AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Sheikh Hasina: বাংলাদেশ ‘দ্বিতীয় পাকিস্তানে’ পরিণত হচ্ছে! ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ ফিরবেন হাসিনা

Bangladesh: হাসিনা বলেন, "আমার সরকারের আমলে যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছিল, ইউনূসের অবৈধ সরকার ক্ষমতা দখলের পর সেই তদন্ত বন্ধ করে দেয়। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন কোনও স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন নয়। পরিকল্পিত পদক্ষেপ। ১০ হাজার আওয়ামী লিগ সদস্য নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে।"

Sheikh Hasina: বাংলাদেশ 'দ্বিতীয় পাকিস্তানে' পরিণত হচ্ছে! ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ ফিরবেন হাসিনা
শেখ হাসিনা।Image Credit: Getty Image
| Edited By: | Updated on: Aug 05, 2026 | 8:04 PM
Share

নয়া দিল্লি: দেশ ছাড়ার দুই বছর। সামনে না এলেও, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বললেন, “আমি ডিসেম্বরে দেশে ফিরব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি”। মুজিবর কন্যা বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ধরে আসে গলা।

কী বললেন হাসিনা?

এ দিন অডিয়ো বার্তায় সরাসরি কথা বলেন শেখ হাসিনা। শেখ মুজিবর রহমানের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন হাসিনা। তিনি বলেন, শেখ মুজিবরের কন্যা হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নাড়ির। গত দুই বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে দেখেছি। এটা কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। সহিংস রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল আন্দোলনকে।”

কীভাবে পতন হয়েছিল আওয়ামী লিগ সরকারের?

দুই বছর আগে ছাত্র আন্দোলনের জেরে আওয়ামী লিগ সরকারের পতন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সরকারের তরফ থেকে আন্দোলনকারীদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। কিন্তু সরকার ফেলতে পরিকল্পিত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়েছিল। ব্যালট বক্সের বাইরে থেকে সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি প্রশ্ন করতে চাই, এই ধরনের পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে সরকারের কী করা উচিত? যা করা হয়েছে, সেটা অপরাধ নয়, বরং সরকারের দায়বদ্ধ পদক্ষেপ।”

তিনি আরও বলেন, “আমার সরকারের আমলে যে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছিল, ইউনূসের অবৈধ সরকার ক্ষমতা দখলের পর সেই তদন্ত বন্ধ করে দেয়। জুলাই-আগস্ট আন্দোলন কোনও স্বতস্ফূর্ত আন্দোলন নয়। পরিকল্পিত পদক্ষেপ। ১০ হাজার আওয়ামী লিগ সদস্য নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে।”

সরকার পতনের পরও বাংলাদেশে যে অত্যাচার হয়েছে, তা নিয়ে হাসিনা বলেন, “সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে সাংবাদিক-সবার উপর আক্রমণ হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামীরা হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ওরা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে দিতে চায়। সাধারণ মানুষকে এই পরিস্থিতির মূল্য চোকাতে হচ্ছে। আমি আন্তর্জাতিক মহলের (international community) আবেদন করছি, বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে।”

দেশে ফিরবেনই হাসিনা-

দেশে ফেরার ঘোষণা করে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি দেশের মানুষের কাছে ফিরব। আমি প্রিয় দেশের থেকে দূরে থাকতে পারব না। আমি জেলে যেতে পারি। কিন্তু আমি নিজের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত নই। আমি জেলে থেকে আমার সন্তানের জন্ম দিয়েছি। মানুষ সব ক্ষমতার উৎস। আমি একাধিকবার এর আগে গ্রেফতার হয়েছি। আমাকে দেশ ছেড়ে যেতে হয়েছে। আমাকে হত্যা করা হতে পারে। কিন্তু আমি এইসব নিয়ে চিন্তিত নই।

এরপরই হাসিনার ছেলে, সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “দেশে ফেরা নিয়ে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনও কথা বলিনি। বলব না।”

হাসিনা জানান যে ভারত সরকারের তরফে আমাদের যথেষ্ট সম্মান এবং আন্তরিকতা দেখানো হয়েছে। এরপরই হাসিনা ঘোষণা করেন, “আমি ডিসেম্বরে দেশে ফিরব-এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কবে কত তারিখে ফিরব, সেই সিদ্ধান্ত পরে জানাবো। ভারত আমাদের সবচেয়ে বন্ধু দেশ। একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের সম্পর্ক থাকবেই। আমি আজ এখানে এসেছি। ভারত বন্ধু দেশ হিসেবে বন্ধু থাকবেই, কিন্তু আমি আমার দেশের মানুষের কাছে ফিরব।”

