AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

BRICS Summit 2026: দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে একজন সাধারণ ভারতীয়র মাথাব্যথা কেন থাকবে?

How BRICS impacts ordinary Indians: ব্রিকস এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সদস্য দেশগুলি বাণিজ্য, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে মিলের জায়গা খোঁজে। একজন সাধারণ ভারতীয়র জন্য এই মঞ্চের গুরুত্ব কী? লিখছেন TV9 নেটওয়ার্কের এডিটর (নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন) সন্তোষ নায়ার।

BRICS Summit 2026: দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে একজন সাধারণ ভারতীয়র মাথাব্যথা কেন থাকবে?
পড়ুন TV9 নেটওয়ার্কের এডিটর (নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন) সন্তোষ নায়ারের বিশেষ প্রতিবেদন Image Credit: TV9 Bangla
| Updated on: Sep 13, 2026 | 7:19 PM
Share

সন্তোষ নায়ার, TV9 নেটওয়ার্কের এডিটর (নেটওয়ার্ক কো-অর্ডিনেশন)

নয়াদিল্লি: ভ্লাদিমির পুতিন। শি জিনপিং। শুধু এই দু’জন নন। নয়াদিল্লিতে এসেছেন আরও একাধিক দেশের রাষ্ট্রনেতা। একসঙ্গে বসেছে ১১টি দেশ। নানা দেশের পতাকা, কড়া নিরাপত্তা, দামি গাড়ির আনাগোনা হচ্ছে। আর টেলিভিশন অ্যাঙ্করদের মুখে ‘বাণিজ্য’, ‘গ্লোবাল সাউথ’ এবং ‘ভূ-রাজনীতি’র মতো শব্দ শোনা যাচ্ছে। এসবের মধ্যেই কোথাও যদি কোনও শিশু পতাকাগুলোর দিকে তাকিয়ে তার বাবাকে সহজ একটা প্রশ্ন করে, “এই সব দেশ ভারতে এসেছে কেন?” বাবা বলবেন, “BRICS-এর জন্য।” 

“BRICS কী?”

আসল প্রশ্নটা সেখান থেকেই শুরু। শব্দটা আমাদের অধিকাংশেরই পরিচিত। বছরের পর বছর শুনে আসছি। কিন্তু কেউ যদি দু’মিনিটের মধ্যে BRICS কী, সেটা বোঝাতে বলেন, তাহলে আমাদের অনেকেই হয়তো সমস্যায় পড়ব। নামটা জানি। কিন্তু এর অর্থ কী এবং এর গুরুত্ব কোথায়, তা নিয়ে আমরা অনেকটাই অনিশ্চিত। আর কোনও বিষয় কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা যদি একজন নাগরিকই না জানেন, তাহলে সেই বিষয়টি সত্যিই কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা তিনি বিচার করবেন কীভাবে?

তাই আপাতত কূটনৈতিক ভাষা একপাশে সরিয়ে রাখুন।

BRICS-এর শুরু হয়েছিল BRIC নামে—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত এবং চিন। পরে দক্ষিণ আফ্রিকা যোগ দেওয়ায় গোষ্ঠীটির নাম হয় BRICS। এরপর আরও ছ’টি দেশ—মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইন্দোনেশিয়া যোগ দেওয়ায় সদস্যসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১। এই দেশগুলিতে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ বাস করেন এবং বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে তারা। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম BRICS Summit আয়োজন করেছে ভারত। এই নিয়ে চতুর্থবার গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত।

কিন্তু শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে BRICS-কে বোঝা যায় না-

ভাবুন, একটি বিশাল আবাসনে ১১ জন প্রতিবেশী থাকেন। তাঁরা সব বিষয়ে একমত নন—ইতিহাস আলাদা, স্বার্থ আলাদা, এমনকী অনেক সময় তাঁদের চিন্তাভাবনাও একেবারে আলাদা। কিন্তু তবুও তাঁদের একসঙ্গে বসার কারণ রয়েছে। তাঁরা একে অপরের কাছ থেকে পণ্য কেনেন। তাঁদের প্রয়োজন শক্তি, খাদ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং মানুষের জন্য কর্মসংস্থান। তাঁদের সমস্যাগুলো দেশের সীমান্তে থেমে থাকে না। তাই মতপার্থক্য থাকলেও তাঁরা বুঝতে পারেন, একা দাঁড়িয়ে থাকার চেয়ে কথা বলা অনেক সময় বেশি কার্যকর।

মোটামুটি এটাই BRICS। এটি কোনও নতুন দেশ নয়। কোনও সামরিক জোটও নয়। আবার এমন কোনও সরকার নয়, যা অন্য সরকারগুলির উপরে বসে সিদ্ধান্ত নেয়। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে সদস্য দেশগুলি বাণিজ্য, অর্থনীতি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে মিলের জায়গা খোঁজে। এ বছর ভারতের সভাপতিত্বের মূল ভিত্তি চারটি ধারণা—সহনশীলতা বা প্রতিকূলতা মোকাবিলার ক্ষমতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্ব।

এবার যে প্রশ্নটা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-

লখনউয়ে সবজি কিনছেন যে মানুষ, জয়পুরে দোকান চালাচ্ছেন যিনি, বেঙ্গালুরুতে ট্যাক্সি চালাচ্ছেন যিনি, অথবা গুয়াহাটির কোনও কলেজে পড়াশোনা করছেন যে ছাত্রটি—তাঁদের সঙ্গে এসবের সম্পর্ক কী?

