High Court: ‘শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্ক নয়… বিয়ে পবিত্র বন্ধন’, এই যুক্তিতেই ধর্ষণের FIR থেকে অভিযুক্তকে ছাড় দিল হাইকোর্ট
High Court: মূল মামলার সূত্রপাত একটি ধর্ষণের অভিযোগকে ঘিরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় অভিযোগকারিণীর। অভিযোগ, তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় শারীরিক সম্পর্কে বাধা দেননি তিনি।

জয়পুর: বিয়ে হল এক পবিত্র, স্বর্গীয় বন্ধন। শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের উর্ধ্বে এক সম্পর্ক। ধর্ষণ সংক্রান্ত একটি মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ রাজস্থান হাইকোর্টের। আর সেই যুক্তিতেই এফআইআর থেকে নাম বাদ গেল অভিযুক্তের।
ধর্ষণের অভিযোগেই এফআইআর দায়ের হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগকারিণীর সঙ্গে পরে বিয়ে হয়ে যায় ওই অভিযুক্তের। সেই বৈবাহিক জীবনে আর কোনও ব্যাঘাত যাতে না ঘটে, তাই হস্তক্ষেপ করতে চায় না আদালত।
সেই রায় দিতে গিয়েই ভারতীয় সংস্কৃতি তথা হিন্দু আইনে বিয়ের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি অনুপ কুমার ধন্দ। বিচারপতি বলেন, “প্রাচীন হিন্দু আইন অনুযায়ী, ধর্ম, অর্থ, কাম- এই তিন উদ্দেশেই বিয়ের রীতি তৈরি হয়েছে। আর বিচারের স্বার্থে সেই রীতি নষ্ট হতে দেওয়া যায় না।”
মূল মামলার সূত্রপাত একটি ধর্ষণের অভিযোগকে ঘিরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় অভিযোগকারিণীর। অভিযোগ, তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় শারীরিক সম্পর্কে বাধা দেননি তিনি। কিন্তু কিছুদিন পর অন্তস্বঃত্ত্বা হয়ে পড়েন ওই তরুণী। তারপর বাড়ে বিপত্তি। বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে ওই যুবক পিছু হঠতে থাকেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতেই দায়ের হয় ধর্ষণের অভিযোগ।
কিন্তু কিছুদিন পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিযুক্তের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় অভিযোগকারিণীর। অভিযোগকারিণী জানান, তিনি তাঁর বৈবাহিক জীবনে খুব খুশি। সুখেই দিন কাটাচ্ছেন। একথা শুনেই আদাল বলে, ‘আমরা বাস্তব পরিস্থিতিতে চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না। দাম্পত্য জীবনে ব্যাঘাতও ঘটাতে পারি না।’ বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, “বিয়ে অত্যন্ত পবিত্র বন্ধন। সম্পর্কটা শুধু শারীরিক নয়, মানসিক। এতে শুধু দুজন মানুষ নন, যুক্ত হয় দুই পরিবার, দুই আত্মা।” এ কথা উল্লেখ করে এইআইআর থেকে অভিযুক্তের নাম বাদ দেওয়ার রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

