Bird Flu: ছড়াচ্ছে বার্ড ফ্লু, এই সময়ে মাংস বা ডিম খাওয়া কি সুরক্ষিত?
H5N1 Virus: ডিমের উপরের খোসার উপরেও ভাইরাস থাকতে পারে। ভিতরে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা কম। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ডিমের কুসুমও সঠিকভাবে রান্না করতে বলা হচ্ছে। যদি ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রান্না করা হয়, তাহলে ভাইরাস বেঁচে থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই।

নয়া দিল্লি: ছড়াচ্ছে নতুন ভাইরাস আতঙ্ক। বাড়ছে বার্ড ফ্লু (Bird Flu)-তে পাখি মৃত্যুর সংখ্যা। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুতে শয়ে শয়ে কাকের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এরপরই রাজ্য় ও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পশুপালন, ডেয়ারি ও মৎস পালন মন্ত্রকের তরফেও সতর্কতামূলক যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে মৃত পাখি স্পর্শ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদি জ্বর, সর্দি, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেকেরই প্রশ্ন, বার্ড ফ্লু ছড়াচ্ছে, এই সময়ে মুরগির মাংস বা ডিম খাওয়া কি নিরাপদ?
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, যদি সঠিকভাবে রান্না হয়, তাহলে মাংস বা ডিম থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই। এইচ৫এন১ ভাইরাস স্ট্রেইন থেকে বার্ড ফ্লু ছড়ায়। সাধারণত পাখি থেকে পাখির দেহেই এই সংক্রমণ ছড়ায়, তবে মানবদেহেও এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে কোনও ব্যক্তি যদি অসুস্থ পাখির সংস্পর্শে আসেন বা আক্রান্ত পাখির লালা, থুতু বা মলের সংস্পর্শে আসেন, তাহলে বার্ড ফ্লু ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার ও ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথারিটি অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাখি নিধন বা বিক্রির আগে সেই পাখিগুলির যেন পরীক্ষা করা হয়। যে পাখিগুলি সংক্রমিত বা সংক্রমণে মৃত্যু হচ্ছে, তাদের মাটিতে পুঁতে দিতে বা পুড়িয়ে দিতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, সুস্থ বা যে পাখির সংক্রমণ হয়নি, সেই পাখির মাংস থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর কোনও সম্ভাবনা নেই। এই ভাইরাস মূলত পাখির শ্বাসযন্ত্র ও পাকস্থলিতে থাকে। যদি কেউ ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট অর্থাৎ ৭৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চিকেন রান্না করা হয়, তাহলে পাখির দেহে কোনও ভাইরাস বাঁচে না। সেই কারণে চিকিৎসকরা বলছেন, রান্না করার সময় তাপমাত্রা ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট রয়েছে কি না, তা যেন পরীক্ষা করে নেওয়া হয়। মাংসের ভিতরে যেন কোনও গোলাপি জ্যুস বা কাঁচা অংশ না থাকে।
ডিমের উপরের খোসার উপরেও ভাইরাস থাকতে পারে। ভিতরে ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা কম। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে ডিমের কুসুমও সঠিকভাবে রান্না করতে বলা হচ্ছে। যদি ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রান্না করা হয়, তাহলে ভাইরাস বেঁচে থাকার কোনও সম্ভাবনা নেই।
কাঁচা বা অর্ধেক রান্না করা ডিম, ডিমের পোচ, হোমমেড মেয়োতে অল্প বিস্তর ঝুঁকি থাকে। এর বদলে স্ক্যাম্বল বা ফ্রাই করা ডিম বা সেদ্ধ ডিম খেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে সানি সাইড আপ বা ডিমের পোচ খেতে বারণ করা হয়েছে। কাঁচা মাস বা ডিম স্পর্শ করলে, তারপর ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
