Abhijit Dipke: ‘আমাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিন’, দিল্লির বাড়িতে পুলিশ পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিজিৎ দীপকে
CJP Tiranga Yatra: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। সাধারণ মানুষ এবং দলের সমর্থকদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।

নয়া দিল্লি: জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke)। তবে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’-র আগেই তাঁর বাড়িতে পৌঁছে গেল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। শুক্রবারের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার বার্তা দেওয়া হল তাঁকে। পুলিশের তরফে নোটিসও ধরানো হয় সিজেপি প্রতিষ্ঠাতাকে। আর সেই নোটিসের বক্তব্য পড়েই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিজিৎ। পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। এমনকী, তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায়।
কেন তিরঙ্গা যাত্রার ডাক?
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে জাতীয় পতাকা হাতে জমায়েতের আহ্বান জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। সাধারণ মানুষ এবং দলের সমর্থকদের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
শুধু ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগই নয়, দলের দুই সদস্য সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার গ্রেফতারিও এই আন্দোলনের অন্যতম কারণ। গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর-মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন তাঁরা। তার আগের দিনই যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে বাতিল করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে প্রবেশের অভিযোগে দুই সিজেপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশি নোটিস দেখে ক্ষুব্ধ অভিজিৎ
বৃহস্পতিবারই দিল্লি পুলিশের তরফে সিজেপিকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে ১১ জনের একটি দলকে। তবে, আজ তিরঙ্গা যাত্রার ঠিক আগে অভিজিৎ দীপকের দিল্লির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। তাঁকে একটি নোটিস দেওয়া হয়। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়োও সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কাঁধে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে সোফায় বসে রয়েছেন অভিজিৎ। সামনে কাচের টেবিলে রাখা একগুচ্ছ কাগজ। পুলিশের দেওয়া নোটিস পড়তে পড়তেই প্রশ্ন তুলছেন তিনি।
নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বেআইনিভাবে উস্কানি দিয়ে চলেছেন অভিজিৎ। সেই অভিযোগ শুনেই মেজাজ হারান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। পুলিশকে প্রশ্ন করেন, “আমার বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ এনেছেন ? এটা কী ধরনের মশকরা হচ্ছে? এটা নোটিস? যা ইচ্ছা তাই লিখে দিচ্ছেন আপনারা!”
এখানেই থামেননি তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিন না! এসব কী মশকরা হচ্ছে?” একই সঙ্গে পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানান, তিনি হিংসায় উস্কানি দিয়েছেন, এমন একটি ভিডিয়োও দেখাতে পারবে না পুলিশ।
কী জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ?
অভিজিৎকে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনও অপরাধ নয়। তবে অনুমতি ছাড়া মিছিল করা কিংবা ভিড় জমিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় ফ্ল্যাগ কোড মেনে চলার কথাও জানানো হয়েছে তাঁকে।
পুলিশ জানিয়েছে, কনট প্লেস এবং সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ফলে সেখানে বড় জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তবে নির্দিষ্ট কোনও উপযুক্ত জায়গায় সর্বোচ্চ ১১ জনের একটি দলকে জাতীয় পতাকা হাতে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল বা NDMC জানিয়েছে, প্রশাসনিক কারণে শুক্রবার এবং শনিবার সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ থাকবে সেন্ট্রাল পার্ক।
