Ram Mandir Donation Theft: ভগবানেরও ভয় নেই! রাম মন্দিরের দান বাক্স থেকে সাড়ে সাত কোটি টাকা কারা চুরি করলেন জানেন?
Ayodhya Ram Mandir money Stolen: ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে রাম মন্দির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩২৭ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫৩ কোটি টাকা অনুদান থেকেই এসেছিল।

লখনউ: অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ayodhya Ram Mandir) দানবাক্স থেকে বিপুল টাকা চুরি! এই মাসের শুরুতেই যখন রাম মন্দির থেকে টাকা চুরির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে, তখন উত্তর প্রদেশের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক বলেছিলেন, ‘মিথ্যা প্রচার’। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টও অস্বীকার করেছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) কিছুটা সময় চেয়েছিলেন তদন্তের জন্য। এক মাস হওয়ার আগেই রাম মন্দির থেকে চুরির কিনারা হল। গ্রেফতার করা হল আটজনকে। কত টাকা চুরি গিয়েছিল দানবাক্স থেকে, সেটাও জানা গেল।
উত্তর প্রদেশ সরকার স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করেছিল রাম মন্দিরে আর্থিক বেনিয়মের তদন্ত করতে। ২৩ জুন রিপোর্ট জমা দেয় সিট। দুই দিন পর, এফআইআর করা হয় এবং আটজনকে গ্রেফতার করা হয় রাম মন্দিরের দান বাক্স থেকে টাকা চুরির অভিযোগে। এদের মধ্যে একজন আবার রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাইয়ের গাড়ির চালক ছিলেন।
এদিকে, ডোনেশন বিতর্ক ও আটজনের গ্রেফতারির পরই রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চম্পত রাই। পাশাপাশি ট্রাস্টি অনিল মিশ্রও শুক্রবার নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, রাম মন্দিরের দান বাক্স থেকে সাত থেকে সাড়ে সাত কোটি টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। পুলিশ যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হলেন অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লভকুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুনেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব ও রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত রামশঙ্কর ওরফে টিন্নু রাম জন্মভূমি ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইয়ের গাড়ির চালক ছিল। রাম মন্দিরে ডোনেশন বাক্সের চাবি থাকত এই টিন্নুর কাছে। আরেক ধৃত রামশঙ্কর মিশ্র দান বাক্সের টাকা গোনার দায়িত্বে ছিলেন। তিনি নিজের ছেলে ও জামাইকেও এই কাজে নিয়োগ করেছিলেন।
অবিনাশ শুক্লা নামক যে কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনি মন্দিরের অ্যাটেনডেন্ট ছিলেন। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে।
জানা গিয়েছে, রাম মন্দির ট্রাস্টের তরফে স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া-কে টাকা গোনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা আবার একটি প্রাইভেট এজেন্সিকে দায়িত্ব দিয়েছিল টাকা গোনার। সেখান থেকেই বেনিয়ম শুরু হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে রাম মন্দির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৩২৭ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। এর মধ্যে ১৫৩ কোটি টাকা অনুদান থেকেই এসেছিল। রাম মন্দিরে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার দর্শনার্থী আসেন রামলালাকে দর্শন করতে। বিভিন্ন উৎসবে আরও ভিড় বাড়ে।
