
কো-মর্বিডিটির শংসাপত্র না থাকলেও এ বার ৪৫ উর্ধ্ব সকলেই নিতে পারবেন করোনার টিকা। গত ২৩ মার্চ এমনটা জানিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এ দিন সেই মতো শুরু হল টিকাকরণ। অন্যদিনে, দেশে ৭০ হাজারের গণ্ডি পার করল দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ হাজার ৩৩০ জন। বুধবার দেশে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। একদিনেই সেই সংখ্যাটিই ১৯ হাজার বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ হাজারের গণ্ডি পার করল। চলতি বছরে করোনা সংক্রমণের কারণে সর্বোচ্চ মৃত্যুও হয়েছে গতকালই। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪৫৯ জনের।এই নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ৬৬৫-এ পৌঁছল। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৯২৭-এ। বর্তমানে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৮৪ হাজার ৫৫। এ দিন থেকে দেশে তৃতীয় দফার গণটিকাকরণও শুরু হচ্ছে। ৪৫ উর্ধ্ব সকলেই এই দফায় টিকা নিতে পারবেন। করোনার যাবতীয় আপডেট দেখে নিন একনজরে-
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যে বেশি ভয়াবহ সেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞরা আগেই করেছিলেন। এ বার হাতেনাতে সেটাই সত্যি হতে দেখা গেল মহারাষ্ট্রে। বৃহস্পতিবার মারাঠাভূমে নতুন করে ৪৩ হাজার ১৮৩ জন কোভিড পজিটিভ ধরা পড়েছে। অতিমারির সূচনার সময় থেকে দৈনিক আক্রান্তের নিরিখে এটাই সর্বাধিক। ভয় বাড়িয়ে একদিন মৃত্যু হয়েছে ২৪৯ জনের।
তৃতীয় দফার কোভিড টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হয়ে গেল সারা দেশে। এই দফায় কো-মর্বিডিটির শংসাপত্র ছাড়াই ৪৫ বছরের বেশি বয়সী সকলেই টিকাকরণের সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে মার্চের ২৩ তারিখই অবশ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল এই সিদ্ধান্ত। বৃহস্পতিবার কেন্দ্র জানিয়েছে, এপ্রিলের সব দিনই প্রতিষেধক দেওয়া হবে। এমনকী সরকারি ছুটির দিনও বাদ যাবে না। তৃতীয় দফায় এপ্রিলের সব দিন টিকাকরণ হবে গোটা দেশে।
করোনা আক্রান্ত মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের স্ত্রী, রশ্মি ঠাকরে। গত ২৩ মার্চ করোনা আক্রান্ত হন তিনি, মঙ্গলবার এইচএন রিলায়েন্স হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভর্তি করার পরই উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার প্রধানমন্ত্রী ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে। ফোন করে রশ্মির স্বাস্থ্যের বিষয়ে খোঁজ নেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চই তিনি করোনা টিকা নিয়েছিলেন।
করোনা রোগীর সৎকারের দায় নেবে না পুণে পুরসভা। এ দিন পুরসভার তরফে জানানো হয়, যদি কোনও করোনা রোগীর বাড়িতে মৃত্যু হয়, তবে পরিবারের লোকজনকেই দেহ সৎকারের দায়িত্ব নিতে হবে। ওয়ার্ড অফিসার কেবল একটি বডি ব্যাগ ও চারটি পিপিই কিট দেবে পরিবারের লোকজনকে। দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যাওয়ার আগে পরিবারের চার সদস্য সেই পিপিই কিট পরেই দেহ সৎকার করবেন। একইসঙ্গে পুণে পুরসভার ওয়েবসাইটে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ, ইন্সুয়েরেন্স ফর্ম সহ মেডিক্যাল সার্টিফিকেট আপলোড করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মৃত ব্যক্তি ও পরিবারে যে সদস্যরা সৎকার করতে যাচ্ছেন, তাঁদের আধার কার্ডও জমা দিতে হবে।
করোনা আক্রান্ত হলেন বিখ্যাত গায়ক বাপ্পি লাহিড়ি। তাঁকে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাপ্পি লাহিড়ির পরিবার এবং মুখপত্রের তরফে এক লিখিত বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, “সব রকম সাবধানতা নেওয়া সত্ত্বেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাপ্পি লাহিড়ি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে পেশাদারদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। দাদার পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হচ্ছে, যাঁরা সদ্য বাপ্পিদার সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁরা সাবধান হোন, দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নিন।”
বিস্তারিত পড়ুন: করোনা আক্রান্ত বাপ্পি লাহিড়ি, ভর্তি হাসপাতালে
রোহতকের পোস্ট গ্রাজুয়েট ইন্সটিটিউট অব মেডিক্য়াল সায়েন্সের প্রসূতি বিভাগের ২২ জন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হলেন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক পুষ্পা দহিয়া জানান, বিগত ১৪ দিনের মধ্যেই তাঁরা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত চিকিৎসকদের মধ্যে ১৪জন সম্প্রতি করোনা টিকাও নিয়েছিলেন।
তৃতীয় দফার টিকাকরণ শুরু হতেই এ দিন সকালে টিকা নিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পিযুষ গোয়েল। বৃহস্পতিবার তিনি দিল্লির এইমস হাসপাতালে করোনা টিকার প্রথম ডোজ় নেন।
আজ থেকে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার টিকাকরণ। ৪৫ উর্ধ্ব সকলেই করোনা টিকা নিতে পারবেন এই দফায়। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে টিকা নিতে লম্বা লাইন দেখা যায়।
উত্তর প্রদেশের ৪০ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মীই নিলেন না করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ়। সে রাজ্যের উপ স্বাস্থ্য সচিব অমিত মোহন জানান, প্রায় ৮ লাখ ৯০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী প্রথম দফার করোনা টিকা নিয়েছিলেন। কিন্তু ২৮দিন পর দ্বিতীয় ডোজ় নিয়েছেন কেবল ৩ লাখ ৫ হাজার কর্মী। একইভাবে ৭ লাখ ৫৯ হাজার প্রথম সারির করোনা যোদ্ধা প্রথথ ডোজ় নিলেও দ্বিতীয় ডোজ় নিয়েছেন মাত্র ৩ লাখ ৫০ হাজার। অর্থাৎ ৪৬ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মীরাই করোনার দ্বিতীয় ডোজ় নেননি।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে নাজেহাল মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৭২ হাজারেরও মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ৩৯ হাজার ৫৪৪ জনই মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে নৈশ কার্ফু জারি হয়েছে। সংক্রমণ রুখতে বিভিন্ন বিধিনিষেধও আরোপ করা হয়েছে।