Porcupines: জঙ্গলের ধারে চলছিল পিকনিক, আচমকাই নজর পড়ে ‘ওর’ ওপর, তাকে নিয়েই চলল উদ্দাম বেলেল্লাপনা, শেষে…
Crime News: অভিযুক্ত যুবকেরা বাজারে মাংস বিক্রি করতে গেলে পুলিশের কাছে খবর যায়। এরপরই তাঁরা বাজারে গিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।
লখনউ: বন্ধুরা মিলে জঙ্গলের ধারে বসে পিকনিক করছিলেন, হঠাৎ নড়ে উঠল পাশের ঝোপ। বিষয়টি নজরে আসতেই উকিঝুঁকি মেরেছিলেন, ভিতরে যাদের দেখল, তাতে চক্ষু চড়কগাছ যুবকদের। এমন প্রাণী যে তারা আগে দেখেনি। লাঠি দিয়ে খোঁচাখুঁচি করে জোর করে বের করা হল ‘তাদের’ ঝোপের ভিতর থেকে। তারপরই শুরু হল অত্যাচার। কখনও লাঠির ছুঁচল মুখ দিয়ে গুঁতো মেরে, আবার কখনও পাথর ছুড়ে ক্রমাগত বিরক্ত করা হল তাদের। এদিকে, গায়ে একটা কাটা লাগতেই মেজাজ চরমে উঠল। নির্মমভাবে হত্যা করা হল তাদের। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর প্রদেশের (Uttar Pradesh) বদায়ুন জেলায়। সেখানে জঙ্গল থেকে দুটি বিরল প্রজাতির ইন্ডিয়ান ক্রেস্টেড পর্কুপাইন (Indian crested porcupines) বা সজারুকে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠল তিন যুবকের বিরুদ্ধে। জানা গিয়েছে, ওই দুটি সজারুকে মেরে তার মাংস চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তদের। ইতিমধ্যে ওই তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি মঙ্গলবার ঘটেছে। উত্তর প্রদেশের বদায়ুন জেলার দাতাগঞ্জ এলাকার কাসু নাগলা গ্রাম থেকে তিন যুবককে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম ধর্মবীর, হরি সিং ও প্রমোদ। জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার তারা গ্রামের পাশেই একটি জঙ্গলের ধারে পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই হঠাৎ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসে এক জোড়া বিরল প্রজাতির পর্কুপাইন বা সজারু। ওই তিন যুবক সজারুগুলিকে দেখে রীতিমতো আঁতকে ওঠেন। যদিও মুহূর্তে সাহস জোগান মনে। এরপরে শুরু হয় উদ্দাম খেলা। লাঠি দিয়ে খোঁচাখুঁচি শুরু করে ওই সজারুগুলিকে। আত্মরক্ষায় সজারু কাটা ছুড়তেই রেগে যায় যুবকেরা। এরপরই তাঁরা ওই দুটি সজারুকে মেরে ফেলে। ছাল ছাড়িয়ে মাংস বের করে নেয় তাঁরা।
অভিযুক্ত যুবকেরা বাজারে মাংস বিক্রি করতে গেলে পুলিশের কাছে খবর যায়। এরপরই তাঁরা বাজারে গিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। খবর দেওয়া হয় বন দফতরেও। বুধবার বন দফতরের আধিকারিকরা জঙ্গলে গিয়ে সজারুগুলির দেহাবশেষ উদ্ধার করেন। সেই অংশগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ফরেস্ট রেঞ্জার অমিত কুমার সোলাঙ্কি জানান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে খবর এসেছিল যে কয়েকজন বিরল প্রজাতির সজারুকে মেরে ফেলেছে। এরপরই আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করি। জঙ্গল থেকে সজারুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।