China-India: দোরগোড়ায় ‘মাইটি ড্রাগন’, কোন পথে মোকাবিলা করবে ভারত?
চোখে দেখতে না পেলেও দুশমন বা তাদের ঘাঁটিকে বহুদূর থেকে মিসাইল দেগে ধ্বংস করার ক্ষমতা আছে 'মাইটি ড্রাগনের'। তবে ভারতও চিনা উস্কানির জবাব দিতে ঘর গুছাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে চিনা মনোভাবের আগাম আঁচ পেয়েই রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা নতুন এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বসানো হয়েছে নর্দার্ন ফ্রন্টিয়ারে।

ফের চিনা বেয়াদপি। ভারতের সবচেয়ে কাছে নিজেদের বায়ু সেনা ঘাঁটিতে মোতায়েন চিনা যুদ্ধবিমান। জে-২০ বা ‘মাইটি ড্রাগন’ নামে পরিচিত পঞ্চম জেনারেশনের অত্যাধুনিক চিনা যুদ্ধবিমান। লেটেস্ট স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়ল চিনের কারসাজি। জুন মাসের শেষ থেকেই এক এক করে বিমানগুলি মোতায়েন শুরু হয় ‘হোটান’ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে। ভারতের লে থেকে মাত্র ২৪৫ কিলোমিটার দূরে এই চিনা সেনা ঘাঁটি। আর ভারতীয় বায়ু সেনার দৌলত বাগ ওল্ডি এয়ার ফিল্ড থেকে দূরত্ব ৩৮৯ কিলোমিটার। আজ পর্যন্ত ভারতের এত কাছে, এত যুদ্ধবিমান কখনও মোতায়েন করেনি লাল ফৌজ। চিনের এই উস্কানি ভাবাচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রককে। কারণ, এই মুহূর্তে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে পঞ্চম জেনারেশনের কোনও অপারেশনাল যুদ্ধবিমান নেই। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি Advanced Medium Combat Aircraft বা ‘অ্যামকা’ এখনও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নয়।
আর শুধু হোটান ঘাঁটিতে নয়, আরেকটি স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা যাচ্ছে, অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং থেকে মাত্র ৩৪৪ কিলোমিটার দূরে, তিব্বতের লাসার কাছে ডামসাং এয়ার বেসেও জে-২০ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে বেজিং। সেখানেও চারটি ফিফ্থ জেনারেশনের যুদ্ধবিমান মোতায়েন। বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, এয়েরোস্পেস টেকনোলজিতে ব্যাপক বিনিয়োগের ফলে চিন এখন বছরে ১২৫টি যুদ্ধবিমান তৈরি করতে সক্ষম। তারই প্রতিফলন হিসাবে LAC-র এত কাছে এতগুলো বিমান মোতায়েন করে হুঙ্কার দিতে চাইছে লাল ড্রাগন। তবে ভারতকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে ৩৬টি রাফাল ও ২৬০-টি সুখোই-30MKI নিয়ে তৈরি শক্তিশালী এয়ার ব্রিগেড।

কেন জে-২০ বিমানকে চিনা বায়ুসেনা শক্তিশালী ড্রাগন বলে ডাকে?
- দীর্ঘক্ষণ আকাশে উড়ে বহুদূরে হামলায় পারদর্শী
- শত্রুর নজরদারি এড়াতে বিশেষ নকশা ও প্রযুক্তি
- সাধারণ বিমানের চেয়ে আকাশে শনাক্ত করা কঠিন
- উন্নত সেন্সর ও রেডার আশেপাশের তথ্যকে অবিরাম বিশ্লেষণ করে
- পাইলটের সামনে যুদ্ধের এক পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরে
২০৩০-এর মধ্যে চিনের হাতে কমপক্ষে ১০০০ জে-২০ বিমান চলে আসবে। ফার্স্ট লুক, ফার্স্ট শট। মানে, শত্রুকে দেখতে পেলেই গুলি করার নীতি মেনে তৈরি এই বিমান। চোখে দেখতে না পেলেও দুশমন বা তাদের ঘাঁটিকে বহুদূর থেকে মিসাইল দেগে ধ্বংস করার ক্ষমতা আছে ‘মাইটি ড্রাগনের’। তবে ভারতও চিনা উস্কানির জবাব দিতে ঘর গুছাচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রে চিনা মনোভাবের আগাম আঁচ পেয়েই রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা নতুন এস-৪০০ মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বসানো হয়েছে নর্দার্ন ফ্রন্টিয়ারে। দূর থেকে চিনা স্টেলথ বিমানকে সনাক্ত করতে পারবে এস-৪০০-এর রেডার। সঙ্গে বারাক ৮ ও আকাশ মিসাইল নিয়ে তৈরি মাল্টি লেয়ার এয়ার ডিফেস সিস্টেম।
যুদ্ধ শুরু হলে ভারত কীভাবে মাইটি ড্রাগনের মোকাবিলা করবে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
- যুদ্ধে চিনা জে-২০ রাফাল-কে নাস্তানাবুদ করতে পারবে না
- চিনা বিমানের সঙ্গে ইলেক্ট্রনিক ওয়ার-ফেয়ারেও প্রস্তুত রাফাল
- জে-২০-র হিট সিগনেচার ধরে ফেলে পাল্টা হামলা চালাবে সুখোই-ও
- ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য চিনের হোটান বায়ুসেনা ঘাঁটি অসুরক্ষিত
- যুদ্ধ শুরু হলে আকাশে নয়, ভারত হামলা করবে সোজা হোটান ঘাঁটিতে
- বায়ুসেনার ব্রহ্মস ও প্রলয় মিসাইল ওড়ার আগেই নষ্ট করে দেবে জে-২০-কে
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সমুদ্র থেকে ৪৬০০ ফুট উপরে চিনের হোটান ঘাঁটি থেকে জে-২০-র মতো যুদ্ধবিমান ওড়াতে ও নামাতে যথেষ্ট বেকায়দায় পড়তে হবে লাল ফৌজকে। ওই উচ্চতায় পাহাড়ি এলাকায় বায়ুস্তর হালকা হয়। তাই পে-লোড নিয়ে বা পুরো জ্বালানি ভরে জে-২০ বিমান উড়তেই পারবে না। তুলনায় ভারতের হাসিমারা বা আম্বালা সেনা ঘাঁটি থেকে রাফাল বা সুখোই অনেক দ্রুত ও পুরো সক্ষমতায় পাল্টা হামলা চালাতে পারবে। আর জে-২০ বিমান যুদ্ধে আদতে কতটা পারদর্শী তাও পরীক্ষিত নয়। তবে যদি চিন জে-২০ ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে, তাহলে ভারতও তৈরি তার ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ব্রহ্মস মিসাইল নিয়ে। সঙ্গে চিনের জোড়া ঘাঁটিতে প্রলয় ডেকে আনবে ভারতের প্রলয় মিসাইল।