যতটা মনে হচ্ছে, তার চেয়েও বেশি কাছাকাছি।

কোনও ভারতীয় সংস্থা অন্য BRICS দেশে পণ্য বিক্রি করছে। কোনও সফটওয়্যার পেশাদার বিদেশে নতুন বাজার খুঁজে পাচ্ছেন। কোনও কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পৌঁছে যাচ্ছে অন্য দেশে। কোনও ছোট ব্যবসা আরও সহজে বাণিজ্যিক অর্থ সাহায্য পাচ্ছে। এগুলো শুনতে সম্মেলনকক্ষের বিষয় মনে হতে পারে, কিন্তু এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় কারখানা, খেত, দোকান এবং বাড়িতে।

ইতিমধ্যেই তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে BRICS দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১.১৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। যদিও বিশ্ব বাণিজ্যের তুলনায় এটি এখনও মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ। ভারত চাইছে, ছোট ব্যবসাগুলি যাতে এই বাণিজ্য এবং বাণিজ্যিক অর্থসাহায্যের আরও ভালো সুযোগ পায়।

BRICS গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হল, বিশ্ব আর আগের মতো একটি সরল বাজারব্যবস্থা নয়। কোথাও যুদ্ধ হলে তা অন্য জায়গায় তেলের সরবরাহে প্রভাব ফেলে। কোনও একটি দেশে ঘাটতি তৈরি হলে অন্য দেশে দাম বেড়ে যায়। অনেক দূরে নেওয়া কোনও আর্থিক সিদ্ধান্তের প্রভাব পৌঁছে যায় আমাদের কাছের মুদ্রাবাজারেও। তাই দেশগুলি আরও বেশি অংশীদার, আরও বেশি বিকল্প এবং বিশ্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়লে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার আরও বেশি পথ খুঁজছে।

এর অর্থ অবশ্য এই নয় যে BRICS-এর সদস্য দেশগুলি একাধিক বিষয়ে একমত। মোটেই নয়। রাজনৈতিক ব্যবস্থা আলাদা, অর্থনৈতিক স্বার্থ আলাদা, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কও আলাদা। বর্তমান বিশ্বের সংঘাতগুলি সেই মতপার্থক্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। আর ঠিক এই কারণেই BRICS এতটা গুরুত্বপূর্ণ। এর আসল পরীক্ষা কখনওই ছিল না যে ১১টি দেশ সব বিষয়ে একমত হতে পারবে কি না। স্পষ্টতই তা সম্ভব নয়। বরং পরীক্ষা হল, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেশগুলি কি এমন কিছু জায়গায় ঐকমত্যে পৌঁছতে পারে, যেখানে একসঙ্গে কাজ করে বাস্তবিক কোনও উপকার করা সম্ভব?

এখানে বিদেশনীতি ছাড়িয়ে আরও বড় একটি শিক্ষা রয়েছে। একটি পরিবারে সবাইকে একইভাবে ভাবতে হয় না, তবুও পরিবার একসঙ্গে থাকতে পারে। একটি দেশকে শক্তিশালী হতে হলে সবাইকে একরকম হতে হবে, এমনও নয়। কখনও কখনও পার্থক্যের সঙ্গে সহাবস্থান করেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার মধ্যেই শক্তি লুকিয়ে থাকে।

BRICS-কে বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় সম্ভবত এটাই।

এটি ১১টি দেশের এক হয়ে যাওয়া নয়। বরং ১১টি ভিন্ন দেশ একসঙ্গে ভাবছে, একসঙ্গে কাজ করলে পৃথিবীর কোনও একটি অংশকে কি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব?

ভারত মণ্ডপমে আলোচনা হচ্ছে কূটনীতিক ভর্তি বৈঠককক্ষে। কিন্তু এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে সেই ঘরের বাইরে। বাণিজ্য কি সহজ হল? কোনও ছোট ব্যবসা কি নতুন ক্রেতা পেল? কোনও ছাত্র কি নতুন সুযোগ পেল? ভারত কি তার মানুষের জন্য কোনও কার্যকর সুবিধা অর্জন করতে পারল?

এই প্রশ্নগুলিই একটি সম্মেলনকে শুধুমাত্র একটি ছবি বা আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

একজন নাগরিকের প্রতিটি কূটনৈতিক শব্দ জানা জরুরি নয়। কিন্তু ভারত কেন এই টেবিলে বসেছে, তারা কী চাইছে, ভারতের দেওয়ার মতো কী আছে এবং সেই টেবিলে নেওয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছতে পারে—সেটা একজন নাগরিকের জানা উচিত।

কারণ বিদেশনীতি আর বিদেশি থাকে না, যখন তার প্রভাব এসে পড়ে আপনার চাকরি, আপনার পণ্যের দাম, আপনার সুযোগ এবং আপনার ভবিষ্যতের উপর। সম্মেলনস্থলের বাইরে থাকা ১১টি পতাকা ১১টি ভিন্ন দেশের। কিন্তু সেই পতাকাগুলি যে বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করছে, সেই বিশ্বেই তো আমরা সবাই বাস করি।

Follow Us