INS Arisudhan: সমুদ্রের নীচে ‘অদৃশ্য প্রহরী’! ২০২৬-এ বড় পরীক্ষা INS Arisudhan-এর, ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতায় নয়া পালক
INS Arisudhan nuclear submarine: অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও INS Arisudhan নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাবমেরিনটি K-15 ‘সাগরিকা’ সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল বা SLBM বহনের সক্ষমতা থাকতে পারে। সর্বোচ্চ ২৪টি K-15 অথবা ৮টি K-4 SLBM বহনের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে এই নির্দিষ্ট অস্ত্রবিন্যাস সম্পর্কে সরকারি ভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নয়া দিল্লি: চলতি বছরই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি পারমাণবিক সাবমেরিন INS Aridhaman-এর উদ্বোধন করেছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এবার ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে শক্তি আরও বাড়াতে আরও একটি পারমাণবিক সাবমেরিন যুক্ত হতে চলেছে নৌবাহিনীতে। এর আগে ভারত পেয়েছে INS Arihant (২০১৬) এবং INS Arighaat ও INS Aridhaman। এবার আসতে চলেছে অরিহন্ত শ্রেণির চতুর্থ ও শেষ পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন INS Arisudhan। জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষের মধ্যে সমুদ্র পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করবে এই সাবমেরিন।
প্রায় ৭ হাজার টন ডিসপ্লেসমেন্টের এই সাবমেরিনকে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক সাবমেরিন কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকাশ্যে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই সাবমেরিনে ৮০ শতাংশের বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ, পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ক্রমশ আরও পরিণত হচ্ছে।
পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন
INS Arisudhan-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল পারমাণবিক শক্তি ব্যবস্থা। জানা গিয়েছে, প্রায় ৮৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কমপ্যাক্ট লাইট-ওয়াটার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পারমাণবিক শক্তিচালিত হওয়ায় এই ধরনের সাবমেরিন দীর্ঘ সময় সমুদ্রের নীচে অবস্থান করতে পারে এবং প্রচলিত ডিজ়েল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি অপারেশনের জন্য বেশি উপযোগী।
মিসাইল বহনের সক্ষমতা
অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও INS Arisudhan নিয়ে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সাবমেরিনটি K-15 ‘সাগরিকা’ সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল বা SLBM বহনের সক্ষমতা থাকতে পারে। সর্বোচ্চ ২৪টি K-15 অথবা ৮টি K-4 SLBM বহনের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। তবে এই নির্দিষ্ট অস্ত্রবিন্যাস সম্পর্কে সরকারি ভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
K-15 অপেক্ষাকৃত স্বল্প পাল্লার সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইল, অন্যদিকে K-4 অনেক বেশি পাল্লার মিসাইল হিসেবে পরিচিত। ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের সাবমেরিন ভারতের সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও কার্যকর করতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ অরিহন্ত শ্রেণি?
ভারতের নিউক্লিয়ার ট্রায়াডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা। স্থল ও আকাশপথের পাশাপাশি সমুদ্রের গভীরে লুকিয়ে থাকা পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা একটি দেশের কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।
সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘ সময় গোপনে অবস্থান করার কারণে SSBN-কে এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হয়, যাকে প্রতিপক্ষের পক্ষে শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। সেই কারণেই ভারতের অরিহন্ত শ্রেণির সাবমেরিন কর্মসূচিকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হয়।
২০২৬-এর সমুদ্র পরীক্ষার দিকে নজর
বর্তমানে INS Arisudhan-এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল সমুদ্র পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সাবমেরিনের প্রপালশন ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ, সেন্সর, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অপারেশনাল সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
২০২৬ সালের শেষের মধ্যে এই পরীক্ষা সম্পূর্ণ হলে ভারতের দেশীয় SSBN কর্মসূচিতে তা একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও উন্নত পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
