Netaji Subash Chandra Bose: ‘৮০ বছর কেটে গিয়েছে…’, নেতাজির জন্মবার্ষিকীতে কাতর আর্জি কন্যা অনিতার, দাবি শুনবে সরকার?
Netaji Subash Chandra Bose' Death Mystery: কেউ বলে, তাইহোকুর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল নেতাজির, কারোর আবার বিশ্বাস, নেতাজির মৃত্যু হয়নি। গুমনামী বাবা আসলে ছিলেন নেতাজি। তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্য থাকলেও, জাপানের টোকিয়োয় রয়েছে রেনকোজি মন্দির, যেখানে নেতাজির চিতাভস্ম রাখা রয়েছে।

নয়া দিল্লি: আজ ২৩ জানুয়ারি। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) ১২৯তম জন্মবার্ষিকী। নেতাজির জন্মবার্ষিকীতে যখন দেশজুড়ে পরাক্রম দিবস পালিত হবে, সেই সময়ই সরকার ও দেশবাসীর কাছে এক বিনীত অনুরোধ জানালেন নেতাজি-কন্যা অনিতা বসু পাফ (Anita Bose Pfaff)। তাঁর আবেদন, জাপানের রেনকোজি মন্দির থেকে যেন নেতাজির চিতাভস্ম ফিরিয়ে আনা হয়।
১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট অন্তর্ধান হন নেতাজি। কেউ বলে, তাইহোকুর বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল নেতাজির, কারোর আবার বিশ্বাস, নেতাজির মৃত্যু হয়নি। গুমনামী বাবা আসলে ছিলেন নেতাজি। তাঁর মৃত্যু ঘিরে রহস্য থাকলেও, জাপানের টোকিয়োয় রয়েছে রেনকোজি মন্দির, যেখানে নেতাজির চিতাভস্ম রাখা রয়েছে। নেতাজির পরিবারের অনেকের বিশ্বাস, ওটাই হয়তো নেতাজির শেষ চিহ্ন। তাঁর কন্যা অনিতা বসু পাফ সেই চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি করলেন।
জার্মানি থেকে বসে অনিতা বসু পাফ লিখেছেন যে নেতাজি দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবনের বহু বছর নির্বাসনে কাটিয়েছিলেন, মৃত্য়ুর আট দশক পরও যদি তাঁর চিতাভস্ম বিদেশের মাটিতে থেকে যায়, তাহলে তা আরও কষ্ট দেবে নেতাজিকে। যারা নেতাজিকে ভালবাসেন, শ্রদ্ধা করেন, সেই সকল ভারতীয়দের কাছে তিনি সমর্থন চেয়েছেন যাতে জাপান থেকে নেতাজির পার্থিব দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনা হয় এবং সসম্মানে ও শ্রদ্ধার সঙ্গে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
নেতাজির অসাধারণ জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি বহু বছর উৎসর্গ করেছিলেন। কিন্তু বারবার কারাবাসের কারণে দেশে থেকে সেই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, তিনি ভারত ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ যাত্রাপথ তাঁকে নিয়ে যায় ইউরোপে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক দুঃসাহসিক অভিযানে সাবমেরিনে চেপে তিনি পৌঁছান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। সেখানে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এই পর্যায়েই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন আজাদ হিন্দ সরকারের প্রতিষ্ঠা ঘটে এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগঠিত হয়।
নেতাজির কন্যার মতে, ১৯৪৫ সালের অগস্ট মাসে জাপান আত্মসমর্পণ করে। সেই সময় নেতাজি সিঙ্গাপুর থেকে টোকিয়োর উদ্দেশে রওনা দেন, কিন্তু তাইপেইতে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। ওই দুর্ঘটনায় নেতাজি বেঁচে গেলেও, তাঁর শরীর অনেকটা পুড়ে যায়। পরে ওখানেই নেতাজির মৃত্যু হয়। তাইপেইতে নেতাজির শেষকৃত্য হয়, তাঁর চিতাভস্ম নিয়ে আসা হয় টোকিয়োর রেনিকোজিতে।
