেতেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, মেজাজ হারানো এই সবই কিন্তু এবিএস রোগের লক্ষণ।

১৯৪৬ সালে, আফ্রিকায় অটো-ব্রিউয়ারি সিন্ড্রোমের প্রথম রোগী ধরা পড়ে। ৫ বছর বয়সি একটি ছেলের পাকস্থলী হঠাৎ ফেটে গিয়েছিল এই রোগের কারণে। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, ৫ বছর বয়সি শিশুটির পেটে ফেনাযুক্ত তরল রয়েছে, যার গন্ধ ছিল একেবারে মদের মতো। এই রোগে রোগীর অন্ত্রে নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাক্টেরিয়া এবং ছত্রাক খুব বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পায়, যা শরীরের অভ্যন্তরে অ্যালকোহল তৈরি করে। এই কারণেই রোগী অ্যালকোহল না খেয়েও মদ্যপের মতো আচরণ শুরু করেন। এই রোগের কারণে মৃত্যুও ঘটতে পারে। তবে এখনও অবধি এই রোগের নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই। আরগ্যের সন্ধানে বিজ্ঞানের খোঁজ জারি রয়েছে।

Follow Us