AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Nepal flash floods: হিমালয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় রুখতে ৫ দেশকে একজোট হওয়ার ডাক সদগুরুর, নেপালকে দিলেন ১ কোটি টাকা

Sadhguru: হিমালয় বাঁচলে তবেই সুরক্ষিত থাকবে কোটি কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ। নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কাঠমান্ডুর মঞ্চ থেকে মুখ খুললেন সদগুরু। পাহাড়ের কাটাতারের সীমানা হয় না মনে করিয়ে দিয়ে ভারত, চিন, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানকে নিয়ে যৌথ 'হিমালয়ান বোর্ড' গড়ার জোরালো প্রস্তাব দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন।

Nepal flash floods: হিমালয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় রুখতে ৫ দেশকে একজোট হওয়ার ডাক সদগুরুর, নেপালকে দিলেন ১ কোটি টাকা
কী বলেছেন তিনি?Image Credit: tv9 network
| Updated on: Aug 31, 2026 | 10:46 AM
Share

সদগুরু (Sadhguru)—যাঁর কথা শুনতে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ অপেক্ষা করে থাকেন, তিনিই এবার হিমালয়ের মতো পাহাড় ও পরিবেশ বাঁচাতে এক জরুরি দাবি তুললেন। সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ঘটে গিয়েছে মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয়। বিধ্বংসী হড়পা বানে চারদিক কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ এবং বহু মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন চরম বিপদের মুখেই কাঠমান্ডুতে ‘ইন সলিডারিটি উইথ নেপাল’ অনুষ্ঠানে নিজে হাজির হন তিনি। বিপর্যয়ের পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সভা। সেখানে দাঁড়িয়েই নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

পাহাড় কিন্তু মানুষের তৈরি কাঁটাতারের সীমানা কিংবা রাজনীতির ফারাক বোঝে না। এই বাস্তব সত্যিটা মনে করিয়ে দিয়ে সদগুরু বলেন, হিমালয়কে বাঁচাতে ভারত, চিন, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান- এই পাঁচ প্রতিবেশীকে হাত মিলিয়ে একটি যৌথ ‘হিমালয়ান বোর্ড’ তৈরি করতে হবে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দেশগুলোর শাসনব্যবস্থা, রাজনীতি বা মুখের ভাষা আলাদা হতেই পারে, কিন্তু হিমালয় পাহাড় তো সকলের জন্যই এক। প্রকৃতির এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে বসে কথা বলতে হবে ও কাজ করতে হবে। এটা কেবল নেপালের একার সমস্যা ভেবে বাকিরা হাত গুটিয়ে বসে থাকলে ভবিষ্যতে সবাইকে এর চরম মাশুল দিতে হবে।

Sadh Guru Many

এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নিয়ে তিনি জানান, পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রায় চার হাজার ফুট ওপর থেকে বিশাল বরফের চাঙড় ভেঙে নিচে পড়বে, এমনটা আগে থেকে কারও পক্ষেই আন্দাজ করা সম্ভব ছিল না। আর এত বড় ধাক্কা নেপালের মতো একটি ছোট দেশের পক্ষে একা সামলানো কোনওভাবেই সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, এই হড়পা বানে নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন ঈশা ফাউন্ডেশনের ‘কৈলাস যাত্রা’র ৭৭ জন পুণ্যার্থী, যাঁরা সীমান্তের জিরং ইমিগ্রেশন সেন্টারে ছিলেন। এর পাশাপাশি নেপাল সীমান্তে থাকা সংস্থার ৩ জন স্বেচ্ছাসেবীরও এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি।

মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। তিনি সদগুরুর কাছে জানতে চান, এত বড় ধ্বংসলীলা ও মানুষের কষ্ট থেকে আমাদের কী শেখা উচিত? জবাবে সদগুরু এক গভীর ও বাস্তব কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষ যে মরণশীল এবং মানুষের জীবন যে কত ক্ষণিকের, তা প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখা দরকার। এই বোধ থাকলে মানুষ অনেক বেশি সতর্ক হয়ে দায়িত্বের সঙ্গে জীবন চালাতে পারবে।

Manisha Sadhguru

অনেকেই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ‘ঈশ্বরের ইচ্ছা’ বা অলৌকিক কিছু বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তবে সদগুরু এই ধারণাকে সোজাসুজি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, আধ্যাত্মিক দিক সম্পূর্ণ আলাদা আর প্রকৃতির বিজ্ঞানের নিজস্ব নিয়ম আলাদা। বিজ্ঞানের সেই প্রাকৃতিক নিয়ম মেনেই বিপর্যয় ঘটেছে। তাই ভাগ্য বা ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষের চরম দুঃখ-কষ্ট আর বাস্তব যন্ত্রণাকে ছোট করা একেবারেই উচিত নয়। শেষে তিনি জানান, এই বিপর্যয়ে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের আত্মার শান্তির জন্য আগামী ৩ সেপ্টেম্বর কোয়েম্বাটোরের ঈশা যোগ সেন্টারে নিয়ম মেনে ‘কাল ভৈরব কর্ম’ সম্পন্ন করা হবে।

Follow Us