Global Hunger Index: ক্ষুধা সূচকে ‘অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি’র প্রয়োগেই পিছিয়ে ভারত: দিল্লি

India ranks below Pakistan: ২০২০ সালে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক তৈরি হয়েছিল ১০৭ টি দেশকে নিয়ে। তার মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ৯৪ তম।

Global Hunger Index: ক্ষুধা সূচকে 'অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতি'র প্রয়োগেই পিছিয়ে ভারত: দিল্লি
বৃহস্পতিবারই প্রকাশ হয়েছে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক ২০২১। ফাইল ছবি।

নয়াদিল্লি: বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে (Global Hunger Index) ২০২১ সালে আরও নেমে গিয়েছে ভারতের স্থান। এমনকী এই তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপালও ভারতকে পিছনে ফেলে দিয়েছে। যদিও এই তালিকাকে ‘অবৈজ্ঞানিক’ বলে দাবি করল কেন্দ্র। কেন্দ্রের তরফে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্লোবাল হাঙ্গার রিপোর্ট ২০২১ অবাক করেছে। ভারতকে তালিকায় পিছনের সারিতে রাখা হয়েছে। FAO (UN’s Food and Agriculture Organization)-এর অনুমানের ভিত্তিতে এই তালিকা। বাস্তব ভিত্তি এবং যে পদ্ধতিতে এই ধরনের কাজগুলি এগোয় সে সব নজরে রেখে এই তালিকা তৈরি করা দরকার। যে সংস্থা বিশ্ব ক্ষুধা সংক্রান্ত এই রিপোর্ট প্রকাশ করছে, তাদের রিপোর্ট প্রকাশের আগে আরও বেশি করে এ বিষয়গুলি নিয়ে সচেতন হওয়া দরকার।

বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, FAO যে পদ্ধতি ধরে এগোয় তা একেবারেই অবৈজ্ঞানিক। তাদের অ্যাসেসমেন্টের ফলই প্রতিফলিত হয় এই রিপোর্টে। আর সেই নিরীক্ষণ হয় চারটি প্রশ্নের উপর ভিত্তি করে। ওপিনিয়ন পোল হয় এই ‘ফোর কোয়েশচেন’ নিয়ে। গলআপ (Gallup) এই ওপিনিয়ন পোলের আয়োজন করে টেলিফোনের মাধ্যমে। এতে কখনওই কোনও দেশের ক্ষুধা সূচক নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করে না কেন্দ্র সরকার।

কোনও দেশের সরকার যখন প্রতিটা মানুষের খাদ্যের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে সবরকম চেষ্টা করছে, সেখানে এ ধরনের রিপোর্ট সরকারকে অবহেলা করা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করছে কেন্দ্র। কোভিডকালে দেশের মানুষের খাদ্য সুরক্ষার জন্য সবরকম পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্র। জনমত নেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরদাতা দেশের সরকার বা অন্য কোনও জায়গা থেকে ‘ফুড সাপোর্ট’ পেয়েছেন কি না সে সংক্রান্তও কোনও প্রশ্ন নেই। এমনকী এই ওপিনিয়ন পোলে আদৌ ভারতের কেউ প্রতিনিধিত্ব করেছেন নাকি তা অন্য দেশের, এ নিয়েও সংশয় রয়েছে কেন্দ্রের মনে।

২০২০ সালে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক তৈরি হয়েছিল ১০৭ টি দেশকে নিয়ে। তার মধ্যে ভারতের স্থান ছিল ৯৪ তম। আর চলতি বছরে মোট ১১৬ টি দেশের মধ্যে ভারতের স্থান ১০১ তম। অর্থাৎ, পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে গত বছরের তুলনায়। এক আইরিশ ত্রাণ সরবরাহকারী সংস্থা কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইউ এবং এক জার্মান সংস্থা ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে যৌথভাবে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। ২০০০ সালে ভারতের খিদের সূচক পয়েন্ট ছিল ৩৮.৮। তারপর থেকে ক্রমে খারাপ হয়েছে। ২০১২ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তা ২৭.৫ থেকে ২৮.৮ পয়েন্টের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

বিশ্ব ক্ষুধার সূচক তৈরি করা হয় মূলত চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। অপুষ্টি একটি অন্যতম নির্ণায়ক মাপকাঠি। এর থেকে বোঝা যায় কোন দেশের ক্ষুধার সূচক কী রকম। এর পাশাপাশি যে দিকগুলি রয়েছে, তা হল পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের উচ্চতার তুলনায় কম ওজন হওয়া, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের উচ্চতা কীরকম এবং সংশ্লিষ্ট দেশে শিশু মৃত্য়ুর হার। গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে শীর্ষে রয়েছে চিন। শীর্ষ তালিকায় রয়েছে ব্রাজ়িল, কুয়েত-সহ মোট আঠারোটি দেশ। এই প্রতিটি দেশের ক্ষুধা সূচকের পয়েন্ট পাঁচের কম রয়েছে।

আরও পড়ুন: Bidhannagar: মমতা-অভিষেকের ছবি দেওয়া পোস্টার পড়ে মাটিতে, সুজিত বসুর ছেলের নামে এফআইআর

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla