AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Ayodhya Masjid: কালো মাটির পবিত্র ইটে সোনায় লেখা আয়াত, মক্কা থেকে আসছে অযোধ্যায়

Ayodhya Masjid black brick: মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য মক্কা থেকে অযোধ্যায় আসছে একটি পবিত্র ইট। কালো মাটিতে তৈরি এই ইটের গায়ে, সোনা দিয়ে লেখা রয়েছে পবিত্র কোরানের আয়াত। ইটটি ইতিমধ্য়েই ভারতে এসে পৌঁছেছে। তবে, অযোধ্যায় পৌঁছবে এপ্রিল মাসে। ইদের পরই শুরু হবে এই মসজিদের নির্মাণ।

Ayodhya Masjid: কালো মাটির পবিত্র ইটে সোনায় লেখা আয়াত, মক্কা থেকে আসছে অযোধ্যায়
অযোধ্যার মসজিদের জন্য পবিত্র ইট আসছে মক্কা থেকেImage Credit: Twitter
| Updated on: Feb 07, 2024 | 6:37 PM
Share

অযোধ্যা: অযোধ্যায় রাম মন্দির প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়ে গিয়েছে। এই মন্দিরের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে উঠে এসেছে অযোধ্যার নাম। এবার, অযোধ্যার নতুন আকর্ষণ হিসেবে তৈরি হতে চলেছে বিশাল মসজিদ। ইসলামি নীতি মেনে ‘মহম্মদ বিন আবদুল্লাহ মসজিদে’ থাকবে পাঁচটি মিনার। আর, এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য মক্কা থেকে অযোধ্যায় আসছে একটি পবিত্র ইট। কালো মাটিতে তৈরি এই ইটের গায়ে, সোনা দিয়ে লেখা রয়েছে পবিত্র কোরানের আয়াত। ইটটি ইতিমধ্য়েই ভারতে এসে পৌঁছেছে। তবে, অযোধ্যায় পৌঁছবে এপ্রিল মাসে। আর তারপরই শুরু হবে এই মসজিদের নির্মাণ।

২০১৯ সালে অযোধ্যার বিতর্কিত জমির মালিকানা রামলালাকে দেওয়ার সময়, অযোধ্যাতেই একটি মসজিদ তৈরির জন্য মুসলিম পক্ষকে ৫ একর জমিদানের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এরপর, অযোধ্যার ধন্নিপুরে মসজিদ তৈরির ৫ একর জমি বরাদ্দ করে উত্তর প্রদেশ সরকার। মসজিদের নির্মাণকাজ তদারকির জন্য, ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন বা আইআইসিএফ নামে একটি ট্রাস্ট তৈরি করেছে উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড। আইআইসিএফ-এর কর্তারা জানিয়েছেন, ওই পবিত্র ইটটি নিয়ে মক্কা গিয়েছিলেন ট্রাস্টের কয়েকজন কর্তা। তারপর, তাঁরা মক্কা থেকে ইটটি ভারতে ফিরিয়ে এনেছেন। চলতি বছরে ইদের পরই বহু প্রতীক্ষিত মসজিদটির নির্মাণ শুরু হবে।

আইআইসিএফ-এর অন্যতম সদস্য, হাজি আরাফাত শেখ বলেছেন, “এটা আল্লাহর কাজ। তাঁর ইচ্ছায়, ইসলামের পবিত্রতম শহর থেকেই এই কাজ শুরু করার থেকে ভাল কিছু হয় না। তাই, আমরা মক্কা থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি মহারাষ্ট্র থেকে মক্কায় সদ্য তৈরি করা একটি ইট নিয়ে গিয়েছিলাম। জমজমের পবিত্র কুয়োর জলে ইটটিকে গোসল করিয়েছিলাম। তারপরে আমরা ইটটি মদিনা শরীফে নিয়ে যাই এবং ইত্রায় আরও একবার গোসল করাই এবং সেখানে নামাজ পড়ি। ২ ফেব্রুয়ারি মহারাষ্ট্রে ইটটি ফেরত আনা হয়েছে। এরপর, ইটটি আজমীর শরীফে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে নামাজের পর অযোধ্যায় নিয়ে যাওয়া হবে।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, অযোধ্যায় কীভাবে ইটটি নিয়ে যাওয়া হবে, তার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি। আইআইসিএফ জানিয়েছে, অনেকেই বলছেন ই়টটি পায়ে হেঁটে নিয়ে যেতে। তাতে ৩০ দিন সময় লাগবে। আবার কেউ কেউ বলছে সড়কপথে গাড়িতে বা ট্রেনে করে নিয়ে যেতে। কারণ, আমাদের অযোধ্যায় যাত্রার সময় আমাদের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ থাকবেন।” তিনি জানিয়েছেন, পুরো যাত্রাটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হবে যাতে এপ্রিলের মধ্যেই ইটটি অযোধ্যায় পৌঁছয়। মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে আর দেরি করতে চায় না মসজিদ কমিটি।

সূত্রের খবর, অযোধ্যার এই মসজিদ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে, মসজিদে একটি গেরুয়া রঙের কোরানও রাখা থাকবে। বিশেষভাবে তৈরি করা হবে এই কোরান। লম্বায় এটি হবে ২১ ফুট, আর চওড়ায় ১৮ ফুট। হাজী আরাফাত বলেছেন, “গেরুয়া রঙকে আমরা ‘চিশতিয়া’ বলি। এই ছিল গরীব নওয়াজের পাগড়ির রং। আমরা বাবরকে বিশ্বাস করি না। বাবর এসেছিল দেশ লুট করতে। আমরা নবিকে বিশ্বাস করি। এই মসজিদ আমাদের এই চিন্তারই প্রতিফলন। অযোধ্যা মসজিদ শুধু ধর্মস্থান হবে না, এতে থাকবে হাসপাতাল এবং শিক্ষাকেন্দ্রও। যা থেকে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ৯ হাজার লোকের একসঙ্গে নামাজ পড়ার মতো ব্যবস্থা থাকবে।

অযোধ্যার এই মসজিদের নাম রাখা হয়েছে ইসলামের শেষ নবি, মহম্মদ বিন আবদুল্লাহর নামে। প্রাথমিকভাবে এই মসজিদ একেবারে আধুনিক সৈলিতে নির্মাণের কথা বাবা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন ইসলামি গোষ্ঠীর আপত্তিতে, অনেক বেশি ঐতিহ্যবাহী শৈলিতে মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Follow Us