রাষ্ট্রপুঞ্জ তথ্য দিচ্ছে না-

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও সরব হন। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়ে বলেন যে এই সরকার মানবাধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করছে এবং দেশের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জয়। তাঁর দাবি, রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN) ওই আন্দোলনে ১,৪০০ জনের মৃত্যুর কথা বললেও বাংলাদেশ সরকার কম মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। জয়ের অভিযোগ, আওয়ামী লিগ বারবার রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে ওই ১,৪০০ জনের নাম-পরিচয় জানতে চাইলেও, এখনও কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।

ইনডেমনিটি বিল-এর সমালোচনা করেন হাসিনা পুত্র। তাঁর অভিযোগ, ওই আইনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিক, আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী এবং পুলিশকর্মীদের হত্যার অভিযোগে মামলা বা বিচার থেকে ব্যাপক আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। জয়ের দাবি, পরে বিএনপি সরকারও ওই আইন অনুমোদন করেছে।

আওয়ামী লিগের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে বিচার, জামিন বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, “অনেকের পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে, আবার অনেককে কারাগারের বাইরে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে মনে করা সাংবাদিক, সম্পাদক, সংবাদমাধ্যমের মালিক এবং ব্যবসায়ীদেরও বিচার ছাড়াই জেলে পাঠানো হয়েছে”।

বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র‘ বলে দাবি করে তিনি বলেন, “দেশে এখন বাকস্বাধীনতা নেই, মানবাধিকার নেই, আইনশৃঙ্খলার অস্তিত্ব নেই এবং সংবিধান কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।”

ভারতের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দেশের বড় বড় সংবাদমাধ্যমকে ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকের খবর বা সম্প্রচার না করার নির্দেশ দিয়েছে। সজীবের বিস্ফোরক অভিযোগ, “বাংলাদেশ এখন ভারতের পূর্ব সীমান্তে ‘আরেকটি পাকিস্তান’-এ পরিণত হচ্ছে।”

তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লিগ সরকারের আমলে গ্রেফতার হওয়া শত শত দোষী জঙ্গিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে হিজবুত তাহরীর ও আল-কায়েদা-র জঙ্গিরা প্রকাশ্যে সক্রিয় রয়েছে। জয়ের দাবি, এই পরিস্থিতি শুধু ভারতের জন্য নয়, গোটা আন্তর্জাতিক মহলের নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের বিষয়। দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের একটি বড় উৎসে পরিণত হতে পারে বলেই সতর্ক করেন জয়।

Follow Us
আবেদন প্রত্যাহার করতে চাইলেন অভিষেক, মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট
আবেদন প্রত্যাহার করতে চাইলেন অভিষেক, মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট
পরিত্যক্ত ইটভাটায় লক্ষ লক্ষ টাকা, কীভাবে খোঁজ পেল পুলিশ?
পরিত্যক্ত ইটভাটায় লক্ষ লক্ষ টাকা, কীভাবে খোঁজ পেল পুলিশ?
বাংলাদেশে ফিরতে চান, বাধা কোথায় জানালেন তসলিমা
বাংলাদেশে ফিরতে চান, বাধা কোথায় জানালেন তসলিমা
'কে কোথায় যাচ্ছে...', কাজের চাপ বোঝালেন অগ্নিমিত্রা
'কে কোথায় যাচ্ছে...', কাজের চাপ বোঝালেন অগ্নিমিত্রা
টালা ব্রিজে বাতিস্তম্ভে টানটান 'নাটক', চলল যুবকের স্টান্টবাজি
টালা ব্রিজে বাতিস্তম্ভে টানটান 'নাটক', চলল যুবকের স্টান্টবাজি
গ্রামের উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব? চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল খেয়াইবান্দা
গ্রামের উন্নয়ন কীভাবে সম্ভব? চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল খেয়াইবান্দা
কলকাতায় থাবা বসাল বিষ্ণোই গ্যাং? সামনে এল বড় অভিযোগ
কলকাতায় থাবা বসাল বিষ্ণোই গ্যাং? সামনে এল বড় অভিযোগ
কেন অভিষেক সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন? গভীর 'ষড়যন্ত্র' দেখছেন ঋতব্রত
কেন অভিষেক সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন? গভীর 'ষড়যন্ত্র' দেখছেন ঋতব্রত
শুভেন্দুর সঙ্গে কাকলিদের কী নিয়ে আলোচনা? মঙ্গলে সব নজর বঙ্গভবনে
শুভেন্দুর সঙ্গে কাকলিদের কী নিয়ে আলোচনা? মঙ্গলে সব নজর বঙ্গভবনে
এবার মঙ্গলকোটে টুলুর আত্মীয় বাড়িতে পুলিশ, কী রয়েছে লাল ব্যাগে?
এবার মঙ্গলকোটে টুলুর আত্মীয় বাড়িতে পুলিশ, কী রয়েছে লাল ব্যাগে?